প্রস্তাবিত নতুন সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রসঙ্গে সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন অনলাইনে গালিগালাজ রোধ করতে আইনটি বিশেশ ভূমিকা রাখবে। এতে নানাবিধ ব্লান্ডার করতে থাকা মন্ত্রী এমপিরা খুশি হলেও কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে প্রেমিকা-প্রেমিকা সমাজের। কারণ আইনটি কার্যকর হলে বিচ্ছেদের পর প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকাকে ফেসবুক, মেসেঞ্জার কিংবা কমেন্ট বক্সে উদ্দেশ্য করে দু-চারটা গালি দেওয়া যাবে কি না, এমন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তারা।
প্রেম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেমের যেমন শুরু আছে, তেমনি শেষও আছে। আর শেষ হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই ভালোবাসার জায়গা দখল করে নেয় রাগ, অভিমান এবং ‘তুই আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছিস’ টাইপের দীর্ঘ স্ট্যাটাস। সেই জায়গায় গালিগালাজ অনেকের কাছে হয়ে ওঠে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদ্য-বিচ্ছিন্ন প্রেমিকা বলেন, এক্সকে গালি দিতে না পারলে এই বাকস্বাধীনতা লইয়া আমি কী করিবো? সরকার আইন করবে, করুক। কিন্তু আমাদের বাকস্বাধীনতা রেখে করতে হবে, নাহলে পরে এক্সের গালি আপনাদের দিয়ে জেলে যেতে চাই না। তিনি আরও বলেন, কালকে যদি রাগের মাথায় এক্সকে নিয়ে দুইটা কথা বললাম, আর পরদিন দেখি সাইবার আইনে মামলা, তাহলে তো প্রেম করার আগে আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে।
অন্যদিকে এক প্রেমিক বলেন, ব্রেকআপের পর এক্সকে গালি দেওয়া আমাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে আমরা কষ্টটা বের করব কীভাবে? তবে আইন বিশেষজ্ঞরা এখনো ‘এক্সকে গালি দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার’ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মতামত দেননি। ফলে আপাতত প্রেমিক-প্রেমিকা সমাজ তাকিয়ে আছে আইনটির চূড়ান্ত খসড়ার দিকে।


