সম্প্রতি কলম্বিয়ার ৬৭ বছর বয়সী এক নারীর প্রতিবেশীদের খবর বিক্রি করে দুটি বাড়ি কেনার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ঢাকাস্থ PBAS (পাশের বাসা আন্টি সমিতি)-এর সদস্যরা।
মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম,
মোদের বুলেটের ন্যায় দরদাম শিরোনামে একটি ইভেন্ট খুলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তারা জানিয়েছে, আর নয় স্যাক্রিফাইস! নিজেদের প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন এখন না করলে কখন?
গ্রুপের এক সিনিয়র ও চৌকস সদস্য, ধানমন্ডির আন্টি, তার প্রোফাইলে লিখেছেন, আমরা আসলে ক্রিয়েটিভ হলেও প্রোডাক্টিভ না। এতদিন পাড়া-প্রতিবেশীদের কত কত খবর স্বেচ্ছায় বলে বেড়িয়ে কাজ করেছি স্বেচ্ছাসেবক হয়ে! কিন্তু দিনশেষে আমরাও তো একজন সাধারণ নারী। সবাইকে গসিপ বলে আনন্দ দেওয়ার বাইরেও তো আমাদেরও কিছু চাওয়া-পাওয়া থাকে। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
কী সেই সিদ্ধান্ত? জানতে আমরা দ্বারস্থ হয়েছিলাম PBAS-এর সাংগঠনিক পরিকল্পনাবিদ, মোহাম্মদপুরের আন্টির কাছে। আন্টি আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছেন একটি লিস্ট:
বেসিক প্যাকেজ — ৫০ টাকা
প্রিমিয়াম প্যাকেজ — ২০০ টাকা
(বস-কর্মচারী, ননদ-ভাবি)
ভিআইপি প্যাকেজ — ৫০০ টাকা
(শাশুড়ি-বউ, এক্সক্লুসিভ)
সিলভার প্যাকেজ — ১০,০০০ টাকা
(কে কার সঙ্গে পালিয়েছে, সরি, বেড়াতে গেছে)
ডায়মন্ড প্যাকেজ — ২০,০০০ টাকা
(যা তল্লাটে কেউ এখনো জানে না)
যোগাযোগ করুন হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, স্ন্যাপচ্যাটে: ০১৪২০৪২০৪২০! ২৪ ঘণ্টাই খোলা।
PBAS-এর ছায়া সংগঠন GPBAS (গ্রামীণ পাশের বাড়ির আন্টি সমিতি)-এর ফেসবুক গ্রুপও একাত্মতা ঘোষণা করে নিজেদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
তাদের উপজেলা প্রধান, মিয়া বাড়ির আন্টি, জানিয়েছেন, শহরের আন্টিদের মতো টেকাটাই আমাদের বড় বিষয় না। উঠানের সব পাতা, জঙ্গলের লাকড়ি, তলায় পড়ে থাকা সুপারি, এসব আমাদের ডিমান্ড।
তাছাড়া আমরা এই ব্যাপারটা বলেই মজা পাই। বিনিময়ে কে কী দিল, না দিল, সেটা ইম্পর্ট্যান্ট না।
আমাদের অত লোভ নাই!
দেশের গণমাধ্যম লুফে নিয়েছে আন্টিদের ক্যারিয়ার-সচেতনতার ব্যাপারটা। চর্চিত হচ্ছে বিদেশি গণমাধ্যমেও। সেটা আবার ছাপাচ্ছে দেশি গণমাধ্যম।
সেই খবরও আবার ছাপাচ্ছে বিদেশি গণমাধ্যম, সেটাও আবার…


পাঠকের মন্তব্য