২০ সেপ্টেম্বর লকডাউন ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন, লকডাউন কি সত্যিই লকডাউন হবে, নাকি রাতের আঁধারে আবারও কোনো নাশকতামূলক কর্মসূচি নিয়ে হাজির হবে তারা? তবে শেষ পর্যন্ত দেশবাসীকে হতাশ করে আওয়ামী লীগ এবার নাশকতার মাঠে নামেনি। বরং দলের লকডাউন কর্মসূচি এমন আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে যে, ঢাকার পরিবর্তে কলকাতা ও দিল্লিতে একযোগে পালিত হচ্ছে এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি।
বিশেষ করে দিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো এলাকা এবং কলকাতার নিউটাউনে লকডাউনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। কাকতালীয়ভাবে, এসব এলাকায় আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর নীরবতা বিরাজ করছে। সবাই অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে লকডাউন পালন করছেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ঢাকায় লকডাউন হলে মানুষ চিন্তায় থাকে, কখন কী হয়! কিন্তু এখানে ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। সবাই যার যার অবস্থান থেকে লকডাউন পালন করছেন। এদিকে ভিনদেশে বসে লকডাউন করার অনুভূতি জানতে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বেশ অভিমানী কণ্ঠে বলেন, কিচ্ছু বলব না। একটা কথাও বলব না। পরে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হলে অবশেষে তিনি বলেন, She has gave us the chance to do lockdown in foreign land.
তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ইংরেজি ব্যাকরণের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের ভেতরের একটি অংশ এই কর্মসূচিকে কোনোভাবেই ‘ভিনদেশে লকডাউন’ বলতে রাজি নয়। তাদের যুক্তি, ভারত তো তাদের কাছে ভিনদেশ নয়। ফলে কলকাতা ও দিল্লিতে লকডাউনকে তারা বরং ‘নিজেদের দেশে অবস্থান করে আন্তর্জাতিক মানের লকডাউন’ হিসেবে অভিহিত করতে চান। দলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারত যদি ভিনদেশ হয়, তাহলে নিজের দেশ কোনটা? আপনারা চীনদেশকে ভিনদেশ বলতে পারেন, ভারত আমাদের দেশ।
এদিকে ঢাকার মানুষ এই লকডাউন নিয়ে বেশ স্বস্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। কারণ, রাজধানীতে লকডাউন হলেও এখন পর্যন্ত কোনো রাস্তা বন্ধ হয়নি, কোনো গাড়ি থামেনি, এমনকি কারও অফিসে যাওয়ার পথেও বিশেষ কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। একজন ঢাকাবাসী বললেন, এমন লকডাউন জীবনে দেখিনি। যারা লকডাউন দিয়েছে, তারাই দেশে নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের এবারের কর্মসূচি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে তাদের ফলো করে হয়তো অন্যান্য দলগুলো আর নিজ দেশে লকডাউন ঘোষণা করবে না। সরাসরি বিদেশে গিয়ে লকডাউন এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।


