হাসপাতাল ভেঙে ফেললেও টিকা বন্ধ করতে পারেনি কেউ

৩৫ পঠিত ০ ... ১১ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে

 

ঢাকা শহরের মিরপুর-১ নম্বর সেকশন। যে পথ দিনের বেলা হকারদের চেনা হাঁকডাক, রিকশার জট আর মানুষের আনাগোনার চঞ্চলতায় মুখরিত থাকে, গভীর রাতে সেই পথেরই এক অদ্ভুত নিঝুম রূপ আছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তেমনি এক ভ্যাপসা ও থমথমে রাত। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁইছুঁই। শহরের মানুষ তখন ক্লান্ত দেহে বিছানায় এলিয়ে দিয়েছে, কিংবা দেখছে কোনো গভীর ঘুমের স্বপ্ন। কিন্তু মিরপুরের সেই চেনা মোড়ে সেদিন নিয়তির এক নিষ্ঠুর চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছিল।

ঠিক সেই মুহূর্তে, সভ্যতার সব নিয়মকানুন আর মানবিকতার সীমানাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাজির হলো দুই থেকে আড়াই শ মানুষের এক মুখঢাকা বহর। তাদের হাতে ভারী লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি আর লোহার রড। আর তাদের সবার সামনে দানবের মতো গর্জন করে এগিয়ে এল একটি বিশালাকার এক্সকাভেটর বা ভেকু মেশিন। এরা কি কোনো বহিরাগত হানাদার বাহিনী? কোনো শত্রুর সীমান্ত পেরিয়ে আসা আক্রমণকারী? না, এরা আমাদেরই সমাজের রক্তমাংসের কিছু মানুষ, যাদের চোখে ছিল লোভের লালসা আর পেছনের ইন্ধনদাতাদের দেওয়া অন্ধ ক্ষমতার নেশা।

যে প্রতিষ্ঠানটির ওপর এই তাণ্ডব চালানো হলো, তার শেকড় অনেক গভীর। গল্পটা শুরু হয়েছিল প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে, ১৯৭৪ সালে। তৎকালীন সুইডিশ সেভ দ্য চিলড্রেন-এর অঙ্গসংস্থা রাড্ডা বার্নেন, সুইডিশ ভাষায় যার অর্থ শিশুদের রক্ষা করো, মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও গরিব মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করেছিল। প্রথম দুই দশক এর পুরোটাই চলেছে সুইডিশ অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায়। এরপর ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে এর দায়িত্ব অর্পণ করা হয় স্থানীয় অলাভজনক ট্রাস্ট রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ট্রাস্টের হাতে। সুইডিশ সহায়তা ধীরে ধীরে কমতে কমতে ২০০৪ সালে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলেও, বাংলাদেশি ব্যবস্থাপনায় এই ট্রাস্ট ঠিকই টিকিয়ে রেখেছিল তার মানবিক উত্তরাধিকার।

নামের ভেতরই লুকিয়ে ছিল যার পরিচয়, রাড্ডা মানে শিশুদের রক্ষা করা, আর এমসিএইচ-এফপি মানে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা (Maternal & Child Health - Family Planning)। গত ৫০ বছর ধরে মিরপুর এলাকার হাজার হাজার দরিদ্র মা ও শিশুর কাছে এই কেন্দ্রটি ছিল এক টুকরো ভরসার আকাশ। নামমাত্র খরচে বা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাধারণ চিকিৎসা, প্রসবকালীন সেবা, পুষ্টি পরামর্শ এবং সবচেয়ে বড় কথা, সরকারি ইপিআই কর্মসূচিসহ জীবনরক্ষাকারী টিকাদান কার্যক্রম চলত এখানে। বিশেষ করে মিরপুর-১-এর যে শাখাটি সেদিন হামলার শিকার হলো, সেটি এলাকার শিশু ও মায়েদের টিকাদানের জন্য ছিল অত্যন্ত প্রাণকেন্দ্র।

কিন্তু পনেরো মিনিটের এক ঝড়ে সেই অর্ধ শতাব্দীর ইতিহাস মুহূর্তে ধূলিস্যাৎ হয়ে গেল।

দলবেঁধে আসা সেই মুখোশধারী দল প্রথমে এসে চড়াও হলো দুই নিঃসঙ্গ নিরাপত্তাকর্মীর ওপর। রাতের পাহারায় থাকা বেচারাদের অপরাধ ছিল তারা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটার দেখাশোনা করত। ঝটপট তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে দেওয়া হলো এক অন্ধকার কোণে। এরপর আর কোনো কথার সুযোগ ছিল না। শুরু হলো নিখাদ ধ্বংসলীলা। যে ঘরে গরিব মায়েদের মায়াবী কান্না আর নবজাতকের প্রথম কোলাহল শোনা যেত, সেই ঘরগুলোতে চলতে লাগল হাতুড়ি আর বুলডোজারের তাণ্ডব। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, প্যাথলজির যন্ত্রপাতি, বিশালাকার ফ্রিজ, এসি, জীবনরক্ষাকারী অমূল্য ওষুধ এবং সরকারের বহু মূল্যবান টিকাদান রেজিস্টার, সবকিছু নিমেষে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হলো। ভেতরের ক্যাশ বাক্স ভেঙে লুট করে নেওয়া হলো মানুষের সেবায় জমানো প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার কী জানেন? যখন এই বর্বরোচিত ভাঙচুর চলছিল, তখন নাকি বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশের একটি গাড়ি। ভেতরের তাণ্ডব চলছে, আর রাষ্ট্রের পাহারাদাররা নির্বাক দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে দেখছে। এমন দৃশ্যই উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে। মাঝরাতে আধা ঘণ্টার ঝড়ে একটি আধা-পাকা ও পাকা দালান মাটির সঙ্গে মিশে গেল, আর তার ধ্বংসস্তূপের ওপর খুব যত্ন করে টাঙিয়ে দেওয়া হলো একটি সাইনবোর্ড - সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড।

মানুষের জীবন বাঁচানোর হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে পাকা দোকান তোলার এই অদ্ভুত লোভ আমাদের সমাজব্যবস্থার কোন অসুস্থ রূপের বহিঃপ্রকাশ, তা মেলানোর ফুসরত তখন কারোরই ছিল না।

ভোরের আলো ফোটার আগেই মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের সেই ধূলিস্যাৎ হওয়া প্রাঙ্গণে জমা হয়েছিল কৌতূহলী ও শোকার্ত মানুষের ভিড়। যে ছাদটার নিচে কাল পর্যন্ত মায়েরা তাদের কোলের শিশুকে নিয়ে চিকিৎসকের বারান্দায় বসে থাকত, সেখানে এখন শুধু ইটের টুকরো, বাঁকা রড আর চূর্ণ-বিচূর্ণ আসবাবের পাহাড়। ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন টাঙানো সেই সাইনবোর্ডটা - সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড - বাতাসে কেমন যেন উপহাসের ভঙ্গিতে উড়ছিল।

প্রশ্ন হলো, এই পরিকল্পিত তাণ্ডবের কারিগর কারা? গণমাধ্যম আর পুলিশি তদন্তের কাগজপত্রে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে এক অন্ধকার চক্রের মুখ। মামলার এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাকে - মো. হানিফ মিয়া। সঙ্গে রয়েছে আরও দুই থেকে আড়াই শ অজ্ঞাতপরিচয় ক্যাডার। দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এটি হুট করে ঘটে যাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন হামলা ছিল না; এটি ছিল প্রায় ১০ কাঠা মূল্যবান জমির দখল নেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী এবং ঠান্ডা মাথার ব্লু-প্রিন্ট।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা মুখ খুলতে শুরু করেছে। টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি বা মাস্তানের মতো যারা এই নারকীয় অভিযানে অংশ নিয়েছিল, তাদের স্বীকারোক্তিতে স্পষ্ট হয়েছে লোভের আসল রূপ। ১০ কাঠা জমির বাজারমূল্য কোটি কোটি টাকা। সেখানে একটি চ্যারিটেবল হাসপাতাল বা গরিবের টিকাদান কেন্দ্র বছরের পর বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকলে কার লাভ? লাভ তো সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া রিকশাচালক আর বস্তির দরিদ্র মায়ের। কিন্তু একশ্রেণির লোভী ভূমিখেকোদের কাছে মানুষের প্রাণের চেয়ে জমির দলিল আর বাণিজ্যিক দোকানের পসরাই বড় হয়ে দাঁড়াল।

তবে এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে লজ্জাজনক অধ্যায়টি লুকিয়ে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার ভেতরে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে এক অবিশ্বাস্য চিত্র - যখন ভেতরে ভারী বুলডোজার চলছে, একের পর এক দামি যন্ত্রপাতি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন বাইরে নাকি দিব্যি দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশের একটি গাড়ি! রাষ্ট্রের যে বাহুটির কাজ ছিল নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা, তারা কি তবে দর্শকের আসনে বসে পপকর্ন খাওয়ার অপেক্ষায় ছিল? নাকি রাতের অন্ধকারের সুনির্দিষ্ট কোনো ইশারায় তাদের চোখ ও কান সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই টনক নড়েছে প্রশাসনের উচ্চ মহলের। শাহ আলী থানার তৎকালীন ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার গঠন করেছেন বিশেষ তদন্ত কমিটি - পুলিশের কোনো গাফিলতি বা যোগসাজশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে। কিন্তু ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। অর্ধ শতাব্দীর একটি ইতিহাস, হাজার হাজার গরিব মানুষের চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল আজ মাটির সঙ্গে মিশে একাকার।

রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্য ঘটনার পর বিবৃতি দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে। কিন্তু রাজনীতির এই কথার লড়াইয়ের বাইরে এসে সাধারণ মানুষ আজ একটাই প্রশ্ন করছে - একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে চোখের পলকে এভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় কোন সাহসে? কার ইন্ধনে?

ধ্বংসস্তূপ আর ভাঙা ইটের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর সকালের সূর্যটা যেন একটু বেশিই মলিন হয়ে উঠেছিল। যে জায়গাটায় কাল রাতেও ছিল চিকিৎসকের চেম্বার, ওষুধের আলমারি আর শিশুদের কান্নার সুর, সেখানে এখন শুধু খোলা আকাশ আর ধুলাবালি। কিন্তু এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও জীবন তো আর থেমে থাকে না। বিশেষ করে যাদের টিকাদান বন্ধ হয়ে গেলে নবজাতক শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যায়, তাদের জন্য অপেক্ষা করার বিলাসিতা ছিল না।

তাই তো ধ্বংসযজ্ঞের পরের দিন সকালে দেখা মিলল এক অভাবনীয় ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। হাসপাতালের ভেতরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই, কারণ পাকা দালান তখন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। তখন চিকিৎসাকর্মীরা সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে রাস্তার পাশেই টানিয়ে দিলেন একটি ত্রিপল বা তাবু। নিচে পাতা হলো গুটিকতক টেবিল-চেয়ার। ঠিক সেখানেই, রোদের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে শুরু হয়ে গেল শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকাদান কর্মসূচি - হাম-রুবেলাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়ার লড়াই।

সকাল সাড়ে দশটার দিকে যখন এই অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রটি চালু হয়, তখন মায়েরা তাদের কোলের শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। প্রখর রোদে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে টিকা নেওয়ার সেই দৃশ্য যে কাউকে চোখের কোণে জল এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শত প্রতিকূলতা আর সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার পরেও সাধারণ মানুষের বাচ্চাদের কথা ভেবে এইটুকু উদ্যোগ না নিয়ে উপায় ছিল না। তবে টিকাদানের এই জোড়াতালি দেওয়া ব্যবস্থাটুকু চালু হলেও, আল্ট্রাসনোগ্রাম, প্রসবকালীন সেবা বা সাধারণ চিকিৎসা - যেগুলোর জন্য প্রতিদিন শত শত গরিব মানুষ আসত, তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এই চরম অনিশ্চয়তা আর ধ্বংসের মধ্য দিয়েও আজ বড় একটা প্রশ্ন আমাদের সমাজের মুখে আয়নার মতো ঝুলে আছে। যে দেশ বা সমাজ একটি সেবামূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে রক্ষা করতে পারে না, রাতের আঁধারে বুলডোজার চালিয়ে তাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া ঠেকিয়ে রাখতে পারে না, সে সমাজের নৈতিক ভিত্তি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? জমির লোভ মানুষের এত অন্ধ করে দিতে পারে যে, অর্ধ শতাব্দীর পুরোনো একটি চ্যারিটেবল হাসপাতালকে চোখের পলকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে সেখানে দোকান সমিতির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া যায়!

আইন তার নিজের গতিতে চলবে, মামলা হয়েছে, কিছু আসামিও গ্রেপ্তার হয়েছে, তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে - কিন্তু মিরপুর-১-এর সেই অসহায় মায়েদের বুকের ভেতর যে ভয়ের বীজ রোপিত হলো, তার উত্তর কে দেবে? রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের এই পতন কেবল একটি ভবনের পতন নয়; এটি আমাদের নগর সভ্যতার মনুষ্যত্ব আর সামষ্টিক বিবেকের এক নির্মম ট্র্যাজেডি। যতদিন পর্যন্ত এই দখলদারিত্বের সংস্কৃতি আর অন্ধ লোভের রাজনীতি সমূলে উৎপাটন করা না যাবে, ততদিন মিরপুরের ওই ধুলাবালিমাখা রাস্তার পাশের তাবুটার নিচে মায়েরা এভাবেই বুকভরা আতঙ্ক নিয়ে তাদের শিশুদের টিকাদান করাতে বাধ্য হবে।

 

৩৫ পঠিত ০ ... ১১ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​