বস্তুটার নাম ডুরিয়ান।
তীব্র গন্ধ বলে অনেক দেশে ট্রান্সপোর্টগুলোতে এই বস্তু নিয়ে ওঠা ব্যানড। আমার কাছে গন্ধ কাঁঠালের মতোই লেগেছে। যেহেতু কাঁঠালের গন্ধ আমার কাছে ভালো লাগে না, এটাও লাগে নাই।
তবে মূল ঘটনা অন্য। ছোটবেলা থেকে বাবা-মা দুজনেই কিছু অত্যন্ত গন্ধযুক্ত ফল খেতে জোরাজুরি করতো। এর মধ্যে আছে বেলের শরবত, বাঙ্গি, পাকা পেঁপে, কদবেল, কাঁঠাল আরও অনেক। তখন খুব মন চাইতো, তাদের যদি এই যে জঘন্য স্বাদ মনে হয়েও জোরাজুরি কেমন লাগে, এইটা ফিল করাইতে পারতাম!
খুব বেশিদিন অপেক্ষা করা লাগেনি। বছর দুয়েক আগে সিঙ্গাপুরে নেমে দেখি আমাদের হোটেলের এন্ট্রান্সে ডুরিয়ান বেচতেছে। তীব্র গন্ধে জীবন যায় যায়। এভাবে নাকি ৩ দিন থাকা লাগবে! তবে বুদ্ধি আঁটলাম, মা-বাবাকে খাইয়েই ছাড়বো।
এরপর কুয়ালালামপুরের জালান আলোরে দুই বোন স্ট্রিটফুড খাওয়ার ফাঁকে মাকে বললাম, তুমি তো কিছু খাচ্ছো না, তাইলে এক পিস ডুরিয়ান খাও। এক্কেবারে কাঁঠালের মতো খাইতে, জাস্ট আরেকটু মিষ্টি।
বাবা-মাও ভাবলো, একটা দেশে আসলাম আর এখানের এত জনপ্রিয় ফল খাবো না, তা কি করে হয়! তারপর কিনলো। মুখে দিতেই এমন এক্সপ্রেশন দিলো, যেইটা ৭/৮ বছর বয়সে বেলের জুস খাইলে দিতাম।
না পারে ফেলতে (বেশ চড়া দাম), না পারে গিলতে। শেষমেশ আরেক পিস ফেলতেই লাগলো।
কেউ যদি ছোটবেলায় জোরপূর্বক বাঙ্গি খাইতে গিয়ে ট্রমাটাইজড হয়ে থাকেন, বাবা-মাকে ডুরিয়ান খাওয়ায়ে এই ট্রমা ব্যাক দিতে পারেন।



পাঠকের মন্তব্য