বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুঃসংবাদ। যারা সপ্তাহে দুদিন ছুটি পান, তাদের ছুটি এক দিনে নেমে আসতে পারে। দিনে ১০ ঘণ্টা কাজ করেন, সপ্তাহে এক দিন ছুটি; তাদের অবস্থা আগের মতোই থাকবে।
সরকার যে বিধিমালা করতে যাচ্ছে, তার খসড়া কপি পেয়েছি। এখনো দিনে ১০ ঘণ্টার চাকরি ও সপ্তাহে এক দিন ছুটি থেকে গেল।
খসড়ায় ভালো-খারাপ দিক দুটোই আছে। খারাপই বেশি।
কর্মঘণ্টা ও ছুটি:
১. প্রথম লাইনে বলা হয়েছে, কর্মঘণ্টা দিনে ৮ ঘণ্টা ও সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা হবে। দিনে ৮ ঘণ্টা করে অফিস করলে ৬ দিন অফিস। যারা ৫ দিন অফিস করতে চান, তাদের দিনে সাড়ে ৯ ঘণ্টার বেশি করতে হবে ৪৮ ঘণ্টা পূরণ করতে।
২. এবার বলছে, প্রতিষ্ঠান তার প্রয়োজনে যে কাউকে অতিরিক্ত কাজ করাতে পারবে। সেটা সপ্তাহে হবে ৬০ ঘণ্টা। প্রথম লাইনের কোনো মানে থাকল না। দিনে ১০ ঘণ্টাই ডিউটি। অফিসের প্রয়োজন পড়বে—এই ফাঁক রেখে দেওয়া হলো।
৩. বছরে ১৩ দিন উৎসব ছুটি। দুই ঈদে ১০ দিন পাওয়ার পাশাপাশি পূজা, পয়লা বৈশাখে ছুটি পাবেন। ১০ দিন ক্যাজুয়াল লিভ, ১৪ দিন সিক লিভ। ১৮ দিন কাজ করলে এক দিন আর্নড লিভ জমা হবে।
চাকরি ছাড়ার পর সুবিধা:
১. কোম্পানিতে গ্র্যাচুইটি সুবিধা না থাকলে পাবেন না। বাধ্যবাধকতা নেই। গ্র্যাচুইটি শব্দটাই বেসরকারি চাকরিজীবীরা বোঝেন না। গ্র্যাচুইটি হলো বছরে দেড়টা বেসিক বা মূল বেতন। ১০ বছরের বেশি চাকরি করলে চাকরি ছাড়ার সময় এটা পাওনা হতেন। কিন্তু এখানে পরে গ্র্যাচুইটির কথা আসেনি আর। যদি প্রদেয় বলে ফাঁক রেখে দিয়েছে।
গ্র্যাচুইটিই বেসরকারি চাকরিজীবীর শেষ বয়সের মূল অবলম্বন। যেহেতু পেনশন নাই।
২. প্রভিডেন্ট ফান্ডেরও বাধ্যবাধকতা নেই। তখনই এটা কার্যকর হবে, যদি প্রতিষ্ঠানের দুই-তৃতীয়াংশ লিখিতভাবে মালিককে আবেদন জানায়।
৩. পেনশন কোনো কালেই ছিল না। এবার বলা হয়েছে, সরকারের প্রগতি স্কিমে যেতে পারে কোম্পানি। প্রগতি স্কিম তখনই বেটার অপশন, যদি মাসিক চাঁদার অর্ধেকটা সত্যি সত্যি কোম্পানি বহন করে। বেশির ভাগ কোম্পানি করবে না।
আইনের খসড়াটি পড়ে হতাশ হয়েছি। বর্তমান বাস্তবতায় দিনে ১০ ঘণ্টা আর সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করা অমানবিক। এ নিয়ে আমি ১৮ বছর ধরে লিখছি। সাংবাদিক থাকার সময়ও লিখেছি।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটা আইনি সুরক্ষা পেতে ৫৫ বছর লাগল। এটি পাস হয়ে গেলে জানি না আগামী ৫৫ বছরেও বদলাবে কি না।
এর আগে শ্রম আইন ২০০৬ করেও লাভ হয়নি। তার ফাঁকফোকর বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা দেয় না। এ জন্যই নতুন করে বিধিমালা করতে হচ্ছে সরকারকে। এখানে ফাঁক আরও বেশি।
দেশের মোট চাকরিজীবীর ২ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবী। পে স্কেলের নিয়ম-কানুন আমলারাই বানান। সরকার তাতে সই করতে বাধ্য হয়। বাকি ৯৮ শতাংশের দাবি-দাওয়া দেখার কেউ নাই।
সবচেয়ে হতাশার, প্রাইভেট সার্ভিস রুল করার বদলে সরকার প্রবিধানমালা দিয়ে কাজ সারছে। ৩ কোটি বেসরকারি চাকরিজীবীর গুরুত্ব কতটা, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।



পাঠকের মন্তব্য