নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্ন কে না দেখে! তবে সেই স্বপ্নের প্রচার যদি স্বপ্নদ্রষ্টা নিজেই ঢাকঢোল পিটিয়ে করতে থাকেন, আর শেষমেশ পুরস্কারটা অন্য কারও হাতে চলে যায়, তখন মনের অবস্থা কেমন হয়? সেটা জানতে হলে আপাতত ডোলান ট্রামের দিকে তাকানো যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম যোগ্য দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান ট্রাম। বিশ্বশান্তির খাতায় নিজের নাম লেখানোর জন্য তাঁর আত্মপ্রচারের কমতি ছিল না। কিন্তু এত প্রচার, এত প্রত্যাশা, এত আত্মবিশ্বাসের পরও নোবেল কমিটির মন গলল না। পুরস্কার চলে গেল দক্ষিণ আফ্রিকান আইনবিদ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাইয়ের হাতে।
ব্যস! এতেই বেজায় চটেছেন ট্রাম। যার হাতে বিশ্বশান্তির ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকার কথা, তাঁর নিজের মনেই শান্তি নেই। নোবেল কমিটির প্রতি ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নোবেল পুরস্কারকে আখ্যা দিইয়েছেন ‘টক’ বলে। এখন প্রশ্ন হলো, নোবেল পুরস্কার আবার টক হয় কীভাবে? পুরস্কারটি কি লেবু দিয়ে বানানো, নাকি কমিটির সদস্যরা গোপনে তেঁতুলের আচার তৈরি করেন? বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যখন তুমুল কৌতূহল, তখন ট্রাম নিজেই জানালেন, এই টক ইংরেজি ‘টক’ নয়, বাংলা ‘টক’। অর্থাৎ, নোবেল পুরস্কার এবার তাঁর কাছে রীতিমতো আচার-অনুভূতির বিষয়!
এখানেই শেষ নয়। শেয়াল-আঙুরের সেই বহুল প্রচলিত গল্পের সঙ্গে নিজের তুলনা টানতে নারাজ ট্রাম। তাঁর বক্তব্য, তিনি সেই শেয়াল নন, যিনি আঙুর খেতে না পেরে আঙুরকে টক বলেন। বরং তিনি নোবেলকে ‘মেটাফরিক টক’ হিসেবে বুঝিয়েছেন। ট্রাম ভাইয়ের এমন ব্যাখ্যায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলেছেন, বাহ! কী চমৎকার ব্যাখ্যা! সাধারণ মানুষ পুরস্কার না পেলে বলে, ‘মনটা খারাপ।’ কেউ বলে, ‘কমিটি ঠিক বিচার করেনি।’ আর ট্রাম একেবারে রূপকতত্ত্বের দরজা খুলে দিলেন। তাঁর কাছে নোবেল এখন আর পুরস্কার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের এক বৌদ্ধিক আচার।
তবে একটু ভাবলেই দেখা যায়, ট্রামের যুক্তিতে বেশ গভীর দর্শন লুকিয়ে আছে। যে পুরস্কার তাঁকে পেল না, সেই পুরস্কারেরই দুর্ভাগ্য হয়েছে, এমন আত্মবিশ্বাস সচরাচর দেখা যায় না। পৃথিবীতে মানুষ সাধারণত পুরস্কার পাওয়ার জন্য নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে। ট্রাম যেন উল্টো পথে হাঁটছেন: পুরস্কারকেই প্রমাণ করতে হবে যে সে তাঁকে পাওয়ার যোগ্য ছিল। এদিকে এসব আলোচনায় এখন নোবেল কমিটির সামনে তৈরি হয়েছে এক নতুন সংকট। এত দিন তারা ভাবত, কাকে পুরস্কার দেওয়া যায়। এখন থেকে হয়তো ভাবতে হবে, কাকে পুরস্কার না দিলে পুরস্কারটিরই দুর্ভাগ্য হবে না।


