ঘুষখোরদের হোমাসা করতে এলো যে সাইট

পঠিত ... ১ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে

 

 

আগে ঘুষ দিতে হতো চুপিচুপি। ঘুষদাতা এবং গ্রহীতা দুজনেই পুরো কাজটাই সেরে ফেলতেন গোপনে। তবে সেদিন বোধহয় ফুরুলো। কারণ দুই তরুণের উদ্যোগে চালু হওয়া নতুন ওয়েবসাইট ‘GhushSite’ এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ মানুষ পরিচয় গোপন রেখে জানাতে পারবেন।

সাইটটি চালু হয়েছে ২১ আগস্ট। ধারণাটা বেশ সোজা। কোন দপ্তরে, কোন সেবার জন্য, আনুমানিক কত টাকা চাওয়া হয়েছে, কোথায় ঘটনাটি ঘটেছে এবং শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে, এসব তথ্য বেনামে জমা দেওয়া যাবে। কোনো অ্যাকাউন্ট, নাম, ইমেইল বা ফোন নম্বরও লাগবে না।

তারপর সেই তথ্য আবার ম্যাপে দেখা যাবে। ফলে দেশের দুর্নীতিরও একটা ভূগোল তৈরি হচ্ছে। আগে মানচিত্রে জেলা, নদী আর পাহাড় দেখতাম; এখন কোথায় কত টাকার ‘অতিরিক্ত সৌজন্য’ চাওয়া হয়েছে, সেটাও দেখা যাবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাবে GhushSite-এ ৪৫৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে কথিত ঘুষের মোট পরিমাণ ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ঢাকায় ২৫৪টি রিপোর্ট, চট্টগ্রামে ৯৮টি। এরপর সিলেট ২৪, রাজশাহী ও খুলনায় ২২টি করে, ময়মনসিংহে ১৬, রংপুরে ১৫ এবং বরিশালে ৭টি।

মানে, ঘুষেরও একটা জাতীয় পরিসংখ্যান তৈরি হচ্ছে। পার্থক্য শুধু, ক্রিকেটে যেমন স্কোরবোর্ড দেখে কে কত রান করেছে বোঝা যায়, এখানে স্কোরবোর্ড দেখে বোঝা যাবে কোথায় মানুষ কত টাকা দিয়ে ‘সেবা’ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

তবে উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য অবশ্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা নয়। বরং বিভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা এক জায়গায় জমা করে ঘুষের পুনরাবৃত্ত ধরণ বা প্যাটার্ন বোঝা। কারণ একজন হয়তো বললেন, ‘আমার লাইসেন্সে ১০ হাজার টাকা লেগেছে।’ এটা একটা ঘটনা। কিন্তু একই অফিস নিয়ে ৪০ জন একই রকম অভিযোগ করলে সেটা আর নিছক ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য থাকে না, তখন একটা প্যাটার্ন দেখা যায়।

আর এখানেই সাইটটির আসল মজাটা। আগে ঘুষের হার জানতে হতো অফিসে গিয়ে। এখন হয়তো অফিসে যাওয়ার আগেই অনলাইনে দেখে নেওয়া যাবে সরকারি সেবার আসল ফি কত।

তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ‘কিন্তু’ আছে। GhushSite-এ প্রকাশিত অভিযোগগুলো ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য। এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা নয়। সাইটটির স্বয়ংক্রিয় moderation ব্যবস্থা ব্যক্তিগত তথ্য, ফোন নম্বর, NID বা ফাইল নম্বরের মতো শনাক্তকারী তথ্য সরানোর চেষ্টা করে; কিন্তু অভিযোগটি সত্যি কি না, সেটি যাচাই করে না।

অর্থাৎ এটি privacy filter, truth detector নয়। তাই কোনো অভিযোগ দেখেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং সাইটটিও নিজেকে কোনো সরকারি অভিযোগ কর্তৃপক্ষ হিসেবে নয়, একটি ‘awareness ledger’ হিসেবে দেখছে।

তারপরও উদ্যোগটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ঘুষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটা সাধারণত অদৃশ্য থাকে। একজন ৫০০ টাকা দিলেন, আরেকজন ১,০০০ টাকা দিলেন, দুজনই বাসায় ফিরে ভাবলেন, আমার সঙ্গেই বোধহয় এমন হলো।

GhushSite এসে সেই ব্যক্তিগত দীর্ঘশ্বাসগুলোকে ডেটায় পরিণত করার চেষ্টা করছে। উদ্যোক্তাদের ভাষায়, এতদিন সবাই জানত বাংলাদেশে ঘুষ আছে, কিন্তু কেউ সংখ্যাটা জানত না। এখন অন্তত সেই অদৃশ্য ব্যাপারটারই একটা হিসাব রাখার চেষ্টা শুরু হলো।

পঠিত ... ১ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে

Top