ফোনের রিং বেজেই চলেছে।
নাহ, না ধরলে বোধহয় এ রিং থামবে না।
সে কী, এ সময় বস কেন ফোন দিলেন!
– হ্যালো? স্যার?
– কী? কয়টা বাজে?
স্যারের কাছে কি টাইম দেখার মতো কিছু নেই? আমাকে ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে জিজ্ঞাসা করা লাগে? স্যার বলে কথা, টাইম বলার জন্য ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি দশটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি! জিভে হঠাৎ আড়ষ্টতা চলে এল। আজ তো অফিস খোলা।
এই তো স্মৃতিশক্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে। শার্প দশটার আগে আমার অফিসে পৌঁছোনোর কথা ছিল।
হালকা তোতলাতে তোতলাতে বললাম, স্যার! ভালো আছেন?
স্যার ঝড়ের বেগে আমি যেন ১০ টার মধ্যে অফিসে পৌঁছে যাই– এমন কথা বলে ফোন কেটে দিলেন।
বেচারা মিঃ বিনের দৌড়াতে দৌড়াতে ব্রাশ খোঁজা, জামা পরাটার সেই ঐতিহাসিক গতিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে মোটামুটি উল্কার বেগে কিভাবে কিভাবে যেন অফিসে ২০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম। উঁকিঝুঁকি দিয়ে স্যার ডেস্কে আছেন কিনা নিশ্চিত হয়ে মুখ কালো করে ঢুকেই স্যারকে বললাম, ফোন যখন স্যার দিলেনই আরো ২০ মিনিট আগে তো দিতে পারতেন! তাহলে এমন দেরি হত না।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে কী কী পারমাণবিক বোমা ব্যবহৃত হয়েছে জানিনা তবে স্যার এই মুহূর্তে যে দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছেন সেটা কোনোভাবে পারমাণবিক চুল্লিতে নেয়া গেলে খুব উচ্চ মানের পারমাণবিক বোমা তৈরি করা যেত! রূপপুরের কথাটা কি এখন বলা ঠিক হবে? জান বাঁচাতে স্লো মোশনে মাইকেল জ্যাকসনের মতো মুন ওয়াক করে যেই না বেরিয়ে যাবো, স্যার ধমক দিয়ে একগাদা ফাইল ধরিয়ে দিয়ে বললেন, আজ এগুলা শেষ করে যেতে হবে By hook or by crook!
জীবনটা বড় দুঃখের!
মাস শেষে কিছু অর্থ দেয় বলে আজ কত কী করাচ্ছে! অথচ আমি চেয়েছিলাম জীবনে অন্যকিছু। দিনে ২০-৩০ কাপ চা, পার্টি, দাওয়াত আর ঘোরাঘুরি। কিন্তু না–মাসিক এই অর্থের বিনিময়ে তাদের চাই কাজ!
আমাদের দেশে হবে সেই অফিস কবে,
কাজে না বড় হয়ে…..লাইনটা শেষ করার আগেই চোখ পড়লো ঘড়িতে; হায় হায়! রাত ৭:৫৯ বাজে। সন্ধ্যায় আমার একমাত্র বফের সাথে দেখা করার কথা ছিল। ফোনও সাইলেন্ট করা! কী কী ঝড় যাচ্ছে ফোনের মধ্যে কে জানে! স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি পপআপে উঠে আসা সর্বশেষ মেসেজ, ‘আটটা বাজে দেরী করিস না!’ তুই-তোকারি শুরু করে দিয়েছে–নয় নম্বর বিপদ সংকেত! এদিকে অফিসে লোকজন প্রায় সবাই চলে গিয়েছে। মাথার ঘাম সারা ডেস্কে ফেলে কাজ মোটামুটি গুটিয়ে দৌড়ে রওয়ানা দিচ্ছি, হঠাৎ দেখি বসের রুমে এখনো বাতি জ্বলছে। মানুষটা কি বাতি বন্ধ না করেই চলে গেল? দরজার কাছাকাছি গিয়ে বুঝলাম বস বসে আছেন, টেলিফোন কানে।
আড়িপাতার ইচ্ছে ছিল না কিন্তু পৃথিবীতে অনেক ইচ্ছেতেই মানুষের হাত থাকে না।
শুনলাম বস কাচুমাচু স্বরে বলছেন, স্যরি বস! আজকের মত লেইট এন্ট্রি আমার আর হবে না। আপনার কথা মতো কাজগুলো সব শেষ করেছি by hook or by crook!



পাঠকের মন্তব্য