সহমত ভাই ইন্ডিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার আগে রহমত ভাইকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সহমত ট্রেডার্সের দায়িত্ব দিয়ে যায়। আগে সহমত ভাইয়ের ছেলে নেপচুন তার পৃথুল শরীরখানা চেয়ারে এলিয়ে যেভাবে বাপের দোকানে বসে থাকত; এখন রহমত ভাইয়ের ছেলে নেপোলিয়ান ঠিক সেভাবেই পৃথুল শরীর চেয়ারে এলিয়ে বসে থাকে একই দোকানে। সাইনবোর্ডে ‘স’ মুছে ‘র’ বসিয়ে নিয়েছে কেবল।
আগে সহমত ভাই যেমন বালুমহালের বালি বিক্রির কিছু টাকা ধানক্ষেতে মশারির ফাঁক দিয়ে রহমত ভাইকে দিয়ে আসত; এখন রহমত ভাইও তেমনি বালি বিক্রির টাকা সহমত ভাইকে হুন্ডি করে দেয়।
ফোনে সহমতের সঙ্গে রহমতের কথা হয়। রহমত অনুরোধ করে, শিবব্রত দাদারে একটু কইয়া দিও; এলাকায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম যেন চালাইয়া যায়। যত টাকা লাগে, আমি দিমনে।
সহমত বলে, শিবব্রতরে আমি কইয়া দিছি। আর একটা কথা, শরিয়তরে দিয়া শীতকালের ওয়াজ মাহফিলও করাইবা। এক কান্ধে শিবব্রত আর আরেক কান্ধে শরিয়তরে নিয়া ঘুরবা। আমি যেইরকম মুজিব শতবর্ষে শিবব্রতরে দিয়া ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পাঠ করাইতাম; আর শরিয়তরে দিয়া দোয়া-মাহফিল করাইতাম; তুমিও তেমনি শিবব্রতরে দিয়া জিয়ারে নিয়া গ্রন্থ পাঠ করাইবা। আর শরিয়তরে দিয়া দোয়া-মাহফিল।
নেপচুনের সঙ্গে ফোনে কথা হয় নেপোলিয়ানের। নেপচুন বুদ্ধি দেয়, চাপাডাঙ্গা ক্রিকেট ক্লাবের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান পোস্ট নিয়া নেও। ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের টেন্ডার-বাণিজ্য করো। ঠিকাদার কাজ করবে; আর তোমার পকেটে পয়সা ঢুকবে। যাও, একবার পাতায়া থেকে ঘুরে আসো। কী করো মিয়া; দল ছয় মাস পাওয়ারে; তোমার এখনো দুবাই-ব্যাংককে চেক-ইন নাই।
—নেপচুন, তুমি কোথায় চুল কাটাইতা? তোমার হেয়ারস্টাইল তো পাংক্ষা।
—আমি ফোন নম্বর ফরোয়ার্ড করতেছি। তুমি যাইবা কেন; ওরা বাড়িতে আইসা চুল-দাড়ি কাইটা দিবো; ম্যানি-পেডি-ফেসিয়াল কইরা দিবে।
—নেপচুন, দুই-একটা মাইয়ার ফোন নম্বর দেও না কেন!
—খুব সাবধান, নেপোলিয়ান। হানি ট্র্যাপে পইড়া যাবা। আমার এই দুঃসময়েও মাইয়ারা আগের ভিডিও লিক করার ভয় দেখায়া টেকাটুকা নিতেছে। তুমি এক কাজ করো, পাতায়া গিয়ে বন্ধুত্ব পাতাও।
সহমত ভাইয়ের স্ত্রী লাইলির সঙ্গে রহমত ভাইয়ের স্ত্রী শিরির মাঝে মধ্যে ফোনালাপ হয়। শিরি জিজ্ঞেস করে, ও ভাবী, আপনি গুলশানে কোন পার্লারে থ্রেডিং করাইতেন? কামিজ সেলাইতেন কোন টেইলারে? ব্যাগ কোন ব্র্যান্ডের হলে ভালো!
শিরি উত্তর দেয়, আমি নম্বর ফরোয়ার্ড করতেছি ভাবী। পার্টি যতদিন পাওয়ারে আছে, গুচ্চি ব্যাগ ছাড়া আর কিছু যেন না দেখি। ডিজাইনার কাপড় পরবেন। যে কয়দিন পাওয়ার; ওই কয়দিনই টেকাটুকার শাওয়ার। আমারে দেখেন না, এখন বশিরহাটে কলপাড়ে লাইফবয় দিয়া চুল ধুইতেছি।
সহমত ভাইয়ের মেয়ে অনন্যা রেজওয়ানার সঙ্গে কথা হয় রহমত ভাইয়ের মেয়ে শারমিনের। রেজওয়ানা উপদেশ দেয়, শারমিন, তোমার নামটা আধুনিক করা দরকার। তুমি রঞ্জনা শারমিন কইরা নাও নামটা। ললিতাদির ফোন নম্বর দিতেছি। সে তোমারে শিখাবে, কিভাবে কথা কইতে হবে, কী গান গাইতে হবে, কোন স্টাইলে পোশাক পরতে হবে, কী খাইতে হবে, কিভাবে হাঁটতে হবে, কিভাবে ফেসবুকে নিজেরে অভিজাত দেখাইতে হবে।
শারমিন জিজ্ঞেস করে, ললিতাদির বাবা তো ডিসি অফিসের ক্লার্ক ছিল; রুমালের মধ্যে চারটা বেগুন কিনে বেঁধে নিয়ে সাইকেলে যাইতো। সে কেমনে অভিজাত হইলো!
—সানন্দা পত্রিকা পড়ে আধুনিক সাজগোজ শিখে সে সুজন ভাইরে হানি ট্র্যাপে ফেলছিলো। সুজন ভাইরে দিয়া এ টু আই প্রজেক্টের দোয়েল পাখি খাওয়াইয়া গুলশানে বাসা ভাড়া নিছিলো। আর ফেসবুকে কালচারের গপ্পো দিয়া ভরাইয়া রাখতো। যদি এলিট হইতে চাও, ললিতাদির কাছে ট্রেনিং নেও। চার সপ্তাহের এলিট ক্র্যাশ কোর্স করো। শিওর শট।
—ফেসবুকে ছবি দিলেই যে লোকজন গালি দেয়, ছয় মাসেই নাকি বাপের দুর্নীতি ক্রিম মেখে মুখ চকচকে হয়ে গেছে!
—এদের একজনকে পুলিশ দিয়ে অ্যারেস্ট করাও; বাকিরা ভয় পাইয়া যাবে। আমারে সাইবার বুলিং করায় আমি মনির ভাইরে রিপোর্ট কইরা দুইজনরে জেলে পাঠাইছিলাম; আর একজনরে গুম করাইছিলাম। সে আর ফেরে নাই। মনে হয় জিয়া স্যার গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তায় বেঁধে পশুর নদীতে ভাসায়ে দিছে।



পাঠকের মন্তব্য