আজ বিশ্ব নাপিত বা বারবার দিবস! কথায় আছে, ছেলেদের প্রেমিকা চলে গেলেও সমস্যা নাই, কিন্তু প্রিয় নাপিত চলে গেলে তারা শেষ! নাপিত নিয়ে জোকসেরও কোনো অভাব নেই! ছোট থেকে বড় হতে হতে আমরা এসব জোকস বারবার, হাজারবার শুনেছি! তবুও আরেকবার পড়ে ফেলুন!
১
কম চুলের এক লোক গেল নাপিতের কাছে।
নাপিত: ১০০ টাকা লাগবে চুল কাটতে।
লোক: সেকি! সবার কাছ থেকে তো ৫০ নিচ্ছেন…
নাপিত: বাকি সবার তো চুল খুঁজে বের করার টাকা হিসাব করি না!
২
নাপিতের দোকানে এক ছোট বাচ্চা ঢুকতেই নাপিত পাশের কাস্টমারকে ফিসফিস করে বলল, দেখেন, এই ছেলেটা শহরের সবচেয়ে বলদ বাচ্চা। প্রমাণ দিচ্ছি!
নাপিত এক হাতে ৫০ টাকার একটা নোট আর অন্য হাতে ২০ টাকার একটা নোট নিয়ে বাচ্চার সামনে ধরে বলল, কোনটা নিবি রে খোকন?
বাচ্চাটা ২০ টাকার নোটটা তুলে নিয়ে চলে গেল।
কাস্টমার দোকান থেকে বের হয়ে বাচ্চাটাকে রাস্তায় দেখে জিজ্ঞেস করল, তুমি ৫০ টাকার নোটটা না নিয়ে ২০ টাকার নোটটা নিলে কেন?
বাচ্চাটা হেসে বলল, আরে চাচা, যেদিন আমি ৫০ টাকার নোটটা তুলে নেব, সেদিন থেকেই তো খেলাটা বন্ধ হয়ে যাবে!
৩
হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের চুল কাটছে নাপিত। কাটতে কাটতে নাপিত বলল,
স্যার, নির্বাচন কবে দেবেন?
এরশাদ বিরক্ত হয়ে বললেন,
তোমার এখানে আসলেই তুমি নির্বাচনের কথা জিজ্ঞেস করো কেন? তুমি কি নির্বাচনে দাঁড়াবা?
নাপিত কাচুমাচু হয়ে বলল, না স্যার, এমন কিছু না। নির্বাচনের কথা বললে আপনার চুলগুলো খাড়া হয়ে যায়। আমার কাটতে সুবিধা হয়।
৪
একজন শিক্ষক গেছেন নাপিতের দোকানে চুল কাটাতে। চুল কাটা শেষে নাপিত বললেন,
নাপিত: আপনি একটি মহৎ পেশায় নিয়োজিত। আপনার কাছ থেকে আমি টাকা নেব না, স্যার।
শিক্ষক খুব খুশি হলেন। পরদিন সকালে নাপিত দোকানে এসে দেখেন, দোকানের সামনে শিক্ষক এক ডজন বই রেখে গেছেন।
সেদিন চুল কাটাতে এলো এক পুলিশ। চুল কাটা শেষে নাপিত বললেন,
নাপিত: আপনি জনগণের সেবক। আপনার কাছ থেকে কী করে টাকা নিই?
পুলিশ খুশি হয়ে পরদিন নাপিতের দোকানের সামনে এক ডজন কমলা রেখে গেলেন।
এরপর একদিন নাপিতের দোকানে এলেন এক উকিল। নাপিত উকিলের কাছেও টাকা নিলেন না। বললেন,
নাপিত: আপনি ন্যায়ের জন্য লড়াই করেন। আপনার কাছে আমি টাকা নেব না, স্যার।
পরদিন দেখা গেল, এক ডজন উকিল নাপিতের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে!
৫
এক লোক গালের ভাঁজের কারণে শেভ করাতে নাপিতের দোকানে সমস্যায় পড়ল। নাপিত তার ড্রয়ার থেকে একটা ছোট কাঠের মার্বেল বল বের করে লোকটার মুখের ভেতর ঢুকিয়ে বলল, এটা গালের পাশে চেপে ধরুন। চামড়া টানটান হলে শেভ করতে সুবিধা হবে।
শেভ করার মাঝপথে লোকটা ভয় পেয়ে বলল, ভাই, ভুল করে বলটা গিলে ফেললে কী হবে?
নাপিত হেসেই বলল, আরে স্যার, কোনো চিন্তা নেই! কাল সকালে ফেরত দিলেই হবে। কালকের কাস্টমারও গিলে ফেলে আজ সকালেই ফেরত দিয়ে গেছে!
৬
এক লোক তার ৫ বছরের ছেলেকে নিয়ে নাপিতের দোকানে গেল। নাপিত প্রথমে বাবার চুল কাটল, তারপর ছেলের চুল কেটে দিল।
নাপিত: মোট ২০০ টাকা, স্যার।
লোক: এই নাও ১০০ টাকা। আমি একটু পাশের দোকান থেকে সিগারেট কিনে আসছি। ছেলেটা বসুক।
ঘণ্টা পেরিয়ে গেল, লোকটা আর ফেরে না।
নাপিত (বাচ্চাকে): তোর বাবা কই গেল বল তো?
বাচ্চা: আরে চাচা, উনি তো আমার বাবাই না! রাস্তায় আমার সঙ্গে দেখা হলো। উনি বললেন, চল খোকা, আজকে ফ্রিতে চুল কেটে আসি!
৭
এক লোক নাপিতের দোকানে গেল।
নাপিত: আজ আপনার চুল কীভাবে কেটে দেব?
লোক: দেখুন, আমি চাই এই পাশটা একদম টাক হবে। সঙ্গে এখানে দুই জায়গায় চুল পুরো গায়েব থাকবে। ওই পাশের চুল ছেঁটে ছোট করে কাটবেন, আর মাঝখানে আপনার যেমন ইচ্ছা তেমন করবেন।
নাপিত: দুঃখিত স্যার, কিন্তু আমার মনে হয় এভাবে কাটাটা খুব কঠিন হয়ে যাবে।
লোক: তাহলে গত সপ্তাহে কীভাবে কেটেছিলেন?
৮
এক লোক নাপিতের কাছে চুল কাটছে। হঠাৎ সে খেয়াল করল, নাপিতের কুকুরটা দোকানের এক কোণে চুপ করে বসে আছে। এটা দেখে লোকটা নাপিতকে বলল,
বাহ! আপনার কুকুরটা তো বেশ শান্ত!
নাপিত বলল, না স্যার, ও এত শান্ত না! ও আসলে এখন চুপ করে বসে অপেক্ষা করছে, কখন আপনার কানটা কাটা পড়বে আর ও এসে খপ করে খেয়ে ফেলবে!
৯
এক লোক নাপিতের দোকানে ঢুকে জিজ্ঞেস করল, কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে?
নাপিত বলল, প্রায় দুই ঘণ্টা।
লোকটা চলে গেল। পরদিন আবার এসে একই প্রশ্ন, একই উত্তর। আবার চলে গেল। তৃতীয় দিনও তাই।
নাপিত তখন তার কর্মচারীকে বলল, লোকটা কোথায় যায় দেখো তো।
কর্মচারী ফিরে এসে বলল, স্যার, আপনার বাসায় যায়!
১০
মার্ক টোয়েন একবার শেভ করতে সেলুনে গেছেন। শেভ করানোর ফাঁকে ফাঁকে নাপিতের সঙ্গে আলাপ করছিলেন তিনি।
মার্ক টোয়েন: আপনাদের শহরে এবারই প্রথম বেড়াতে এলাম।
নাপিত: ভালো সময়ে এসেছেন। আজ রাতে আমাদের এখানে মার্ক টোয়েন বক্তৃতা করবেন। আপনি সেখানে যাচ্ছেন তো?
মার্ক টোয়েন: হুম… আশা করছি যাব।
নাপিত: টিকিট কিনেছেন?
মার্ক টোয়েন: না তো!
নাপিত: মনে হয় আর টিকিট পাবেন না। পেলেও আপনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
মার্ক টোয়েন: আমার ভাগ্যটাই আসলে খারাপ। ভদ্রলোক যখনই বক্তৃতা করেন, তখনই আমাকে সব সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়!
বললেন মার্ক টোয়েন।



পাঠকের মন্তব্য