ডিপ্রেশন থেকে ভিনসেন্ট গঁগের যে ছবির সৃষ্টি...

১২ পঠিত ... ৯ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে

১.

হাসপাতালের বিছানায় পাতা সাদা চাদর। কিন্তু সাদা আর নেই। ছিটে ছিটে রক্তের কালচে দাগ। কান-ঘেরা শক্ত ব্যান্ডেজের নিচে রি-রি করা ব্যথা! ভিনসেন্টের চোখ দুটো খোলা। কিন্তু সে চোখ যেন কোন দূরে! 

দিনকয়েক আগের ছবিটাই মনের চোখে। বন্ধু পল গঁগ্যার সাথে অসহ্য তর্কাতর্কি! কিন্তু এবার যেন সব বাধা ভাঙ্গল। গঁগ্যা বললেন,

: আর নয় ভিনসেন্ট! আমি প্যারিস চলে যাব!

ভিনসেন্টের দুনিয়া এলোমেলো হয়ে গেল! কঁকিয়ে উঠলেন তিনি, যেও না গঁগ্যা! তুমি চলে গেলে আমার স্বপ্নটা শেষ হয়ে যাবে। আমি শেষ হয়ে যাব। যেও না প্লিজ!

কিন্তু পল অতিষ্ট। আর কত সহ্য হয়! সবকিছুতে বিরোধ। আঁকার সিস্টেমে তফাৎ তাদের। ভিনসেন্ট চোখের সামনে দেখে আঁকতে চান। আর পল কল্পনায় রঙ মাখিয়ে! তাও নয় সহ্য করা গেল কিন্তু ওর বেহিসেবি জীবন?

ছোটভাই থিও টাকা পাঠায় তাদের। কিন্তু ভিনসেন্ট মদ আর রঙয়েই বইয়ে দেয় সব। বললেও শোনে না। রাগ লাগে পলের! 

আজ ফাইনাল ডিসিশন। ভিনসেন্টের সাথে আর নয়। চেঁচিয়ে বললেন, পাগলের পাগলামি আর সহ্য হচ্ছে না আমার!

ঘর ছাড়লেন গঁগ্যা। পিছে ভিনসেন্ট। কিন্তু লাভ হল না। ফিরে আসতে হল একা। আবার সেই একা। একদম একা। অসহ্য, অসহ্য লাগল সবকিছু।

সারাজীবন ধরেই কি সবাই ছেড়ে যাবে তাকে? আদর- প্রেম- সফলতা- কিছুই পাবে না সে? ভাইয়ের বদলে দুনিয়ায় আসা জীবনটা ব্যর্থতাতেই শেষ হবে? হাটু ভেঙ্গে বসে পড়লেন তিনি। আর তিনি পারছেন না।

কী মনে করে ক্ষুর তুললেন হাতে। কানের লতিতে ধরে চাপ দিলেন। মনের চেয়ে এই শরীরের ব্যথা যেন হালকা লাগল!

 

২.

এরপর কিছুদিন গেছে।

ভিনসেন্ট এখন সাঁ-পল-দ্য-মোসল আশ্রমে। পাথুরে পাহাড় আর সবুজ পাইন-সাইপ্রেসের রাজত্ব। পূবের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ভিনসেন্ট। প্রায় রাতেই থাকেন। ঘুম আসে না তার। দেখাশোনার  দায়িত্বে থাকা জোসেফ এসে পেছনে দাঁড়াল।

: ভিনসেন্ট, ঘুমাচ্ছ না কেন? শরীর তো আরও খারাপ করবে।

ভিনসেন্ট কথা বললেন না। অপলক চোখে বাইরের আঁধার দেখছেন। জোসেফ আবার বলল, এমন করে কী দেখছ? মন খারাপ?

ভিনসেন্ট চুপ। কোনো উত্তর নেই। জোসেফ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। সে যেতেই ভিনসেন্ট বিড়বিড় করলেন, চোখে যা দেখলাম... তা এঁকে ফেলতে হবে। হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। যাবে না। কত কিছু…

 

৩.

মোটা তুলিতে ঘন রঙেদের আনাগোনা। ক্যানভাসে জন্ম নিতে লাগল এক অলৌকিক রাত। মনের মাধুরির চেয়ে অস্থিরতা বেশি সেখানে। আকাশে  নীল-হলুদ ঘূর্ণি। সাইপ্রেস গাছটা এঁকে ফেললেন এক টানে। গাছ নয়, এ যেন তাঁর নিজের অবক্ষয় আর শোকের শিকড়। দূরের আবছা গ্রামটা আঁকতে গিয়ে চলে এলো নেদারল্যান্ডস! তাঁর জন্মভূমি। তাঁর ছোটবেলা। এগারোটা তারা আর এক বিশাল চাঁদ। জ্বলছে যেন আকাশটা।

কাজের শেষে তুলিটা নামিয়ে রাখলেন তিনি।   ক্যানভাসের দিকে তাকালেন। দেখলেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে।

ধুর! কিছুই হলো না!

ডিপ্রেসড মনটা যেন মজা নিলো তার সাথে। ছবিটা এক অর্থহীন ব্যর্থতা মনে হলো।

 

৪.

কিন্তু একদিন তাঁর এই ‘ব্যর্থতা’ ইতিহাস হয়ে গেল। ডিপ্রেসড মনের অস্থিরতা ক্যানভাসের রঙয়ে বিস্ময় হয়ে দাড়ালো। দুঃখ এটাই -আগেই নিভে গেল তার জীবন। মৃত্যুর বহু দশক পর। নিউ ইয়র্কের মিউজিয়ামে সেই ছবিই দেখতে নামল মানুষের ঢল! ‘দ্য স্ট্যারি নাইট’ এর  ক্যানভাসকে তিনি ধিক্কার দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটাই আজ বিশ্বজুড়ে সবার পরিচিত ছবি!

 

১২ পঠিত ... ৯ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top