
সরকারের প্রস্তাবিত নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন ‘CSA’ নিয়ে জনগণের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলেও আইনটির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন হীরক রাজা। এক বিশেষ প্ল্যানচেট কলে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আইনের কথা শুনেই উচ্ছ্বসিত হীরক রাজা প্রথমে সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন সরকারকে অভিবাদন জানাই। আপনাদের লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। মানুষকে এত বাকস্বাধীনতা দেওয়া যাবে না। তার মতে, একটি আদর্শ রাজ্যে রাজা কথা বলবে, রাজা সিদ্ধান্ত নেবে, রাজা প্রয়োজন হলে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দেবে, আর জনগণের কাজ হবে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনে যাওয়া।
হীরক রাজা আরও বলেন, রাজা থাকবে রাজার মতো। যখন যা ইচ্ছা বলবে, করবে। মানুষকে শুধু শুনতে হবে আর দেখতে হবে। এর বাইরে কোনো কথা বললেই কাউয়া-মাউয়া ছিঁড়া ফেলা হবে। তবে বর্তমান যুগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে তার বিশেষ আপত্তি রয়েছে। আগে প্রজা একা একা মনে মনে রাগ করত। এখন মোবাইল বের করে পোস্ট করে! আগে একজনের রাগ একজন জানত, এখন একজনের রাগ লাখ মানুষ জানে। এভাবে তো রাজ্য চালানো কঠিন। প্রয়োজন হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিন।
CSA এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হীরক রাজা বলেন, আইন না থাকলে মানুষ প্রশ্ন করবে। প্রশ্ন করলে উত্তর চাইবে। উত্তর চাইলে আবার পাল্টা প্রশ্ন করবে। একসময় দেখা যাবে, রাজাই বসে বসে প্রজার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এটা কি কোনো রাজার কাজ? আমার রাজত্বে একটা সহজ নিয়ম ছিল, রাজা যা বলবে, সেটাই সত্য। আর কেউ যদি সত্য-মিথ্যা নিয়ে প্রশ্ন করে, তাহলে তাকে আগে বোঝানো হতো কেন প্রশ্নটা করা উচিত হয়নি। কীভাবে বোঝাতাম সেটা ভিন্ন আলাপ।
বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে হীরক রাজা বলেন, আপনারা এগিয়ে যান। জনগণকে নিরাপদ রাখুন। বিশেষ করে তাদের অতিরিক্ত স্বাধীনতা থেকে নিরাপদ রাখুন। প্ল্যানচেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে হীরক রাজাকে শেষবার বলতে শোনা যায়, মনে রাখবেন, প্রজার সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে সবকিছু দেখে, সবকিছু শোনে, কিন্তু কিছু বলে না। আপনারা CSAর আমলে একেকজন আর্দশ প্রজা হয়ে উঠুন।

