যে দশটি কারণে আপনিও আসলে হাতির মতো

৬৫ পঠিত ... ২ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে

 

এমন যদি হতো, আপনি হাতির মতো... উড়ে উড়ে বেড়ান সারাক্ষণ!

ওহ স্যরি, হাতি তো ওড়ে না! তবে, হাতির কিন্তু চমৎকার ও আশ্চর্য কিছু গুণ আছে। ঠিক আপনার মতো। কী সেই গুণগুলো? দেখে আসা যাক...

১) আপনি ডানহাতি কিংবা বাঁহাতি? হাতিও ঠিক তাই। যদিও হাতির কোনো হাত নাই। তবুও... হাতই তো... মানে হাতি তো... Plos One ও Current Biology সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, হাতির ঘাস ছেঁড়া বা খাবার তোলার ক্ষেত্রে একপাশের দাঁত ও শুঁড় ব্যবহারের বিশেষ প্রবণতা থাকে, যার ফলে সেই পাশের দাঁত দ্রুত ক্ষয় হয়। আপনিও কিন্তু সেইম। ডানহাতি বা বাঁহাতি ভেদে আপনিও ডান বা বামদিকে খান।

২) ঘ্রাণশক্তিতে অবশ্য হাতি আপনার চেয়ে এগিয়ে। ২০১৪ সালের একটি জাপানি গবেষণায় দেখা যায়, হাতির ঘ্রাণগ্রাহী জিনের (Olfactory receptor genes) সংখ্যা প্রায় ২,০০০, যা মানুষের চেয়ে পাঁচ গুণ এবং কুকুরের চেয়েও দ্বিগুণ। এরা ৪-৫ কিলোমিটার দূর থেকেও পানির গন্ধ পায়। জীবনে পানির ঘ্রাণ পেয়েছেন?

৩) জীবনে যত ফুডভ্লগার দেখেছেন, হাতি তার চেয়েও বড় ফুডভ্লগার। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও বিভিন্ন ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, কম হজমক্ষমতার কারণে পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে হাতিকে দিনের ১২-১৬ ঘণ্টা খেয়ে কাটাতে হয়।

৪) সানস্ক্রিন তো জীবনে বহু মেখেছেন। কাদার সানস্ক্রিন মেখেছেন? হাতি কিন্তু মাখে। হাতির ত্বক সংবেদনশীল এবং এতে ঘামগ্রন্থি থাকে না। পরজীবী ও রোদ থেকে বাঁচতে তারা গায়ে কাদা ও ধুলা মাখে, যা শুকিয়ে প্রাকৃতিক থার্মাল স্তর তৈরি করে। হাতিও সানস্ক্রিন মাঝে, আপনিওও মাখেন। কী আছে আর দুনিয়ায়...

৫) হাতির স্মৃতিশক্তি প্রখর। ঠিক আপনার মতো। এক্সকে নিশ্চয়ই ভুলতে পারেন না? হাতির মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোব এবং হিপোক্যাম্পাস অঞ্চল অত্যন্ত উন্নত। খরা বা বিপদের সময় বয়স্ক হাতি বহুবছর আগের রুট বা পানির উৎস নিখুঁতভাবে মনে করতে পারে। বি লাইক হাতি।

৬) নিশ্চয়ই কোনো কাজের সময় বেশি উৎসাহ দেখাতে গিয়ে কথা শুনেছেন—একটু কম লাফা! হাতিরও একই অবস্থা। শারীরিক ওজন ও পায়ের নিচের দিকে কোনো স্প্রিংয়ের মতো পেশি বা নমনীয় হাড় না থাকায় এরা চার পা একসাথে শূন্যে তুলে লাফাতে পারে না।

৭) আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে ওঠেন না? এই ভূতটা কে? সত্যিই আপনি? হাতিও কিন্তু নিজেকে চিনে ফেলে। ২০০৬ সালে PNAS সাময়িকীতে প্রকাশিত ড. জশুয়া প্লটনিকের বিখ্যাত মিরর টেস্টে 'হ্যাপি' নামের একটি হাতি আয়নায় নিজের কপালে দেওয়া দাগ চিহ্নিত করে প্রমাণ করে যে তাদের 'আত্মসচেতনতা' আছে।

৮) প্রিয় জনের জন্য শোক প্রকাশ তো আপনিও করেন। কাছে রেখে দেন প্রিয়জনের কোনো স্মৃতি। হাতিও কিন্তু তাই করে। ইথোলজি ও বন্যপ্রাণী আচরণবিদদের গবেষণায় প্রমাণিত, হাতিরা পরিবারের মৃত সদস্যের হাড় শুঁড় দিয়ে স্পর্শ করে সময় কাটায়, যা প্রাণিজগতে দুর্লভ এক আবেগীয় আচরণ।

৯) এই জিনিসটা একটা অদ্ভুত গুণ। মানে বাসে বা মেট্রো রেলে দাঁড়িয়ে ঘুমানোর কথা বলছি।।বন্য হাতিরা শিকারী প্রাণীর আক্রমণ থেকে দ্রুত বাঁচতে দাঁড়িয়ে ঘুমায় এবং প্রতি ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ২-৩ ঘণ্টা ঘুমায়, যা প্রাণিজগতে অন্যতম কম।

১০) ছোটোবেলায় নিশ্চয়ই আঙুল চুষেছেন। হাতিও ঠিক আপনার মতোই। শুধু আঙুলের বদলে শুঁড় চোষে। কী কিউট না?

১১) এইটা একটা বোনাস। মৌমাছিকে ভয় পান না? হাতিও পায়। 'Elephants and Bees Project'-এর গবেষণায় দেখা গেছে, মৌমাছির গুঞ্জন শুনলে হাতিরা বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। আফ্রিকার অনেক জায়গায় ফসল বাঁচাতে খেতের চারপাশে মৌমাছির বাক্স রাখা হয়।

৬৫ পঠিত ... ২ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে

Top