কাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুমে ছেলেমেয়েদের মাঝে থাকবে কালো পর্দা

১৪২ পঠিত ... ১৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও দৃষ্টি আদান-প্রদান রুখতে অবশেষে এক যুগান্তকারী ও বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজে পেয়েছে কাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এখন থেকে প্রতিটি ক্লাসরুমের ঠিক মাঝখান দিয়ে টাঙিয়ে দেওয়া হবে ঘন কালো রঙের পর্দা।

প্রশাসনের এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (পর্দা ও সীমানাবিষয়ক) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, ছেলে ও মেয়েরা একই ক্লাসরুমে বসলে পড়ালেখার চেয়ে চোখের দেখাদেখি বেশি হয়। এই দৃষ্টিই হলো সকল মনোযোগ ভঙ্গের মূল কারণ। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মাঝখানে একটা মোটা কালো কাপড় ঝুলিয়ে দেব। এতে শিক্ষা অর্জনের আলো দ্বিগুণ গতিতে ছড়াবে, কারণ আলো তো অন্ধকারের পরেই ভালো ফুটে ওঠে!

পর্দা টানানোর এই মহতী উদ্যোগের খবরের পর ক্যাম্পাসে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

পর্দার ছেলে পাশের এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ভাই, দারুণ হইছে! আগে পেছনের বেঞ্চে বসে সামনের বেঞ্চের মেয়েদের দিকে তাকাতে গিয়ে শিক্ষকের লেকচার মিস করতাম। এখন সামনে শুধুই কুচকুচে কালো পর্দা। মনোযোগ দেওয়ার আর কোনো দ্বিতীয় বিকল্পই নাই! তবে একটাই চিন্তা, সিআর যখন নোটিশ দেবে, তখন পর্দা নিচ দিয়ে চিরকুট পাঠাতে হবে নাকি রশি বেঁধে ওপারে পাঠাব?

অন্যদিকে, মেয়ে পাশের এক শিক্ষার্থী কিছুটা চিন্তিত কণ্ঠে বলেন, সিদ্ধান্তটা ভালো, তবে সস্তা কাপড়ের পর্দা হলে কিন্তু লাইট রিফ্লেক্ট করে ওপাশের ছায়া দেখা যেতে পারে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে ক্লাসরুমে সাউন্ডপ্রুফ ব্ল্যাকআউট সাটিন পর্দা দেওয়া হোক, যেন ওপাশ থেকে কারো হাঁচির শব্দও এপাশে না আসে!

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এই উদ্যোগের মধ্যে এক বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। তাদের মতে, পর্দার দুই পাশে দুটি বড় ডিজিটাল মনিটর ও ওয়াকিটকি বসিয়ে দিলে পর্দার ওপারে কী হচ্ছে তা সহজেই মনিটর করা সম্ভব হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থকমিটি ইতিমধ্যেই পর্দা ক্রয় ও রড স্থাপন প্রকল্প-এর জন্য কয়েক কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে। প্রক্টর সাহেব আশ্বস্ত করে বলেছেন, শুধু ক্লাসরুম কেন, লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া এবং সামনের ফুচকার দোকানগুলোতেও অতি দ্রুত এই ব্ল্যাক মেথডology প্রয়োগ করা হবে। প্রয়োজনে করিডোরে চলাচলের জন্য ছেলে ও মেয়েদের আলাদা আলাদা এয়ার-কন্ডিশন্ড চ্যানেল বানিয়ে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ভাবাপন্ন এক প্রবীণ অধ্যাপক অবশ্য বিষণ্ণ মুখে মন্তব্য করেছেন, যেখানে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর কথা ছিল, সেখানে কাপড় ঝুলিয়ে অন্ধকার বাড়ানো হচ্ছে। তবে যাই হোক, এটলিস্ট দেশের বস্ত্র শিল্পে যে এক বিশাল বিপ্লব আসতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই!

১৪২ পঠিত ... ১৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে

Top