বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে যোগ্যতা, গবেষণা, প্রশাসনিক দক্ষতা, এসবের পাশাপাশি যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকতে পারে, তা নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর আইরিন ট্রেসি। সম্প্রতি তাঁর বক্তব্য ‘GOD আমাকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ করাইছে প্রিন্স চার্লসকে দিয়ে’ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে অফলাইন এবং অনলাইনে। বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনের বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্য উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে। এত দিন মানুষ জানত, উপাচার্য হতে হলে যোগ্যতা লাগে, অভিজ্ঞতা লাগে, গবেষণায় অবদান লাগে। এখন বোঝা যাচ্ছে, এসবের পাশাপাশি দরকার হতে পারে একজন প্রভাবশালী শুভাকাঙ্ক্ষী, যাঁর মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনাটি প্রশাসনিক অনুমোদন পায়।
আইরিন ট্রেসির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রিন্স চার্লস না থাকলে তাঁর যত যোগ্যতাই থাকুক, অক্সফোর্ডের ভিসি হওয়া সম্ভব হতো না। তাই চার্লস সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তিনি কার্পণ্য করতে চান না। তিনি তাঁর বিগ ফ্যান। এই বক্তব্যের পর রাজকীয় ভক্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে গবেষণার দাবি উঠেছে। গবেষকদের একাংশ জানতে চান, ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে সিভির পাশাপাশি ‘ফ্যান ক্লাব মেম্বারশিপ’ও কি বিবেচনায় নেওয়া হয়? তবে এই আলোচনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছবিরুল ইসলামকে ঘিরে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনেও যে তেলবিদ্যার চর্চা চলছে, তা কারও অজানা নয়। অভিযোগ রয়েছে, ছবিরুল সাহেব তারেক রহমানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বেশ সরব। ফলে অক্সফোর্ডের আইরিন ট্রেসির বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর কর্মকাণ্ডের তুলনা টেনে সামাজিক পরিসরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
এ বিষয়ে আইরিন ট্রেসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কি ছবিরুল ইসলামের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন? উত্তরে তিনি নাকি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর তেল তিনি নিজের ইচ্ছাতেই দিয়েছেন। এতে কারও কপিরাইট নেই। বরং ছবিরুল সাহেব তাঁর কাছ থেকে কিছু নকল করেছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত। এ বক্তব্যে তেলবিদ্যার জগতে নতুন প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। তেল দেওয়া যদি ব্যক্তিস্বাধীনতার অংশ হয়, তাহলে কে আগে দিয়েছেন, কে পরে দিয়েছেন, তা নিয়ে বিতর্ক হবে কেন? তেলেরও কি প্যাটেন্ট থাকতে পারে? নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদমর্যাদা অনুযায়ী তেলের মান ও ঘনত্ব নির্ধারিত হয়?
এদিকে ছবিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিবেদকের ফোন কেটে ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও ফোন কেটে দেওয়ার পেছনে ব্যস্ততা, নেটওয়ার্ক সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মতো নিরীহ কারণও থাকতে পারে, তবু সাধারণ জনতার কাছে ঘটনাটি নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। সব মিলিয়ে, অক্সফোর্ড থেকে পিরোজপুর, উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।


