শিবরামবাবুর দা-কুমড়ো

৩৮ পঠিত ০ ... ২০ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে

 

 

আজ নাকি কুমড়ো দিবস।

পেপারে দেখলুম! এখন সেটা পরিপক্ক নাকি অপরিপক্ক সে বিষয়ে তারা কিছুই জানায়নি। জানানোটা জরুরি ছিল! যদি অপরিপক্ক হয়, তবে তো সেটা অকাল কুষ্মাণ্ড! তবে তো আজ ওর নয় আমার দিবস- বাবা তো দিনভর ঐ বলেই ডাকেন আমায়!

আর যদি পরিপক্ক কুমড়ো হয়, তবে প্যাচাল আলাদা! যদিও কুমড়ো বেচারা পেঁচালো নয় মোটেই!

যাইহোক, খবরটা শুনেই আমি আমার সামান্য গোঁফহীন বুদ্ধিতে একটু চমকে গেলাম। এতদিন জানতাম- গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিবস আছে! মায়ের দিবস, বাবার দিবস, এমনকী আধুনিক বাজারে ভালোবাসারও দিব্যি দিবস চালু হয়েছে। কিন্তু সবজির ক্ষেতের কুমড়োতেও দিবসের ভূত চাপবে, তা কস্মিনকালেও কল্পনা করিনি।

কুমড়োর মাথায় একখানা ‘কু’ থাকলেও ওর ওপর আমার বিশেষ রাগ নেই। ওটা অকাল কুষ্মাণ্ড হলেই কী আর কুমড়ো পটাশ হলেই বা কি! সে তো আর নিজের প্রচারের জন্য পোস্টার সাঁটেনি বা ফেসবুকে ইভেন্ট খোলে নি। সে বেচারা নিরামিষভাবে মাটিতে পড়ে ছিল, মানুষেরই বোধহয় কর্মহীন

তার চোটে কুমড়োকেও একটা দিবস উপহার দিতে হলো!

ঘরে একখানা কুমড়ো পড়েছিল! কৌতূহল দমন করতে না পেরে সোজা কুমড়োটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালুম। মোলায়েম গলায় বললুম,

স্যার, শুনছেন? আজ নাকি আপনার দিবস। কেমন লাগছে জানাবেন?

কুমড়োটি ‘ক’ শব্দটিও করলে না।

বাঁচালে! সে যদি মুখ খুলে বসত, তবে আমিই হয়তো ভয়ে কুমড়ো-ফাটা হয়ে যেতাম! এতদিন তো তাকে আমরা দিব্যি কেটেকুটে উদরসাৎ করেছি, সে যদি হুট করে বলত-  আজ যখন আমার দিবস তখন নাহয় তোমাকেই কাটি!

আসলে কুমড়োর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের একটা দা-কুমড়ো সম্পর্ক চলছে। দা যত কাটে, আমি তত খাই; আবার সে যত বাড়ে, আমার বাজেট তত কমে। একেই বোধহয় বলে কাটায় কাটায় হিসেব!

বাড়িতে ফিরেই ঢাকঢোল পিটিয়ে খবরটা দিতেই মা এক হাতে খুন্তি নাড়তে নাড়তে বললেন,

আজ কুমড়ো রান্না করছি।

আমি ভুরু কুঁচকে বললাম,

সে কী! কুমড়ো দিবস বলে কথা! আজ তো কুমড়োকে সম্মান করার দিন!

মা অত্যন্ত রুক্ষ বাস্তবের কুমড়োয় দা বসালেন,

দিবস-টিবস বুঝি নে, ঘরে একটা আস্ত কুমড়ো পচে মরছে, তাই রান্না হবে। কুমড়ো কাটলে যদি রান্নাই না হয়, তবে সেই কুমড়ো কেটে লাভ কী? 

বাবা আবার চশমাটা নাক থেকে একটু নামিয়ে গম্ভীর গলায় জিগ্যেস করলেন,

অকাল কুষ্মাণ্ডটা বাড়ি ফিরল নাকি?

মা বললেন, 

কুষ্মাণ্ড ফিরে কুষ্মাণ্ড-কোষ্ঠিই জপছে এতোক্ষন!

আমি মনে মনে ভাবলুম, কুমড়োয় কত কিছু হয়! তবু মানুষ কী অকৃতজ্ঞ! এমন সর্বগুণসম্পন্ন মহাপুরুষকে মানুষ এতদিন নিতান্ত অবহেলায় শুধু “কুমড়ো” বলে ডেকে এসেছে-এটাই তো একটা মহা অপরাধ! তার ওপর ‘অকাল কুষ্মাণ্ড’, ‘কুমড়ো পটাশ’- এসব শব্দ গালি হিসেবে ব্যবহার করে কুমড়োর স্ট্যাটাস আরও গড়িয়ে দিচ্ছে! ঠিক যেভাবে কুমড়োও গড়িয়ে যায়!

তবে কুমড়োর একটা মস্ত বড় লজিস্টিক্যাল সমস্যা আছে।

সে যত বড় হয়, তার পুষ্টিগুণ বা বুদ্ধি বাড়ে কি না জানি না, তবে তাকে বাজার থেকে মাথায় বা বগলে করে বাড়ি অব্দি বয়ে আনার ঝক্কি তত মারাত্মক আকার ধারণ করে।

একবার বাজার থেকে একটা আস্ত ফুটবল আকৃতির কুমড়ো এনে মার সামনে বুক ফুলিয়ে বললাম,

মা, দেখো কী এনেছি!

মা একবার কুমড়োটার দিকে, একবার আমার শীর্ণ দেহের দিকে তাকিয়ে বললেন,

তুই একে এনেছিস, না এ তোকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এসেছে, সেটাই তো বুঝতে পারছি না!

আমি আর কথা বাড়ালাম না। কারণ কুমড়ো দিবসের পবিত্র দিনে কুমড়ো নিয়ে বাকবিতণ্ডা করা- পাপ হবার কথা।

তাই আজ সবাই কুমড়োকে খুব সম্মান করুন। তাকে দুহাতে প্রণাম করবেন, গলায় রজনীগন্ধার মালা পরাবেন, কিংবা সেলফি তুলে সোশাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ দিয়ে ধন্য ধন্য করবেন।

দিনটা যেমন তেমন করে পার করে নিন! তারপর সন্ধ্যে হলেই-

দিব্যি একটা ধারালো বঁটি হাতে নিয়ে কুমড়োটাকে টুকরো টুকরো করে হাঁড়িতে বসিয়ে দেবেন। নিয়ে নিন কুমড়োর স্বাদ আর হয়ে উঠুন কুমড়োপটাশ!

 

৩৮ পঠিত ০ ... ২০ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top ​