খুলনার পুলিশকে সুরক্ষা দিতে আগ্রহী সন্ত্রাসীরা, সুরক্ষা ফিতে থাকবে বিশেষ ডিসকাউন্ট

৩২ পঠিত ০ ... ১১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে

 

খুলনায় অভিযান শেষে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন হাসিঠাট্টার বন্যা, তখন মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে এগিয়ে এসেছে খুলনার সন্ত্রাসী সমাজ। পুলিশ ভাইদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার বিশেষ সুরক্ষা প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দিয়েছে তারা। জানা গেছে, রাতে একা চলাচলকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ‘সেফটি ফার্স্ট, টাকা লাস্ট’ স্লোগানে চালু হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তাসেবা। তবে টাকা একেবারে লাস্টে থাকলেও সার্ভিস ফি দিতে হবে শুরুতেই। আর পুলিশের জন্য থাকছে বিশেষ ডিসকাউন্ট। কারণ, পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সম্পর্কটা শুধু আইনগত নয়, এর মধ্যে একটা পেশাগত বোঝাপড়াও তো আছে!

সন্ত্রাসী সমাজের মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে, মুখও প্রকাশ না করে আমাদের জানান, দেখুন, পুলিশ ভাইদের নিয়ে মানুষ এত ট্রল করছে কেন? উনারা কি সবকিছু সামলানোর জন্য চাকরি নিয়েছেন? উনাদের কাজ বাইক আটকানো, কাগজপত্র চেক করা, হেলমেট না থাকলে মামলা দেওয়া। এখন কেউ যদি অভিযান শেষে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন, সেটা নিয়ে এত কথা বলার কী আছে? সবারই তো কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন আছে। তিনি আরও বলেন, আমরা তো দেশের সচেতন নাগরিক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখার দায়িত্ব শুধু পুলিশের একার হতে পারে না। আমরাও সমাজের অংশ। তাই পুলিশ ভাইদের রাতে একা চলাচলের ঝুঁকি কমাতে এগিয়ে এসেছি। উনারা আমাদের এলাকায় ঢুকলে আমরা খেয়াল রাখব, কে উনাদের পিছু নিচ্ছে, কে উনাদের ব্যাগের দিকে তাকাচ্ছে। তবে আমাদেরও তো কিছু খরচ আছে। নিরাপত্তা কি আর বিনা পয়সায় হয়?


জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের প্রস্তাবিত প্যাকেজে রয়েছে ‘বেসিক সুরক্ষা’, ‘প্রিমিয়াম সুরক্ষা’ এবং ‘ভিআইপি পুলিশ প্রটেকশন’। বেসিক প্যাকেজে থাকবে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা। প্রিমিয়াম প্যাকেজে যুক্ত হবে পেছন থেকে কেউ আসছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। আর ভিআইপি প্যাকেজে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে একজন সন্ত্রাসী প্রতিনিধি চলবেন। পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, পুলিশ ভাইদের আমরা সম্মান করি। উনারা রাস্তায় আমাদের দেখলে অনেক সময় থামান, কাগজপত্র দেখতে চান, কখনো কখনো থানায়ও নিয়ে যান। এই যে এত পরিচিতি, এত যোগাযোগ, এগুলো কি আর এমনি এমনি হয়? তাই সাধারণ কাস্টমারের চেয়ে উনাদের সার্ভিস ফি কম হবে। তবে পুরো ফ্রি করা সম্ভব না। তাহলে আমাদের ছেলেপেলেরা চলবে কীভাবে?

এদিকে, পুলিশের নিরাপত্তায় সন্ত্রাসীদের এমন আগ্রহ দেখে স্থানীয় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, রাষ্ট্রের যে কাজ রাষ্ট্র করতে পারছে না, সেই কাজ করতে বেসরকারি উদ্যোগে এগিয়ে আসছে অপরাধী সমাজ। দেশে উদ্যোক্তা হওয়ার এমন সুযোগ আগে কে জানত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থায় নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। এত দিন পুলিশ অপরাধীদের ধরত, এখন অপরাধীরাই পুলিশকে নিরাপদে রাখবে। ফলে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠতে পারে এক নতুন সামাজিক চুক্তি, যেখানে পুলিশ অপরাধী ধরবে, অপরাধীরা পুলিশকে ছিনতাই থেকে বাঁচাবে, আর নাগরিকেরা মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি উপভোগ করবেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, খুলনায় এই সেবা জনপ্রিয় হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও চালু হতে পারে। এমনকি একসময় পুলিশের জন্য আলাদা ‘নিরাপত্তা বীমা’ চালু হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মাসিক কিস্তি জমা দিলে বিপদের সময় পরিচিত সন্ত্রাসীকে ফোন করলেই মিলবে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা। তবে আপাতত পুলিশের প্রতি সন্ত্রাসী সমাজের এই সহমর্মিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। কারণ, যে দেশে পুলিশই নিরাপদ না সেখানে তাদের নিরাপত্তার জন্যেও অন্তত কেউ তো এগিয়ে এসেছে।

৩২ পঠিত ০ ... ১১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে

Top ​