গেছিলাম মালয়েশিয়া। ঘুরতে! বড় বইনের একটা চ্যাও-প্যাও হইসে- তারে দেখতে। ছিলাম কয়েকদিন। কিছুদিন আগে দেশে ফিরছি।
প্লেন থিকা নাইমাই মাথা গরম হইয়া গেল! সব ছেরাবেরা অবস্থা এক্কারে! ই-গেইট মানে ই-পাসপোর্ট গেইটের ১২টার মধ্যে ২ টা ওপেন। বাকিডি বন্ধ! ২০২২ সাল থিকা চালু আছে ই-গেইট! কয়েক কোটি টেকার ঝকঝকা ফকফকা ই-গেট খাড়াইয়া আছে শো-পিস হইয়া! হুদাই কামে! ডিজিটাল বাংলাদেশে আপনারে শেষমেশ এনালগ লাইনেই ম্যানুয়ালি খাড়ান লাগব! তাইলে এই আপগ্রেডেশন দিয়া আমরা কি করুম?
হেইখান থিকা ছেচড়াইয়া বাইর হইয়া আইসা দেখি আরেক ফাঁদ! আমি ল্যান্ড করছি তিনঘন্টার উপ্রে হইয়া গেছে! লাগেজ বেল্টের দিকে তাকায় থাকতে থাকতে মনে হইল যে চোখের মনিডি খুইল্যা পইড়া যাইব! কিন্তু আমার লাগেজ নাই! বইসা রইছি তো রইছি-ই! লাগেজ আমার মক্কা ঘুইরা বিলেত গেল গা নাতো আবার! আমি যে কয়দিন মালয়েশিয়া তে ঘুরছি আমার লাগেজ তো দেহি তার চাইয়া বেশি টাইম বেল্টে ঘুরতাছে!
লাগেজ আইতে কত টাইম লাগব সেইটা জিগাইতে গেলাম এয়ারপোর্টের স্টাফগো কাছে! চেহারা দেইখা মনে হইল আমি কোন কামের কথা জিগাই নাই- হেগো কাছে হেগো কিডনি চাইছি ফ্রিতে! হেরা ধমক দিয়া কুত্তা খেদাইতাছে! কিছু জানতে না পাইরা আবার আগের জায়গায় গিয়া বইলাম মন মরা হইয়া!
শেষমেশ ৫ ঘন্টা পর হাতে পাইলাম আমার ব্যাগেজ! কিন্তু এতো দেহি চিচিং ফাক! আমার মাথায় হাত। আমার ব্যাগে তালা দেয়া আছিলো কিন্তু এখন এক্কারে হাট কইরা কাটা! কিছুদিন আগে ইন্টারনেটে দেখছিলাম একটা ভিডিও। একজন মানুষ লাগেজ বেল্টের উপ্রে বইসাই নিজের ব্যাগ-বস্তা হাতাইতাছে। কাটা ব্যাগ-বস্তা। আমি বিশ্বাস করি নাই। ভাবসি এআই দিয়া বানানো। এম্নে কি কারো জিনিস চুরি যাইতে পারে?
কিন্তু এহন আমি কি করমু? আমার ব্যাগের মইধ্যে কিচ্ছু নাই আমার কাপড়ডি ছাড়া। ফ্যামিলির সবার লাইগা আমি কিছু না কিছু কিনসিলাম! সাবান, শ্যাম্পু, চকোলেট, ঘড়ি, বডিস্প্রে। আমার ছোট বোনডার লিগা একজোড়া দুল কিনছিলাম স্বর্নের! আমি অহন কি করমু? কারে কমু? তবু দৌড়াইলাম। এর আছে, ওর কাছে, তার কাছে! কেউ কিচ্ছু জানে না! কইতে পারে না! আলাদিনের দৈত্যের কাম সব! দেখতে দেখতে নাই- হাওয়া!
আলাদিনের চেরাগের ছেড়া খোসাডা লইয়া ট্রলি খুঁজতাছি! বাড়ি তো ফিরন লাগব! এহানে আবার কি- ট্রলি নাই! অনেকক্ষন খোঁজাখুঁজি করলাম, নাই তো নাই-ই! এয়ারপোর্টের ট্রলিডিও মনে হয় মাঝে-মইধ্যে ভ্যাকেশন কাডাইতে যায়! কি করব- যে বোরিং লাইফ!
এরমধ্যেই ক্যান্টিনের দিকে হাউকাউ শুইন্যা ফিরা দেখি খাবারের দাম আর মান নিয়া কথা কইছে বইলা প্যাসেঞ্জারের লগে ক্যান্টিন স্টাফদের বিশাল কাইজ্জা লাগছে।
আর কি? হাতে টাইনাই ব্যাগ নিয়া বাইরে বাইর হইতেছি। আরও অনেকে এই কাম করতাছে! ট্রলি পায় নাই! পরে এয়ারপোর্টের বাইরে আইসা ট্যাক্সি খুঁজতাছি! আল্লাহ! ট্যাক্সিওয়ালারা আমারে ছাইক্যা ধরছে! আমি যেন মানুষ না ডলারের বস্তা! কাড়াকাড়িতে ছিড়া না ফালায় আমারে!
ফাইনালি উঠছি একটাতে! কিছুদুর যাইতেই দেখি ট্রলিডি লইয়া ব্যবসায় বইছে পান-সিরকেট, বিড়িওয়ালা! আমি হাইসা ফেললাম! তেনারা তাইলে এইহানে!
কালকে খবরে দেখলাম, এয়ারপোর্টের অবস্থা উন্নত করার লিগা সরকার কিছু স্টেপ নিছে। আশা করতাছি জানি ভালো হয় অবস্থা। নাইলে বড় আপারে কইয়া দিছি- আমি আর যামু না বিদেশ! তোরাও আর আসিস না!
আমি একবার দেশের বাইরে যাইয়া যদি আমার এই অবস্থা হয় যারা নিয়মিত আসা-যাওয়া করে, তারা এইসব সামলায় কেম্নে? হেরা তো তাইলে দুনিয়ায় বইসা জাহান্নামের সুবাতাস পাইতাছে !
অবস্থা যা দেইখা আইলাম! বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট পার হওনের থিকা মনে হয় পুলসেরাত পার হওয়া সহজ হইব!



পাঠকের মন্তব্য