পিংক মানে কি শুধুই নারী?
প্রশ্নটা রাকিবের, ছোটবেলা থেকেই। তার প্রিয় রঙ পিংক। মার্কেটে গেলেও পিংক শার্ট, পিংক জুতা, এমনকি পিংক ঘড়ি পছন্দ হয়। তাকে এই রংয়ে মানায়ও বেশ! শখ করে একবার পিংক বেল্ট পড়ে ভার্সিটিতে গিয়েছিল। বন্ধুরা সে কী হাসাহাসি! কাঁধে চাপটি মেরে বিকাশ বলেছিল, কী রে–তুই কি মেয়ে?
কই, ছোটবেলা থেকেই তো দেখে আসছি শাকিব, আমিন খান, বাপ্পারাজরা পিংক লিপস্টিক দিয়েও সিনেমায় নায়কের রোল করেছে। কেউ তো তাদের প্রশ্ন করেনি। বার্বি সিনেমায় সবার জামা পিংক–বিকাশও দেখেছে। সে তো প্রশংসায় পঞ্চমুখ! তবে শুধু কি আমাদের বেলাতেই?
সেদিন থেকে রাকিবের মনের তন্ত্রীরা যেন বিদ্রোহ করে বসে! পিংক কেন নারীদের একচ্ছত্র আধিপত্যে থাকবে? রংটাকে সার্বজনীন করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মোজা থেকে শুরু করে টিস্যু পর্যন্ত সে নিজেকে গোলাপীতে মুড়ে ফেলল। বন্ধুরা প্রথম প্রথম হাসাহাসি করলেও এখন সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সে দৃষ্টিতে এক দুনিয়া প্রশ্ন! কেউ কেউ আবার ফিসফিস করে বলে, আহারে!
রাকিব অবশ্য কাউকেই পাত্তা দেয় না। তার যুক্তি একটাই—রঙ যেহেতু মানুষের তাহলে পিংকও সবার। সে শুরু করে তার নতুন মিশন—পুরুষদের মধ্যে পিংকের ব্যবহার বাড়ানো।
ইতোমধ্যে সে পিংক ছাতা, পিংক হেলমেট এবং পিংক মশারি কেনার পরিকল্পনা করে ফেলেছে। বাসায় হুংকার দিয়ে রেখেছে–বিয়ের সময় শেরওয়ানী গোলাপী না হলে বিয়েই হবে না। রাকিব এখন সর্বত্র মোটামুটি ভাইরাল। মিমাররা তার নামে খুলেছে আলাদা পেইজ ‘রাকিব দ্যা পিংকি!’ কয়েকটা গণমাধ্যমে সে দৃপ্ত কন্ঠে সাক্ষাৎকারও দিয়েছে, পিংক কারও বাপের নয়!
এভাবে চলতে চলতে একদিন হুট করে রাকিবের ফেসবুকে একটা মেসেজে আসে।
হলিউড থেকে।
বার্বির সিক্যুয়াল ‘ডার্বি’তে অভিনয়ের অফার পেয়েছে রাকিব। খুশিতে উল্লসিত হয়ে সে জোরে জোরে পড়তে শুরু করে, আপনার কাজ দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। আমাদের এই সিনেমা যেমন চরিত্র চায়, আপনি ঠিক তেমনই। তাই আমরা আপনাকে লিড নায়িকা হিসেবে চাই। রাজি থাকলে ১ চাপুন!



পাঠকের মন্তব্য