এতদিন আমরা ভুল করে ভাতকে বাংলাদেশের জাতীয় খাবার বলে জেনে এসেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, জাতীয় খাবারের পদে ভাতের একচ্ছত্র আধিপত্য এখন হুমকির মুখে। কারণ মানুষের শরীরে ঢোকার দৌড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক যেভাবে প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে, তাতে আর কিছুদিন পর জাতীয় খাবারের মর্যাদা ভাতের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজের করে নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ভাত আমরা ইচ্ছা করে খাই, কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক না চাইলেও খেতে হচ্ছে। তাই জনপ্রিয়তায় মাইক্রোপ্লাস্টিক যে ভাতকে ছাড়িয়ে যাবে, সেটার সম্ভাবনাই বেশি।
ভাতের জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় মাইক্রোপ্লাস্টিক ইতোমধ্যেই বেশ এগিয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজতে গিয়ে আমরা ভাবি মুখ পরিষ্কার করছি, অথচ বিভিন্ন টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির খবর বলছে, দিনটাই শুরু হচ্ছে প্লাস্টিক দিয়ে। এরপর বিশুদ্ধ মনে করে বোতলের পানি খেলেও সেখান থেকে হাজার হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শরীরে ঢুকে যাচ্ছে। বাইরে বের হলে ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়ানো মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা তো আছেই। সব মিলিয়ে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, আমরা তিনবেলা ভাত খাই কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে; কিন্তু তিনবেলা প্লাস্টিক খাচ্ছি—এ নিয়ে সন্দেহের তেমন সুযোগ নেই।
পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের শরীরে ভিটামিন, মিনারেল আর প্রোটিনের ঘাটতি থাকলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো ঘাটতি নেই। বরং এমন দিন খুব বেশি দূরে নয়, যখন স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টে ডাক্তার বলবেন, আয়রন একটু কম আছে, তবে প্লাস্টিকের মাত্রা একদম স্বাভাবিক। আয়রন বাড়ানোর জন্য নিয়মিত কচুশাক খান, সব ঠিক হয়ে যাবে।
এমন দুর্দান্ত অগ্রগতির রহস্য জানতে eআরকি টিম যোগাযোগ করে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে। জাতীয় খাবারের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে মাইক্রোপ্লাস্টিক জানায়, আমরা ধীরে ধীরে এগোতে বিশ্বাস করি। সুচ হয়ে ঢুকছি, একদিন ফাল হয়ে বের হব। এখন মানুষ শুধু টুথপেস্ট, পানির বোতল আর বাতাসে আমাদের উপস্থিতির কথা জানে। আরেকটু খোঁজ নিলেই দেখা যাবে, আমরা রান্নাঘর, ডাইনিং টেবিল, এমনকি মানুষের শরীরের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গেছি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা আরও জানায়, আমাদের লক্ষ্য শুধু জাতীয় খাবারের স্বীকৃতি পাওয়া নয়। আমরা মানুষের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যেতে চাই, যেন মানুষ আর প্লাস্টিককে আলাদা করা না যায়। একসময় মানুষ নিজেই আধা-প্লাস্টিক, আধা-মানুষ প্রজাতিতে পরিণত হবে। তখন পরিবেশ দূষণ নিয়ে আর আলাদা করে চিন্তা করতে হবে না। কারণ মানুষই হবে পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
এদিকে আকস্মিক এই প্রতিযোগিতায় চাপে পড়ে ভাতও নাকি নতুন কৌশল খুঁজছে। ভাতের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এতদিন মানুষকে পেট ভরানোই ছিল তার একমাত্র কাজ। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী যখন এমন, যে না খেয়েও মানুষের শরীরে ঢুকে যেতে পারে, তখন প্রতিযোগিতা করা সত্যিই কঠিন। তাই নিজের মান-মর্যাদা ধরে রাখতে ভাত এখন নাকি মানুষের কাছে একটাই আবেদন জানিয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক খাচ্ছ, খাও। তাতে আমার আপত্তি নেই। শুধু আমাকে পুরোপুরি বাদ দিয়ো না। অন্তত সাইড ডিশ হিসেবেই রেখো!


