আ ডেলুলু দেবদাস ফ্রম শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়

৩৩ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে

১.

ঢাকায় তখন এক ঝরঝর আষাঢ়ের রাত। বৃষ্টিতে ধানমন্ডি লেকের পাড় ভেসে যাচ্ছে, আর কফিশপের ভেতর বাজছে স্যাড লফি মিউজিক। দেবদাস মানে দেব তার ইয়ো ইয়ো স্টাইলে বসে আছে। হাতের আইফোনের দিকে পলক না ফেলে তাকিয়ে আছে সে! পারু ইজ বদারিং হিম!

পারু আর দেব চাইল্ডহুড বেস্টি। ফ্রেন্ডগ্রুপের সবাই জানে এদের দুজনের মধ্যে ‘সামথিং সামথিং’! কিন্তু ঝামেলা বাধল অন্য জায়গায়। 

ইন্টারের পর দেব যখন ইউকে চলে গেল, পারু ভেবেছিল অন্তত রাত একটার চ্যাটে হলেও তাদের রিলেশনটা স্টে করবে। বাট, নো! এইখানেই শুরু হলো আসল গেম। দেব দিনদিন অনলাইন গেম অ্যাডিক্টেড হয়ে পড়ছে! সাথে আছে ইন্সটায় নানা ‘'পিক-মি-গার্ল’দের সাথে কুশনিং! তবুও পারু দেবকে ফ্রি পাস দিয়েই যাচ্ছে। কাফ লাভ আফটার অল! মায়া তো লাগেই!

কিন্তু দেব যেন কন্ট্রোলের বাইরে। পারু ডিরেক্ট মেসেজ দিলে দেব সাত দিন পর রিপ্লাই দিয়ে বলছে, 

ব্রো, নেটওয়ার্ক ইজ ক্রেজি হেয়ার! ড্যাম টায়ার্ড!

পারুর ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল যেদিন দেবকে ইনস্টাগ্রামের একটা আঁতেল ইনফ্লুয়েন্সার মেয়ের ট্রাভেল ব্লগে দেখা গেল। পারু সোজা ডিএম করল,

সিচুয়েশনশিপ শেষ। তুমি কি কমিটমেন্ট দিবা, নাকি ব্লক মারব?

দেব ভ্যাপের ধোঁয়া ছেড়ে একটা ভাবুক ভয়েস নোট পাঠাল, 

Need to find myself, Paru. You deserve better.

পারু মনে মনে বলল,

লাইক, সিরিয়াসলি ব্রো! আমি দ্য লিজেন্ডারি পারু! হাউ ডেয়ার ইউ ডিচ মি! আ'ল সি ইউ!

ব্যস! পারু তাকে অল-সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লক মেরে দিল। সোজা ফ্যামিলির ঠিক করা টেক-কোম্পানির সিইও ভুবনের সাথে এনগেজমেন্টের ছবি ইনস্টায় ড্রপ করে দিল। ক্যাপশন-Upgraded to stability

২.

দেব ইউকেতে থেকেই এই নিউজ পেল। তার ইগোর দফারফা! সে ক্লোজেস্ট ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরল। এসে দেখে পারু তার মেহেন্দি নাইটের পিক ইন্সটায় দিচ্ছে! 

দেবের তব্দা লেগে গেল! বন্ধু চুনী তাকে গুলশানের এক ক্লাবে নিয়ে গিয়ে একশট টাকিলা আর ভেপ হাতে তুলে দিয়ে বলল,

চিল ব্রো, গার্লস আর লট ইন হিয়ার!

এখানেই পরিচয় হল চন্দ্রমুখীর সাথে। সে ইন্ডি-রক ব্যান্ডের সিঙ্গার, মারাত্মক ডোপ ক্যারেক্টার। দেব তার কাঁধে মাথা রেখেই ক্রাই-বেবিদের মতো পারুর কথা বলে কাঁদতে লাগল।

চন্দ্রমুখির আবার আইডিয়াল টাইপ হল ক্রাইবেবি!  সে দেবের অবস্থা দেখে তাকে ভালোবেসে ফেলল। কিন্তু দেবের নেচারই টক্সিক! সে চন্দ্রকে জাজ করে বলল, 

তুই তো নাইটলাইফ করিস, পারুর মতো ইনোসেন্ট লাভ তুই বুঝবি না!

ব্রেকআপের বিরহে আইফোনের ব্যাটারি ২% আর টাকিলার নেশায় চুর হয়ে দেব উবার বাইক নিয়ে সোজা পারুর গুলশানের ফ্ল্যাটের নিচে হাজির। লাইভ লোকেশন আর এক ড্রামাটিক টেক্সট,

I'm outside your gate. Battery dying, life dying...

৩.

পারু ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। হাতে আইফোন, পরনে শিফনের নাইটি! তার ওপর হাউজকোট চাপিয়ে নিচে নেমে এসে হেসে বলল,

 ইউ থট তোমার এই ড্রামার জন্য আমি ট্র্যাপে পড়ব? নো ব্রো, নো!

পারু তার ফোনটা দেবের মুখের সামনে ধরল। স্ক্রিনে দেখা গেল- চন্দ্রমুখী আর পারুর গার্লস আউটিংয়ের সেলফি!

পারু বলল, 

চন্দ্র আমার বিএফএফ, ম্যান! তোমার এই দুই নৌকায় পা দেওয়া, পিরিত দেখানো আর ভিকটিম কার্ড খেলা- সবকিছু ওর দেওয়া লাইভ আপডেটেই জেনে গেছি। তুমি নিজেকে সো-কল্ড 'স্যাড বয়' ভাবো, বাট তুমি আসলে একটা চরম টক্সিক রেড ফ্ল্যাগ! নো ক্যাপ, ইউ নিড টু চেঞ্জ ইওর ক্যারেক্টর ম্যান! ইউ লিভ ইন ডেলুলু!

দেব হতভম্ব! মাথা ঘুরে যখন সে মাটিতে পড়তে যাবে যাবে- সেই সময়…

ভুবন মানে পারুর ‘'উড-বি' গাড়ি থেকে নেমে এসে দেবকে ধরে ফেলল। হেসে বলল, 

আরে, দেব! ব্রো!  তোমার 'দেবদাস টেকনোলজিস' স্টার্টআপে তো আমি কালকে ১০ লাখ ডলার ফান্ডিং এনভেস্ট করলাম! লাইভ লোকেশন দেখে ভাবলাম তোমাকে মিট করে যাই। চলো, তোমাকে স্পাতে পৌঁছে দিই, কাল সকালে আবার বোর্ডমিটিং আছে!

দেবের ডেলুলু কেটে গেল! সে বুঝতে পারল, পারু এখন মিলিওনেয়ার বিজনেসবউম্যান, চন্দ্রমুখী পারুর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, আর ভুবন তার নিজের স্টার্টআপের মেইন ইনভেস্টর!

একমাত্র সে-ই  লোনলি, বেকার এবং তার আইফোনের চার্জ শেষ!

দেব চলে এলো। গাড়ির পেছনের সিটে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবল,

কাট সাম স্ল্যাক, ম্যান! ব্রেইনরটের টাইম নাই রাইট নাউ! এডিটিং অ্যাপে গিয়ে ফিল্টার চেঞ্জ করার সময় এসে গেছে, দেবদাস মোড অফ! 

৩৩ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top