বর্তমানে দেশের যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে বিরোধীদল হিসেবে মাঠে নামা আর জেনেশুনে খালি পায়ে জ্বলন্ত কয়লার ওপর দিয়ে হাঁটা একই কথা! সরকারি দলের নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত ভালোবাসা এবং হঠাৎ চড়াও হওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে রাজনীতি করতে হলে এখন আর শুধু আদর্শ থাকলে চলে না, আলাদা সারভাইভাল স্কিল লাগে।
তাই বিরোধীদলের নেতারা যেকোনো এলাকায় রাজনৈতিক সফরে যাওয়ার আগে নিজের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ৫টি টিপস অবশ্যই মাথায় রাখবেন:
১. তারেক রহমানের কাছে খোঁজ নিন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে আগে জেনে নিবেন, যে এলাকায় যাচ্ছেন সে এলাকার বিএনপির লোকজন মানসিকভাবে সুস্থ আছে কি না। নাকি তারা হুদাই মারামারি করতে আসবে!
২. সরকারি হেলিকপ্টারের আবদার করুন: সরকারকে সরাসরি বলবেন একটি হেলিকপ্টার বরাদ্দ দিতে। হেলিকপ্টারে করে ওই এলাকায় যাবেন এবং আকাশ থেকেই মাইকে বক্তব্য শেষ করে উড়াল দেবেন। সরকার যেহেতু বিএনপির, নিজেদের দলের আন্তর্জাতিক রেপুটেশন ঠিক রাখার খাতিরে হলেও তারা একটা চপারের ব্যবস্থা নিশ্চয়ই করবে।
৩. লন্ডন মডেল ফলো করুন: তারেক রহমান যেমন টানা কয়েক বছর সুদূর লন্ডনে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাবেশ চালিয়ে গেছেন, আপনারাও ঠিক সেভাবে স্ক্রিনের মাধ্যমে সমাবেশে যোগ দিন। মাঠের ধুলাবালি আর সরকারি দলের আক্রমণ, দুটো থেকেই বাঁচা যাবে।
৪. বুলেটপ্রুফ গ্লাস ও খাঁচার মঞ্চ: যদি নিতান্তই মাঠে নামতেই হয়, তবে জনসভার মঞ্চটি সাধারণ কাপড়ের প্যান্ডেল না বানিয়ে সাউন্ডপ্রুফ ও বুলেটপ্রুফ কাঁচ দিয়ে পুরোপুরি ঘিরে ফেলুন। এতে অন্তত নেতা ভাষণ দেওয়ার সময় হঠাৎ উড়ন্ত চেয়ার, ঢিল বা কর্মীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা থেকে অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারবেন।
৫. হলোগ্রাম বা রোবট ডেলিগেট পাঠান: নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো মানেই হয় না। বাজারে এখন দারুণ সব প্রযুক্তি এসেছে! জনসভায় সশরীরে না গিয়ে নিজের চেহারার একটি থ্রিডি হলোগ্রাম বা এআই রোবট পাঠিয়ে দিন। বক্তব্যও পারফেক্ট হবে, আর মারামারি হলেও বড়জোর রোবটের একটা-দুটো নাট-বল্টু ঢিলে হবে—মানুষের গায়ে এক ফোটা রক্তও ঝরবে না!



পাঠকের মন্তব্য