সারাদেশে হঠাৎ করেই বিয়ের প্যান্ডেল, ওয়াজ মাহফিল ও রাজনৈতিক সমাবেশের সামিয়ানা তৈরির কাপড়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে হালকা আকাশি ও সাদা রঙের স্ট্রাইপ বা ডোরাকাটা সব ধরনের কাপড়। ডেকোরেশন ব্যবসায়ী ও পাইকাররা কাপড়ের এই আচমকা নিখোঁজ সংবাদে চরম বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আজ সকালে রাজধানীর সদরঘাট এবং ইসলামপুরের কাপড়ের আড়তগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা কপালে হাত দিয়ে বসে আছেন। পুরান ঢাকার একজন প্রবীণ ডেকোরেশন ব্যবসায়ী আক্কাস আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
বুঝতে পারছি না দেশে কী হচ্ছে! সামনে বিয়ের সিজন, অথচ মণ্ডপ সাজানোর জন্য এক গজ আকাশি-সাদা কাপড়ও পাচ্ছি না। কাপড়ের খোঁজে টেক্সটাইল মিলগুলোতে ফোন দিলে ওনারা বলছেন, আগামী এক মাস বুকিং ফুল! কিন্তু কারা এই কাপড় কিনছে, কিছুই মাথায় ঢুকছে না।
রহস্যের জট খুলতে আমাদের অনুসন্ধান টিম মাঠে নামে। দেশের বিভিন্ন টেক্সটাইল মিল ও দর্জি পাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এক অবিশ্বাস্য তথ্য। কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কারণে নয়, বরং আজ থেকে শুরু হওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ-কে কেন্দ্র করেই এই কাপড়ের বাজারে ধস নেমেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামপুরের এক বড় কাপড় ব্যবসায়ী আসল সত্য ফাঁস করেন। তিনি জানান:
ভাই, ব্যবসায়ীরা সব বোঝে, কিন্তু মুখে স্বীকার করে না। আসলে প্যান্ডেল বানানোর কাপড় সব কিনে নিয়ে গেছে আর্জেন্টিনার ফ্যানরা! এক একজন এসে ৩০০ হাত, ৫০০ হাত, এমনকি আস্ত এক কিলোমিটার লম্বা পতাকা বানানোর অর্ডার দিচ্ছে। যে কাপড় দিয়ে আগে বিয়ের প্যান্ডেল হতো, সেই একই সুতা আর রঙের কাপড় এখন চলে যাচ্ছে ছাদে, গাছের মাথায় আর ইলেকট্রিক খুঁটিতে।
আর্জেন্টিনা ফ্যানদের সাথে কথা বললে তারা অবশ্য এই সংকটকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। মিরপুরের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের প্রধান জানান:
ডিজাইনে মিল আছে দেখেই তো সুবিধা! কাপড়ের দোকানদারকে গিয়ে শুধু বলতে হয়,'ভাই, ৫ রোল প্যান্ডেলের কাপড় দেন। ব্যস, মাঝখানে একটা সূর্যের লোগো বসিয়ে দিলেই আমাদের বিশ্বজয়ের পতাকা রেডি। কাপড়টা হালকা হওয়ায় বাতাসে ওড়ে ভালো, আবার দামেও সস্তা। পুরো এলাকাকে আর্জেন্টিনার প্যান্ডেল বানিয়ে ফেলার জন্য এর চেয়ে ভালো কাপড় আর কী হতে পারে?
এদিকে, হুট করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে আকাশি-সাদা কাপড়ের দাম গজ প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে। ডেকোরেশন মালিক সমিতি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এভাবে প্যান্ডেলের কাপড় দিয়ে ফুটবলের উন্মাদনা চলতে থাকলে আগামী এক মাস দেশে যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা প্যান্ডেল করার খরচ দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
তবে ফ্যানদের সাফ কথা, আগে বিশ্বকাপ, তারপর বিয়ে-শাদী!


