ইউএনওরা আসলে চড় থেকে বাঁচতে তাদের যেভাবে স্বাগত জানাবেন

৪৮ পঠিত ... ৭ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে

 

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে বুধবার ত্রিশালের ইউএনও একজনকে চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। জানা যায়, ইউএনও আসার পর তাকে দেখে না দাঁড়ানোয় তিনি এমন কাণ্ড করে বসেন।

ইউএনও আসবেন, তাকে সম্মানের সহিত স্বাগত জানানো উচিত। না জানালে স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমরা ভাবার চেষ্টা করেছি, কীভাবে স্বাগত জানালে ইউএনওর মেজাজ গরম হবে না। সাধারণ মানুষও তার রাগ থেকে নিরাপদ থাকবে।

১.

ইউএনও আসার আগে থেকেই একটা বরণডালা রেডি করে রাখতে হবে। এরপর সেই বরণডালা দিয়ে ইউএনওকে বরণ করা হবে। ইউএনওকে মনে করতে হবে কাভি খুশি কাভি গম-এর শাহরুখ খান, আর অন্যরা জয়া বচ্চন। এতে যদি ওনার একটু মেজাজ ঠান্ডা থাকে।

২.

 আসার সঙ্গে সঙ্গেই রুমে ঢুকানো যাবে না। দরজার সামনে একটা প্লেটে দুধ রাখতে হবে। সেই দুধে পা দিয়ে এরপর ইউএনওরা বাসায় ঢুকবেন।

৩.

 বাসা বা অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই ইউএনওকে পা ধরে সালাম করতে হবে। সম্ভব হলে পায়ে একটা চুমুও খেতে হবে।

৪.

 ইউএনও সাহেব গাড়ি থেকে নামা মাত্রই ওনার পায়ের নিচে লাল গালিচা বিছিয়ে দিতে হবে। কোনো কারণে লাল গালিচা না থাকলে দ্রুত লাল রঙের মশারি বা শাড়ি পেতে দেওয়া যেতে পারে, যাতে ওনার পা ধুলিধূসরিত না হয়।

৫.

 ওনার আসার পথজুড়ে অবিরাম ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে যেতে হবে। ফুল না পাওয়া গেলে বেলপাতা বা নিমপাতা দিয়ে কাজ চালানো যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কোনো পাতা যেন ওনার গায়ে পড়ে মেজাজ গরম না করে!

৬.

 ইউএনও আসার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে থেকেই রাজকীয় কায়দায় ঢাক-ঢোল ও সানাই বাজানো শুরু করতে হবে। এতে উনি দূর থেকেই বুঝতে পারবেন যে, ওনাকে বরণ করার জন্য সবাই প্রস্তুত ও সচেতন রয়েছে।

৭.

 ইউএনও সাহেবের চারপাশে অন্তত চার-পাঁচজন লোক হাতপাখা বা বড় ময়ূরের পেখম নিয়ে সার্বক্ষণিক বাতাস করতে থাকবে, যাতে কোনোভাবেই ওনার মাথা বা মেজাজ গরম হওয়ার সুযোগ না পায়।

৮.

 ইউএনও দূর থেকে দৃশ্যমান হওয়া মাত্রই উপস্থিত সবাইকে একযোগে মাটিতে উপুড় হয়ে ‘দণ্ডবৎ প্রণাম’ ভঙ্গিতে শুয়ে পড়তে হবে। এতে দাঁড়িয়ে না থাকার অপরাধ থেকেও সম্পূর্ণ নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে।

৯.

 উনি চত্বরে পা রাখা মাত্রই পটকা ফুটিয়ে, অবশ্যই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে, তোপধ্বনি দিতে হবে। এরপর উপর থেকে ড্রোন অথবা বাঁশের মাথায় লোক তুলে দিয়ে তোড়া তোড়া ফুল ছড়াতে হবে।

১০.

 উনি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই একজন মাইক হাতে ওনার মহিমা বর্ণনা করে স্বরচিত কবিতা পাঠ শুরু করবেন। কবিতার লাইনে ওনার সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব ও দাপটের প্রশংসা থাকা আবশ্যক!

৪৮ পঠিত ... ৭ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে

Top