মেয়েদের নিরাপদে বাঁচতে শেখানোর পাশাপাশি ছেলেদেরও শেখান, কীভাবে অন্যের জন্য নিরাপদ মানুষ হতে হয়। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে আপনার পুত্রসন্তানকে এই শিক্ষাগুলো দিতে পারেন।
১. ধর্ষণের জন্য ধর্ষকই দায়ী, পোশাক নয়। মেয়েদের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অপরাধীর অপরাধ নিয়ে প্রশ্ন করতে শিখ।
২. একটা মেয়ে তার ইচ্ছামতো পোশাক পরতে পারে, নিজের মতো করে বাঁচতে পারে। তার জীবন নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তোর নেই।
৩. একটা মেয়ে তোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে সেটা তার অধিকার। প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে শেখ, অপমান বা প্রতিশোধ নেওয়া নয়।
৪. কোনো মেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলেই সে তোকে পছন্দ করে, এমন নয়। আর ‘না’ মানে ‘না’, এটা বুঝতে কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
৫. একটা মেয়ে রাত করে বাইরে থাকলেই তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তোর জন্মায় না। রাতের রাস্তাও তার, দিনের রাস্তার মতোই।
৬. একটা মেয়ে চাকরিতে প্রমোশন পেলে তার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই কর। তার সাফল্য তোর ব্যর্থতা নয়।
৭. তোর বন্ধুরা কোনো মেয়েকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করলে হাসিতে যোগ দিস না। প্রতিবাদ কর। অন্যায়ের সময় নীরব থাকা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া।
৮. কোনো মেয়ের ব্যক্তিগত ছবি, চ্যাট কিংবা গোপন কথা তার অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া মজা নয়। বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে শেখ।
৯. মেয়েরা রান্না করবে, ঘর সামলাবে আর ছেলেরা শুধু উপার্জন করবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। নিজের কাজ নিজে কর, দায়িত্ব ভাগ করে নিতে শেখ।
১০. কোনো মেয়েকে ভালোবাসার অর্থ তাকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। সে কার সঙ্গে কথা বলবে, কী পরবে, কোথায় যাবে, এসব ঠিক করে দেওয়ার নাম ভালোবাসা না।
১১. একটা মেয়ে তার সঙ্গে ঘটা কোনো অন্যায়ের পর স্বাভাবিকভাবে বা হাসিমুখে চলছে মানে তার সঙ্গে অন্যায় হয়নি, এমন না। একেকজন তার ট্রমা একেকভাবে প্রসেস করে।
১২. সবচেয়ে বড় কথা, মেয়েদের সম্মান করতে শেখ শুধু তোর মা, বোন, স্ত্রী কিংবা মেয়ের পরিচয়ে নয়, একজন মানুষ হিসেবে। কারণ নারীর প্রতি সম্মান শেখার জন্য তার সঙ্গে আত্মীয়তা থাকা লাগে না।



পাঠকের মন্তব্য