১
আজ ২ সেপ্টেম্বর। আজ বিশ্ব নারকেল দিবস। নারকেল নিয়ে আমাদের বাঙালিদের আছে এক আলাদা ভালোবাসা। যেকোনো উৎসবের পিঠাপুলি, পিঠা-পার্বণ কিংবা মিষ্টিতে নারকেল একটু না দিলে চলেই না! আবার অসুস্থ হলেও ডাবের পানি লাগবেই লাগবে। এর বাইরেও কিন্তু বিশ্বজুড়ে আছে নানা নারকেলীয় ঘটনা। দেখেন তো, এর মধ্যে কয়টা জানেন?
নারকেল নাকি কোনো ফল না! উদ্ভিদবিজ্ঞান বলতেছে, আমরা যেটা খাই, সেটা নাকি একটা বিশাল বীজ! আয় হায়রে!
তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
নারকেল এইটা করল কী?
২
নারকেল নিজেই এক লাইফ জ্যাকেট। টাইটানিক ডুবে গেলেও নারকেল পানিতে ডোবে না। নারকেলের ভেতরের হাওয়া এবং হালকা আঁশ বা ছালের কারণে এটি পানিতে ভেসে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিতে পারে। এমনকি মাসের পর মাস সাগরে ভেসেও এর ভেতরের বীজটি ভালো থাকে এবং নতুন কোনো চরে গিয়ে নতুন গাছ হয়ে জন্মাতে পারে।
তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি
৩
নারকেলের পানি প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিঙ্ক! আবার স্যালাইন হিসেবেও দারুণ কাজ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জরুরি প্রয়োজনে স্যালাইনের বিকল্প হিসেবে নারকেলের পানি সরাসরি রোগীদের শিরায় ব্যবহার করা হয়েছিল! নারকেলের পানি প্রাকৃতিকভাবেই বিশুদ্ধ এবং এতে প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট থাকে।
তথ্যসূত্র: The American Journal of Emergency Medicine
৪
নারকেল গাছকে নরমালি নিরীহ লাগলেও আসলে কিন্তু তা না! একটি পূর্ণাঙ্গ নারকেল ওপর থেকে নিচে পড়লে তার গতি ও ওজন মিলিয়ে যে আঘাত সৃষ্টি হয়, তা মারাত্মক হতে পারে। কথিত আছে, প্রতি বছর হাঙ্গরের কামড়ে যত মানুষ মারা যায়, তার চেয়ে বেশি মানুষ নারকেল মাথায় পড়ে মারা যায়!
তথ্যসূত্র: The Journal of Trauma
৫
এবার আসেন, কয়েকটা নারকেল নিয়ে গিনেস রেকর্ড জানি।
ভারতের কে. বি. বিশ্বনাথন মাত্র ১ মিনিটে মাথা দিয়ে ৮৫টি নারকেল ভেঙে গিনেস রেকর্ড গড়েছেন! এদিকে ভারতেরই আরেক ব্যক্তি, এ. ভি. সুরেশ মাত্র ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ডে নিজের দাঁত দিয়ে ৬টি নারকেলের শক্ত ছোবড়া ছাড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড তৈরি করেছিলেন।
১ মিনিটে হাত দিয়ে সবচেয়ে বেশি নারকেল ভাঙার রেকর্ডটি জার্মানির মুহাম্মদ কাহরিমানোভিচের। তিনি মাত্র ৬০ সেকেন্ডে ১৪৮টি নারকেল খালি হাতে ভেঙে ফেলেছিলেন!
তথ্যসূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস
৬
নারকেলের ইংরেজি নাম Coconut এসেছে ১৬ শতকের পর্তুগিজ শব্দ Coco থেকে। যার অর্থ ‘হাস্যকর মুখ’ বা ‘ভূত’। নারকেলের নিচে তিনটি কালচে দাগ দেখলে মনে হয় দুটি চোখ আর একটি হা করা মুখ—সেই চেহারা দেখেই নাবিকরা এর নাম রেখেছিলেন ‘কোকো’!
তথ্যসূত্র: অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি
জেরির চোখমুখ যখন নারকেলের সেই তিনটা কালো দাগ
৭
নারকেলের ছোবড়া কিন্তু চাঁদেও গেছে, ভ্রমণ করেছে মহাকাশে। কীভাবে?
অ্যাপোলো মহাকাশ অভিযানে নভোচারীরা যে থার্মাল ইনসুলেশন বা তাপ-নিরোধক পোশাক ও কভার ব্যবহার করেছিলেন, তার ভেতরে অত্যন্ত হালকা ও সহনশীল স্তর হিসেবে নারকেলের আঁশ ও প্রক্রিয়াজাত ছোবড়া ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়াও নারকেলের ছাল দিয়ে তৈরি অ্যাক্টিভেটেড কার্বন বা চারকোল এতটাই সূক্ষ্ম যে এটি নাসা (NASA) তাদের স্পেসস্যুট এবং এয়ার ফিল্টারে বাতাস বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করে।
তথ্যসূত্র: নাসা
৮
এদিকে নারকেল কিন্তু সিনেমার সাউন্ড তৈরির কাজেও লাগত। পুরোনো দিনের রেডিও নাটক বা সিনেমায়, যেমন বিখ্যাত Monty Python and the Holy Grail-এ, ঘোড়ার খুরের শব্দ তৈরি করার জন্য সত্যিই কোনো ঘোড়া আনা হতো না।
দুটি ফাঁপা নারকেলের খোসা একের পর এক মাটিতে ঠুকে ঘোড়ার দৌড়ানোর নিখুঁত শব্দ তৈরি করা হতো, যা এখনও সাউন্ড ডিজাইনে বহুল ব্যবহৃত একটি কৌশল!
তথ্যসূত্র: বিবিসি একাডেমি
৯
বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারকেলের কেকটি তৈরি হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ায়। ২৬,০০০টিরও বেশি নারকেল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল এই ‘কোকোনাট কেক’, যার ওজন ছিল প্রায় ৪,০০০ কেজির বেশি!
বাপরে বাপ! এটা শেষ করতে কতজন মানুষ লেগেছিল, কে জানে!
তথ্যসূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস





পাঠকের মন্তব্য