দে হ্যাভ অ্যা প্ল্যান…

২ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে

বৃষ্টি পড়ছে। ভুঁড়িটাকে ওপরের দিকে দিয়ে শুয়ে আছেন গোলাম শেখ। দুপুরের খাওয়ার পর ঘুমে চোখটা জুড়িয়ে আসে। খাটে শুয়ে পান চিবোতে চিবোতে মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে পড়েন। আহ! শান্তির জীবন! টিং রিং করে গোলাম শেখের আইফোনটা বেজে ওঠে। ওপাশে ফোন করেছে তার ম্যানেজার রিটন বেগ। মেজাজ খারাপ করে ফোন ধরতেই রিটন বেগ তেলতেলে গলায় বলে উঠল, ছার ছার! সাইটে আইছি। এহানে দুইডা রোড খালি আছে!

কথাটা শুনেই গোলাম শেখের ঘুম উধাও! চোখ চকচক করে উঠল! উত্তর দিলেন, কস কী মমিন! ঠিকানা মিকানা দে সব! আইজকাই ধরব!

কিন্তু ছার, ওদিকে কিন্তু রমজান আলীর কাম চলতাছে আরও দুই রোডে…

তাতে কী হইছে? ওরা ওগে কাম করবে, আমরা আমাদেরটা! ওদের টাকা লাগবে, আমাদের লাগবে না?

হেহেহে… ঠিক কইছেন ছার!

তেলতেলে হাসি দিয়ে ফোনটা রাখে রিটন বেগ।

গোলাম শেখের ফোনে মেসেজ আসে। রোডের আদ্যোপান্ত। পরদিন সকালে গোলাম শেখ ছোটে অফিসে অফিসে। এই রাস্তাগুলোর সংস্কার লাগবে। খুঁড়তে হবে। ভেতরে গ্যাঞ্জাম, পানি জমে আছে! এই তো কিছুদিনের মধ্যে অনুমোদনও পেয়ে যায়। যতই হোক, জনগণের ভোগান্তি কমানো বলে কথা! সরকার তো সংস্কার করবেই!

গোলাম শেখের প্ল্যান সলিড। দুই রাস্তা কাটবে, আর দুই রাস্তা খোলা আছে!

একদিন সকালে জামতলা নিবাসীরা আবিষ্কার করে, বড় বড় ভেকু, রাস্তা কাটার মেশিন এসে রাস্তা কেটে ফেলছে। গ্যাড় গ্যাড়, ক্যার ক্যার শব্দে ঘরে থাকা দায়! জামতলা থেকে বের হওয়া বা ঢোকার রাস্তা চারটা। দুটো কাটে গোলাম শেখের কোম্পানি, আর দুটো কাটে রমজান আলীর কোম্পানি।

যাদের রোজকার এদিক-ওদিক ছুটতে হয়, তারা এই ভাঙা রাস্তায় মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার করে করে পার হয়। কেউ পড়ে যায়, ব্যথা পায়। সবার যাতায়াতে অসুবিধা। কিন্তু তাতে কী? কাজ তো জনগণের জন্যই হচ্ছে!

এদিকে বৃষ্টি পড়ে, কাদা হয়। কাজ বন্ধ থাকে। মাসের পর মাস কাজ চলে। জামতলার লোকজন এক আলাদা দ্বীপের মতো হয়ে যায়। রিকশাভাড়া দ্বিগুণ দিয়ে অর্ধেক রাস্তা যাওয়া যায়। জনগণের ভোগান্তিতে কী এসে যায়? তাদের সুবিধার জন্যই তো এত কাজ!

রাস্তার কাজ শেষ হয়ে আসতে থাকে। এই এক-দেড় বছরের ওপর লাগে, বেশিদিন না।

সেদিন দুপুরে ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায় রহিম শাহ। রহিম শাহের মনে হয়, আরে, এই রাস্তার গ্যাসের পাইপ তো ঠিক করা হয়নি! গোলাম শেখ আর রমজান আলী এটা একটা কাজ করল? রহিম শাহ থাকতে জনগণের এত বড় অসুবিধা কীভাবে হতে পারে…

সেদিন দুপুরেই রহিম শাহ পৌঁছে যায় অফিসে…

জামতলা নিবাসীরা এত এত সুবিধা পেয়েও একটু কষ্ট সহ্য করবে না, তা কি আর হয়?

(সব ঘটনা কাল্পনিক। কারও সঙ্গে মিলে গেলেও কেউ দায়ী নয়!)

২ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top ​