সরকারি চাকরিজীবীর বেতন বাড়লেই কেন গরিব হয় বেসরকারি চাকরিজীবী

৫০৯ পঠিত ... ১৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে

পৃথিবীর নিয়মকানুন আসলে বেশ সিম্পল। যার আছে, তাকে আরও দাও। আর যার নাই, তার থালাবাটিটাও কাইড়া নাও, তারপর ব্যালেন্স শিট মিলাও।

নতুন পে স্কেল হইলো, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লো। ভালো কথা। মানুষের বেতন বাড়বে, মানুষ ভালো থাকবে, এতে সমস্যা কী? সমস্যা অন্য জায়গায়।

সরকারি অফিসের এসি রুমে যখন বেতন বাড়ার খুশি, তখন বেসরকারি চাকরিজীবী নামের এক বিশাল জনগোষ্ঠী সপ্তাহে ছয় দিন অফিসে গাধার মতো খাটতেছে, আর তাদের বেতন সেই আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। বাজার কিন্তু সরকারি আর বেসরকারি দেখে না ভাই। আলু বিক্রেতা আপনাকে জিজ্ঞেস করবে না, আপনি সরকারি চাকরি করেন নাকি প্রাইভেট? সে সোজা বলবে, বাজারে টাকা বাড়ছে ভাই, আলু ৫০ টাকা কেজি।

তারপর কী হবে?

যে মানুষটা ৩০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে মোটামুটি মধ্যবিত্ত হওয়ার চেষ্টা করতেছিল, সে হুট করে দেখবে ৩০ হাজার টাকা নিয়েই সে নিম্নবিত্তের দিকে নামা শুরু করছে। কোনো আবেদন, পরীক্ষা বা প্রমোশন ছাড়া। বেসরকারি চাকরির আবার নিজস্ব এক আজব অর্থনীতি আছে। কোম্পানি লাভ করলে বলে, বাজার খারাপ, গ্লোবাল রিসেশন, এখন সবাইকে স্যাক্রিফাইস করতে হবে। আর কোম্পানি সত্যি সত্য খারাপ করলে বলে, চাকরি আছে, এটাই তো তোমার ভাগ্য!

মানে লাভ হলেও বেতন বাড়বে না, লস হলেও বেতন বাড়বে না। মাঝখানে আপনি শুধু শনি থেকে
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কিবোর্ড পিটাইবেন। তারপর বাজারের দাম বাড়বে, বাসাভাড়া বাড়বে, বাসভাড়া বাড়বে। বাড়িওয়ালা শুনবে বেতন বাড়ছে, কনডাক্টর শুনবে মানুষের হাতে টাকা আসছে। কিন্তু আপনার হাতে? সেই পুরান শুকনা মানিব্যাগ।

এভাবে জীবনযাত্রার মান একটু একটু করে নামতে নামতে এমন জায়গায় যাবে, যেটাকে অবনমন বললেও কম বলা হয়। একদম প্যারাসুট ছাড়া ওপর থেকে পড়ার মতো। যে মানুষটা আগে মাসে দুই দিন পরিবার নিয়ে বাইরে গিয়ে এগরোল খেত, সে এখন বসে হিসাব করবে, বাচ্চার টিফিনে একটা ডিম কম দিলে হয়তো বাড়িভাড়ার বাড়তি টাকাটা ম্যানেজ করা যাবে। ট্র্যাজেডি হলো, মানুষ সবকিছুর সাথেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহ পর এই বৈষম্যও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হয়ে যাবে। সরকারি বেতন বাড়বে, বাজার বাড়বে, আর বেসরকারি চাকরিজীবীর বেতন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবে।

কিন্তু আসল ক্ষতিটা হবে অন্য জায়গায়।

মানুষের জীবন থেকে আগে যাবে বিনোদন। তারপর ভালো খাবার। তারপর একটু ঘুরতে যাওয়া। তারপর বই কেনা, সিনেমা দেখা, বন্ধুদের সাথে বসা। শেষে থাকবে শুধু অফিস, বাসা, বাজার আর টেনশন। ছয় দিন খেটে মাসের শেষে যখন একজন মানুষ বুঝবে তার পুরো মাসের পরিশ্রম বাজারে গিয়ে তিন কেজি মাংস আর দুই লিটার তেলের মতো গুরুত্ব রাখে, তখন তার নিজের ওপর থেকেই বিশ্বাস উঠে যেতে শুরু করবে। সে ভাববে, এত খেটে লাভ কী?

তারপর সমাজ আস্তে আস্তে দুই ভাগে ভাগ হবে। একদল আছে, যাদের জীবনযাত্রার খরচ বাড়লে নির্দিষ্ট সময় পর রাষ্ট্র বেতন বাড়িয়ে দেয়। আরেকদল আছে, যারা সপ্তাহে ছয় দিন খেটেও বাজারে গিয়ে প্রতিদিন একটু একটু করে গরিব হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, দ্বিতীয় দলটাই সংখ্যায় অনেক বেশি।

রাষ্ট্র আর বাজার মিলে হয়তো ঠিক করেছে, বেসরকারি চাকরিজীবীদের দিয়ে সার্কাসের রিং লাফানো চলবে।

কিন্তু হাতে কলা দেওয়া যাবে না।

কারণ কলা দিলে যদি তারা ভুল করে নিজেদের মানুষ ভাবতে শুরু করে!

৫০৯ পঠিত ... ১৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top