ভালোবাসা যত বড়, জীবন-মোহ তত বড় নয়!
হ্যাঁ, নিজের জীবনের প্রতি মায়া-মোহ ত্যাগ করে ভালোবাসার টানে পুরো বোয়িং কোম্পানি কিনতে যাচ্ছেন ঢাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবক বারেক।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বারেক লেখেন,
একবার আবদার করে দেখ, সাদিয়া,
সমস্ত বোয়িং উড়োজাহাজ তোমার জন্য নিয়ে আসব।
আগুনের ফুলকির মতো ভাইরাল হয়ে যায় বারেকের স্ট্যাটাস। কমেন্ট বক্স ছেয়ে যায়, কে এই সাদিয়া? কীভাবে পরিচয়? ভাই, সত্যি নাকি?
ইয়ার্কির এক সবুজ সাংবাদিক অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, বারেকের সঙ্গে সাদিয়ার পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে। এরপর ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইমোতে।
ভালো লাগা গাঢ় হয়ে একদিন ভিডিও কলে পৌঁছায়। সেদিন সাদিয়া বারেককে বলেন,
বাসার ওপর দিয়ে যখন এরোপ্লেন উড়ে যায়, আমি দৌড়ে জানালার কাছে যাই। ভাবি, আমার যদি একটা থাকত!
এই একটি বাক্যই মোড় ঘুরিয়ে দেয় মধ্যবিত্ত বারেকের জীবনের।
সাদিয়াকে চমকে দিতে হবে।
বারেক তৎক্ষণাৎ সাদিয়াকে ট্যাগ করে সেই ঐতিহাসিক স্ট্যাটাস দিয়ে দেন।
এমন খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণের মধ্যে। উত্তরার সিলভিয়া কমেন্ট করেছেন, উয়াও! ভালোবাসা আমার ঘরে বারেক হয়ে নেমে আসুক।
গুলশানের শোভন লিখেছেন, ব্রাভো, বারেক ব্রো!
তবে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বারেকের আত্মীয়স্বজনের মাঝে। তাঁর দূরসম্পর্কের এক চাচা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আমি সেদিন ২০০ ট্যাকার ফ্লেক্সি চাইছিলাম। আমারে কয়, কাকাগো, সকালে না খাইয়া রইছি। এখন দিতে পারমু না। বেইমানের বেইমান!
সবশেষে আমাদের প্রতিনিধি গিয়েছিলেন বারেকের মনের কথা শুনতে।
লজ্জাবনত চোখে আমতা আমতা করে বারেক বলেন,
সাদিয়ার আবদারের কাছে টাকা-পয়সা আমার কাছে কিছুই না, ত্যাজপাতা! বিমান কেনার জন্য আমি কাজ শুরু করে দিয়েছি। এই বছর একটা, আগামী বছর দুইটা, এভাবে কিস্তিতে কিস্তিতে কিনব!
কথা শেষ করে বারেক হঠাৎ আমাদের প্রতিনিধির দিকে তাকিয়ে বলেন,
ভাই, চা খাবেন? না খাইলে চলেন, খাই। বিলটা দিয়েন শুধু, ভাই!


