বিএনপি সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করে মানহানি, অপমান, গুজব ইত্যাদিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত করতে যাচ্ছে। এই আইনটা যদি গত সাত মাস থাকত, তাহলে কী হতো?
গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর জন্য তারেক রহমানের নামে একাধিক মামলা হতো। প্রতিটির সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের জেল। এর মধ্যে আছে ‘অন্তর্বর্তী আমলে হামের টিকা কেনা ও দেওয়া হয়নি’, ‘জিয়াকে ধানের শীষ ভাসানী তুলে দিয়েছেন’, ‘গত ১৭ বছরে গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি’, ‘খাল খনন করলে ভূমিকম্প প্রতিরোধ হবে’ ইত্যাদি নানা ঘটনা।
সালাহউদ্দিনের নামেও একই অপরাধের মামলা হতো: ‘দেশে এসে এস আলমের গাড়িতে না, বরং নিজের গাড়িতে চড়েছেন’ এই মিথ্যা বলা; ‘জ্বালানির অভাবে কারখানা বন্ধ হয়নি’ এই গুজব ছড়ানোর জন্য, একবার এপ্রিলে, একবার আগস্টে। প্রতিটির সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর।
ইন্টেরিমের গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ নিয়ে তিনবার আলাদা মিথ্যা বলায় আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা হতো।
বিএনপির ১০০ দিনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মাহদি আমিনের (ভুয়া পিএইচডি) এবং পরে বিএনপির পেজ থেকে বলা হয়েছে, সরকার মিটার চার্জ বাতিল করেছে। আসলে এখনো বাতিল হয়নি। আবার মে মাসের মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নামিয়েছে বলা হলেও, আসলে তা বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ হয়েছিল। এই দুইটা গুজব ছড়ানোর দায়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিম ও বিএনপি পেজের পুরো অ্যাডমিন প্যানেলের নামে মামলা হতো।
এসব বক্তব্য অনেক সময় সাইবার স্পেসে এসেছে বিএনপির পেজ ও মিডিয়া সেলের মাধ্যমেই। এগুলো জনমনে ‘বিশৃঙ্খলা’ ও ‘উত্তেজনা’ তৈরি করে সাইবার সেফটি বিপদে ফেলেছে। সেজন্য তাদের নামে মামলা হয়ে যেত।
এই আইনটা পাস হলে আরও মজা হবে ফাহাম আবদুস সালামের সঙ্গে। তিনি যেভাবে বাংলাদেশিদের জাতি হিসেবে গালিগালাজ করেন, এই জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে তাঁর নামে মামলা হলে প্রতি ঘটনায় সর্বোচ্চ ২ বছর করে জেল হতে পারে। আবার তাঁর এই গালিগালাজে সারাদেশের হাজারো মানুষ বাংলাদেশি হিসেবে ব্যক্তিগত মানহানি বা অপমান বোধ করে, অথবা তাঁর পোস্টের কমেন্টে বুলিংয়ের শিকার হয়ে মামলা করতে পারবেন। প্রতিটির শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল। চিন্তা করেন, ফাহাম ৮ বিভাগে ঘুরে ঘুরে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার হাজিরা দিচ্ছেন।
বিএনপি, রেডি তো?



পাঠকের মন্তব্য