বেতন স্কেল তো বাড়ল, ঘুষের স্কেল কবে বাড়বে? — সরকারি কর্মকর্তা

৩৭ পঠিত ... ১৮ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে

 


সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানোর খবরে যেখানে সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল, এবার বুঝি সরকারি চাকরিজীবীদের মুখে হাসি ফুটবে, সেখানে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। বেতন বাড়লেও খুশি হতে পারছেন না অনেক কর্মকর্তা। বরং তাদের চোখেমুখে দেখা গেছে গভীর উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বেতন স্কেল তো বাড়ল, ঘুষের স্কেল কবে বাড়বে? তিনি আরও বলেন, বেতন বাড়িয়ে কী লাভ? বাজারের যে অবস্থা, তাতে শুধু বেতনের টাকায় সংসার চালানো এখন প্রায় বিলাসিতা। ঘুষের বাজারেও তো মূল্যস্ফীতি হয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ঘুষের স্কেল বাড়েনি। এটা তো এক ধরনের বৈষম্য!

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে একজন কর্মকর্তাকে ঘুষ গ্রহণের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে নাগরিকদের বাড়তি দরকষাকষি, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নাকি ‘অত্যন্ত প্রতিকূল’। আগে যে কাজের জন্য একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক নেওয়া যেত, এখন সেই টাকা দিয়ে অফিস পর্যন্ত যাতায়াতের খরচও ওঠে না। অথচ জনগণ এখনও পুরোনো রেটের কথা মনে করে বসে আছে। এভাবে চললে আমরা কীভাবে টিকে থাকব?

এদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকায় একটা বাড়ি, দুই-চারটা ফ্ল্যাট, গাড়ি-বাড়ি, এসব দিয়ে কি আর আধুনিক জীবন চলে? সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াতে হয়, বিদেশে পাঠাতে হয়, সামাজিক মর্যাদা বজায় রাখতে হয়। মানুষের প্রত্যাশাও তো বেড়েছে! তাই সরকারের কাছে তার বিশেষ আবেদন, শুধু বেতন স্কেল নয়, দ্রুত একটি ‘জাতীয় ঘুষ স্কেল’ প্রণয়ন করা হোক। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, পদমর্যাদা, দপ্তরের গুরুত্ব, ফাইলের জটিলতা এবং সেবাগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে ঘুষের একটি বৈজ্ঞানিক ও যুগোপযোগী হার নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে অন্তত সবাই একটা নিয়মের মধ্যে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কেউ কম নেবে না, কেউ বেশি নেবে না। দেশের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও বজায় থাকবে।

৩৭ পঠিত ... ১৮ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে

Top