চেয়ারে বসে সম্পাদককে হোয়াটসঅ্যাপ করলাম, গোশত-নেহারি আর রুটি আনান মিয়া, দুপুরে লাঞ্চ খাব।
এইসময়ে টুক করে আরেকটা টেক্সট আসলো, পত্রিকার মালিকদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে দুপুরে বসবেন। আপনের দাওয়াত।
এইবার আর টেক্সট করলাম না। সম্পাদককে ফোন দিয়ে ডাকলাম। রুমে আসার পরে বললাম, দুইটা পয়েন্ট। লাঞ্চটা আনাইয়েন না। আর প্রধানমন্ত্রীর সাথে লাঞ্চ করতে যাইতেছি। বুঝতে পারতেছেন আপনার পত্রিকায় হেডলাইন কী হবে?
সম্পাদক বলল, জি ভাই, বুঝতে পারছি ভাই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতে গিয়ে খুব ভালো লাগল! কী মজার মজার সব খাবার। জুঁই ফুলের মতো সাদা ভাত। সাথে ঢেঁড়স ভাজি। পিচ্ছিল অন্ন সুড়ুৎ করে গলা দিয়ে নেমে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বললাম, আপনার মেন্যু সিলেকশন চমৎকার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাথা নাড়লেন।
সেকেন্ড কোর্সে লাউ দিয়ে ছোটো চিংড়ি। আহ! ছোটোবেলায় ফিরে গেলাম। ক্যাম্পাস থেকে ছুটি পেয়ে যখন বাড়ি ফিরতাম, মা আমার জন্য রাঁধতেন। মেমোরি লেনে হাঁটার মতো ব্যাপার! গলা বুঁজে এলো। কোনোমতে বিড়বিড় করে বললাম, ধন্যবাদ মাননীয়... ধন্যবাদ!
এবার মেইন কোর্স। ডিমের ঝোল! ঝোল মাখিয়ে ভাত খেলাম, ডিম কামড়ে ভাত খেলাম, লাউ-চিংড়ি আর ডিম মাখিয়ে খেলাম। কত আর খাওয়া যায়... খেতে খেতে হাঁপিয়ে উঠে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দুবার গিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে এলাম।
খাওয়া শেষে আবার মিটিং। একেকজন পত্রিকার মালিক খেয়েদেয়ে নড়তে পারছেন না। আমিও না। সবাই চাপা ঢেঁকুর তুলছেন। পয়সা থাকলেই সবাই সভ্য হয়ে যায় না। কই, আমি তো তুলছি না। বাথরুমে গিয়ে কয়েকটা ঢেঁকুর তুলে এসেছি।
মিটিং যখন শেষের দিকে, পিরিচে করে এল দই। সবার মাঝে ফিসফাস। আমি দাঁড়িয়ে বললাম, এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি, মাননীয়। এত খাবার পর, দই খাওয়ার আর জায়গা কই? আগে জানলে আমরা ডিমটা খেতাম না। দই খাওয়ার জায়গা রাখতাম।
মাননীয় যথারীতি কিছু বললেন না। মুচকি হাসলেন।
মিটিং শেষ হলো। অফিসে আসলাম। সম্পাদককে একটা হোয়াটসঅ্যাপ করলাম, নিহারি-গোশত আর গার্লিক নানের অর্ডারটা আবার নতুন করে করতে পারবেন?



পাঠকের মন্তব্য