মশার কাছে সাংবাদিক গেছে সাক্ষাৎকার নিতে। নানা প্রশ্নের পর সাংবাদিক মশারে জিজ্ঞেস করল-
মশা কামড়ালে মানুষের শরীরে ডেঙ্গু জীবানু ঢোকে কেন?
মশা- আরে ভাই কন কি? মশায় কি শুধু লইয়াই যাইব? কিছু দিব না? মশায় এত অকৃতজ্ঞ না!
আইজ মশা দিবসে ওই জোকটা মনে পড়ল! দুইন্যায় আর কুনো কাম-কাইজ তো নাই-কি আর করতো! অহন রক্তচোষাগো লিগ্যাও ক্যালেন্ডারে দিন ফিক্স করন লাগে! রস নামের এক ব্যাডায় নি এইদিনে খুঁইজ্যা পাইছে যে বেডি মশায় রক্ত খায়! হেইয়ার পরে ম্যালেরিয়া হয়! কতা হাছাই হইব! লেডিসগো কামই তো হুদাই কামড়ানি! আমরা বেডারা এক্কারে ভালা, কোনদিকে চাই না। বেডা মশাডি তো আরও ভালা-ভেজিটারিয়ান!
কিন্তু কথা অন্যহানে। এক মশা কামড়াইলো- ম্যালেরিয়া অইল, হেইত্থনে মশা দিবস বাইরাইলো। কিন্তু পরে যে মশাডি আইয়া কামড়াইলো আর অন্য রোগ হইল, হেডির দিবস? যেমুন ধরেন, ডেঙ্গু! অ! কইতে মনে নাই। এডার সঠিক নাম বলে ডেঙ্গি, ডেঙ্গু না! নামে কী আহে যায় কন? ডেঙ্গি হউক আর ডেঙ্গুই হউক, কাম তো সাইরা ফালাইতাছে! ২০২৩ সাল আছিলো ডেঙ্গুর বছর! ১০৭৫ জন মানুষ মরছে ডেঙ্গুতে, যার ১০-১২% শিশু! তারপরও কিন্তু এই বায়োস্কোপ বন্ধ হয়নাই। ২০২৪ এও প্রতি ১০০০ জনে ৫.৫ জন মানুষ গেছে গড়ে! ২০২৫-২৬ সালে ডেঙ্গু তার তান্ডব কিছু কমাইছে! ‘২৬ এ আইসা সেই জায়গা নিছে হাম! চারিদিকে হামের হাহাকার!
আবার ধরেন, চিকনগুনিয়া! নাম যেমন চিকুন, বেদনাও তেমউন দ্বিগুণ! একবার ধরতে পারলে হইছে, হাড্ডি-গুড্ডির নান্ডি ফটাশ!
আমগো দ্যাশ এমনিতেই হইতাছে হাম, মশা এডির লাস ভেগাস! আইলে আর যাইতে মন চায় না। আইজ এরে ধরলাম তো কাইল তারে ধরলাম। আনলিমিটেড মাস্তি! না আছে দেহনের কেউ, না আছে ধরনের কেউ!
রস ভাই বাংলাদেশে থাকলে আজকে টাশকি খায়া যাইতেন। হের রস সব বাইরাইয়া যাইত! এত মশা আর এত ভ্যারাইটির মশা! হেডির টেকনোলজিও তো মারহাবা! দেইখ্যা হের ব্রেইন মশার কয়েলের মত পেঁইচ্যা যাইত।
তা এত কথা যে কইতাছি, এর কিন্তু কারন আছে। ম্যালেরিয়া আসার কারনে আইজ দিবসটা শুরু হইছিলো। এহন ম্যালেরিয়া আর তেমন শোনা যায় না। কিন্তু তাতে জানি ঢিল না পড়ে ভাই! ডেঙ্গি আইজ নাই, কাইল আবার ফাল দিয়া ঘাড়ে উঠতেই পারে!
তাই ভাই, মশা যেডাই হউক, মশা দিবস থেকেই মশার ব্যাপারে সাবধান হই। যাতে হামের মত মহামারি না অইতে পারে। জীবন যহন আমাগো, ব্যবস্থাও আমাগোই করন লাগব। বুঝছেন না?



পাঠকের মন্তব্য