জনগণকে স্বাস্থ্যকর লো কার্ব ডায়েট অভ্যাস করাতে চাই, বেকারি পণ্যের দাম বাড়া প্রসঙ্গে সরকার

১৩ পঠিত ... ২৩ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে

দেশে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম। বনরুটি, পাউরুটি, বান থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেকারি খাবারের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। যাদের সকালের নাশতা, দুপুরের টিফিন কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দিনের প্রধান খাবারই ছিল এক টুকরো পাউরুটি বা বনরুটি। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের একাংশ সরকারের সমালোচনা করলেও সরকার অবশ্য বিষয়টিকে দেখছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে।

সরকারের এক মুখপাত্র নিজের মুখ লুকিয়ে বলেন, দেখেন, বেঁচে থাকতে হলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেইনটেইন করাটা অনেক জরুরি। পুরো দুনিয়া এখন প্রসেসড কার্ব এড়িয়ে যতটা সম্ভব লো-কার্ব ডায়েটের দিকে ঝুঁকছে। আমরাও সেই ট্রেন্ডই ফলো করে জনগণকে স্বাস্থ্যকর লো-কার্ব ডায়েটের অভ্যাস করাতে চাই। আর দেখেন, জনগণকে স্বাস্থ্যকর লো-কার্ব ডায়েটের অভ্যাস করাতে গেলে একটু কষ্ট তো করতেই হবে।

তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্যসচেতন মহলে স্বস্তির বাতাস বইলেও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে কিছুটা বিভ্রান্তি। একজন দিনমজুর প্রশ্ন করেন, স্যার, এতদিন পাউরুটি খাইতাম কারণ ভাতের চেয়ে সস্তা ছিল তাই। এখন পাউরুটিও যদি দামি হয়, তাহলে খামুটা কী, হাওয়া?

সরকারি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, জনগণকে কার্বোহাইড্রেট থেকে দূরে রাখতে সরকার বেকারি পণ্যের দাম আরও বাড়ানোর বিষয়টিও ভবিষ্যতে বিবেচনা করতে পারে।

এদিকে লো-কার্ব ডায়েটের নিয়ম অনুযায়ী কার্ব কমিয়ে প্রোটিন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও দেশের বাজারে প্রোটিনের দাম নিয়ে সরকারের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে মুখপাত্র কিছুক্ষণ নীরব থাকেন।

এরপর যখন প্রতিবেদক জানতে চান, বাকি দুনিয়ায় মানুষ লো-কার্ব করতে গিয়ে ডিম, মাংস, মাছ, দুধসহ হাই-প্রোটিন খাবার খাচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষ তো দামের কারণে এগুলো এমনিতেই নিয়মিত খেতে পারে না। এখন কার্বের দামও যদি বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ খাবে কী?

তখন এই প্রশ্নটি শোনার পর সরকারের ওই মুখপাত্র কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তারপর কোনো উত্তর না দিয়ে কলটি কেটে দেন।

ধারণা করা হচ্ছে, এই কল কেটে দেওয়ার ঘটনাটিও সম্ভবত নতুন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ।

১৩ পঠিত ... ২৩ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে

Top