নৌকা বাইচ নিয়ে হঠাৎ এত রাগ কেন? নদীতে নৌকা নামলেই তৌহিদী জনতার এত আপত্তি কোথায়? বিষয়টা কিন্তু শুধু একটা নৌকা বা একটা খেলা নিয়ে নয়। এর পেছনে আছে গভীর চিন্তা, ঐতিহাসিক স্মৃতি, সাহিত্যিক আতঙ্ক, পরিবেশগত উদ্বেগ এবং আরও কিছু এমন যুক্তি, যা সাধারণ মানুষ এতদিন বুঝতেই পারেনি। তাই তৌহিদী জনতা কেন নৌকা বাইচ বন্ধ করতে চায়, সেই মহৎ কারণগুলো একটু জেনে নেওয়া যাক।
১.
আসলে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনেক কষ্টের। সবাই অংশগ্রহণ করলেও জেতে মাত্র একটা দল! বাকি সবার কষ্টের দাম থাকে না! এইসব কষ্ট বুঝতে পেরেই তৌহিদী জনতা এই খেলা বন্ধের কথা বলে! আপনারা শুধুই ভুল বোঝেন!
২.
তৌহিদী জনতা এই আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগে নৌকাকে মেনে নিতে পারেন না। আমরা যেখানে মেট্রোরেল, হেলিকপ্টার, স্পিডবোট আর বুলেট ট্রেনের যুগে প্রবেশ করেছি, সেখানে নৌকার কোনো ঠাঁই নাই।
৩.
নৌকা মানে আপা, আপা মানে নৌকা। নৌকা দেখলেই আপার কথা মনে পড়ে যায়। এই স্মৃতি তারা ভুলতে পারে না। তাই নৌকাবাইচ বন্ধ করতে চায়!
৪.
নৌকা দেখলেই তৌহিদী জনতার মনে পড়ে সোনার তরী কবিতা। যদি তাদের সব ধান নিয়ে এসব নৌকা চলে যায়, তাদেরকে ঠাঁই না দেয়? এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকাতেই তারা নৌকাবাইচ বন্ধ করতে চায়।
৫.
নৌকা দেখলেই তৌহিদী জনতার মনে পড়ে দাবা খেলার নৌকার কথা। দাবা! সেইটা তো নিষিদ্ধ খেলা। এই খেলার এমন বিজ্ঞাপন ঠেকানোর জন্য যা করার দরকার, তৌহিদী জনতা সব করবে।
৬.
হিন্দু কবি রবীন্দ্রনাথের একটা উপন্যাসের নাম নৌকাডুবি। বাই চান্স নৌকাবাইচের সময় যদি একটা নৌকা ডুবে যায়, সবার তো ওই হিন্দু কবিটার নাম মনে পড়ে যাবে! এই রিস্ক নেওয়ার কী দরকার!
৭.
মাঝিদের এত জোরে জোরে পানিতে বৈঠা চালানো দেখে নদীর নিরপরাধ পানির অণুরা প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভোগে। পানির অণুদের এই অহেতুক ডিস্টার্ব করা ঠেকাতেই তৌহিদী জনতার এই আন্দোলন!
৮.
নৌকাবাইচের সময় বৈঠার আঘাতে নদীর পানির ওপর ঢেউ তৈরি হয়। ফলে চারদিকে অনেক পানি নদীর পাড়ে ছিটকে যায়। নদীর পানি অপচয় হয়। এই অহেতুক খেলা ও পানির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে নদীমাতৃক পরিবেশের ক্ষতি হয়। তাই পরিবেশের কথা চিন্তা করে তৌহিদী জনতা নৌকাবাইচ বয়কট করতে চায়!


