বিয়ের জন্য পাত্রী চাই, নাকি লাউ-পটল?

১৮ পঠিত ০ ... ৫ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে

১ 

পঁচিশ জন! আমাকে দেখতে এই পর্যন্ত পঁচিশটি পাত্রপক্ষ এসেছে আমাদের বাসায়! বুঝতেই পারছেন, আমি দেখতে সুন্দরী নই! তবে হ্যাঁ, আমার যোগ্যতা আছে! আমার বাবার ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি আছে (অবশ্যই এটাও যোগ্যতা, সবার বাবার কি ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি থাকে?)। আর আমি নিজেও ডি.ইউ থেকে অনার্স-মাস্টার্স! মানে রাজ্যসহ শিক্ষিতা রাজকন্যা! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রাজকন্যা কুৎসিত! আমাদের দেশের বিয়ের বাজারে নেমে পড়া পাত্রদের নিজের যোগ্যতা যা-ই হোক না কেন, পাত্রীর ক্ষেত্রে তাদের একশতে একশ বিশ পাওয়া চাই। কোন একটা গুণ কম হলে চলবে না। নইলে সে কি আর বিয়ের পাত্রীর কাতারে পড়ে?

যাইহোক, যা বলছিলাম, পঁচিশ নম্বর পাত্রের মা, বোন আর পিচ্চি ভাগ্নী এসেছে আমাকে দেখতে। আমার বাসার সবাই তাদের খুব আপ্যায়ন করছে। নানান নাশতায় টেবিল ভরা! আম্মা এটা-সেটা তাদের পাতে তুলে দিয়ে গদগদ ভঙ্গিতে কথা বলছেন। কিছু জানা, কিছু জানানো! জানানোর পরিমানটাই বেশি। ভাবটা এমন; খুব আন্তরিক আড্ডা চলছে! তারাও খুব আন্তরিকতার সাথে খেয়ে যাচ্ছেন!

আমাকে যখন তাদের সামনে নিয়ে যাওয়া হল তখন আমার এক মামা ফ্যামিলিসহ আমেরিকার বাসিন্দা সে গল্প চলছে! এটাও তো একটা যোগ্যতা! মেয়ের এক মামা আমেরিকায় থাকে! শুনতেও কেমন একটা ‘রিচ রিচ' ফিল আসে!

তারা আমাকে খুব সাদরে গ্রহণ করল, যেন বাসা তাদের, আমি অতিথি! পাত্রের বোন আমাকে  বার তিনেক স্ক্যান করলেন- অবশ্য তার কাজই তো সেটা! একবার আদর করার ভঙ্গিতে পেছনে দাঁড়িয়ে মেপে ফেললেন আমার হাইট!

ভাবছেন কীভাবে বুঝতে পারলাম এসব? এর আগেও চব্বিশ বার আমি স্ক্যানড হয়েছি তো! আমার ‘হলেও হতে পারেন শাশুড়ি মায়ের' মুখে মধু ঝরছে! ‘মা কেমন আছ, কি করছ এখন, এটা একটু খেয়ে দেখ মা, খুব টেস্ট হয়েছে, মাশাল্লাহ, মাশাল্লাহ ইত্যাদি ইত্যাদি! 

তাদের ছেলে বেসরকারি মেডিকেলের ডাক্তার! ডাকনাম ‘রতন’! আমি মিষ্টি খেতে চাইনি বলে শুনলাম, রতনবাবু নাকি কিনতে গিয়েই এককেজি মিষ্টি সাবাড় করে দেন! আমি মনে মনে ভাবলাম, রতন-ই বটে!

তারা আমার স্ক্যান শেষ করে আমাদের বাড়ির স্ক্যান শুরু করলেন! যেভাবে সব চেক করলেন তাতে মনে হল বাড়ির ব্লুপ্রিন্টটা পেলে তাদের খুব সুবিধা হত!

কথায় কথায় জানালেন, তাদের বাড়িতে টিনছাদ। আমাকে ঘরে তুলেই ছেলে তাদের ঘরে পাকা ছাদ দেবে! মন মনে ভাবলাম, আমি বোধহয় আলাদিনের চেরাগ! হাতে থাকলেই কপাল ফকফকা!

আমাকে দেখা শেষ, বাড়ি দেখা শেষ, তথ্য জমা করা শেষ- এবার বিদায়ের পালা! আমি দরজায় দাঁড়িয়ে বিদায় নিতে নিতে পাত্রের মা বললেন, একটু ওয়াশরুম ঘুরে যাই। কাজটাও হল, তোমাদের বাথরুমটাও দেখা হল! 

আমি হাসলাম একটুখানি!

এই ফাঁকে ঘটক-মহিলা আমাকে একপাশে ডেকে নিয়ে বললেন, তোমারে এদের পছন্দ হইছে! তুমি তো রান্না-বাড়া পার, তাই না? ছেলেডা খাইতে পছন্দ করে। না পারলে শিখ্যা ফালাও। তোমার কাম বেশি কিছু না। পোলাডারে খাওয়াইয়াই তুমি বশ করা ফালাইতে পারবা!

কনে দেখার টিপিক্যাল বাংলাদেশি দৃশ্য 

আমি চুপ করে রইলাম! 

তারা চলে গেল! রাতে বাবা ফিরে আমায় জিজ্ঞেস করলেন, কেমন মনে হল এদের? এরা হ্যাঁ বললে আমরাও কি বলব?

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম, বাবা, ওরা আমার হাইট মাপল!

বাবার মুখে আমি ব্যথা দেখলাম, মা রে, মানুষ বাজারে লাউ কিনতে গেলেও চিমটি দিয়ে দেখে, আর তারা ছেলের বউ নিবে- দেখেশুনে নেবে না?

আমি চুপ করে গেলাম! কিছু বলেই বা লাভ কি! আমি তাহলে লাউ-পটল!

 

২.

দুদিন পর পাত্রপক্ষ জানালো, তাদের আমাদের সবকিছু পছন্দ হয়েছে। মেয়ে পছন্দ হয়েছে কি না তা জানালেন না। এবার ফাইনাল দেখা হবে। তার ছেলে ফ্যামিলিসহ আসবে, আমারও! আমার বাসায় রাজি হল।

গেলাম আমি আমাকে দেখাতে! পাত্রপক্ষ এলো কিছু দেরিতে। রতনবাবু  আধা টাক, বোধহয় ডাক্তারি পড়তে পড়তে হয়েছে, সেটা ক্যাপে ঢেকেছেন। হাইট মেরেকেটে ৫.৩ হবে। গায়ের রঙ ময়লা, ভুড়ি আছে! কিন্তু কী তার দাপট! গ্রীক মিথলোজির গড-গড ভাব! তার দাপটে তার ফ্যামিলির সবাই তটস্থ!

অর্ডার দেয়া খাবার আসতেই রতনবাবু সবাইকে বলে আমাকে নিয়ে আলাদা হয়ে গেলেন! হি নিডস প্রাইভেসি! 

অন্য টেবিলে বসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, সিভি দেখেছ তুমি আমার?

আমি মাথা নাড়লাম। না। তার মাথায় যেন আগুন লেগে গেল! গলা চড়ে গেল, সারাদিন আমার বাসায় আমার সিভি পেতে লাইন পড়ে যায় আর তুমি আমার সিভি দেখোনি?.... আচ্ছা যাক, এখন আমাকে দেখে তোমার কি মনে হচ্ছে?

আমি নিচুস্বরে বললাম, খুবই ভালো!

তারপর আরও নানা কথা চলল। মানে মিষ্টিখেকো ডাক্তারবাবুই বলে চললেন। আমি শুনে গেলাম। তারা সন্তুষ্ট হয়ে বিদায় নিল!

আমার ফ্যামিলিও যেন খুশি! ফাইনালি আমার একটা হিল্লে হচ্ছে!

 

৩.

তিনদিন পর আমার বাসায় পাত্রপক্ষের ফোন এলো। তারা আমাকে পছন্দ করে বাধিত করেছেন। এখন আমাদের কি অ্যানসার? 

মা এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হ্যাঁ বলে দেই মা? ওদের তোকে পছন্দ হয়েছে!

আমি বললাম, না!

মা অবাক হলেন, কেন রে? ছেলেটাকে তো তোর পছন্দ হয়েছে, তাই না? ডাক্তার ছেলে! সুখে থাকবি মা!

আমি বললাম, আমি লাউ-পটল হয়ে কারো বাসায় রাঁধুনি হিসেবে যাব না!

 

৪.

বিয়ের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা আমাদের সমাজের জন্য একটা ডেইলি ম্যাটার। বিয়ে ব্যাপারটা মিউচুয়াল। একটা ছেলের সাথে একটা মেয়ের বিয়ে হবে। দুটো পরিবারের মধ্যে একটা সামাজিক ও আন্তরিকতার সম্পর্ক হবে। কিন্তু আমাদের সমাজ এখানে ভয়ংকর কিছু পার্শিয়ালটি করে।

ছেলেপক্ষ! এই একটা শব্দই বিয়ের ক্ষেত্রে অপরপক্ষের কলজে কাঁপিয়ে দিতে পারে। আরে, আমরা ছেলেপক্ষ, আমরা যা বলব তাই...  এই ব্যাপারটা ওয়েল-ম্যানেজড এই সমাজে। কিন্তু মেয়েপক্ষ থেকে কেন ছেলেপক্ষ ‘আপগ্রেডেড লেভেল’ হবে?

শঙ্খের মত রঙ, দীঘল কালো চুল, বাঁশির মত নাক, পাতলা কোমর, চিকন গড়ন, র‍্যাম্পমডেলদের মত হাইট; এগুলো হচ্ছে মেয়ের সৌন্দর্যের ক্রাইটেরিয়া! একটা মেয়ে একটু খাটো হল কি মোটা হল তো গেল গেল, সব গেল! এ কি আর ঘরে তোলা যায়? মেয়ে দেখতে এসে তার চুল খুলে দেখা, পা দেখা, হাইট মেপে দেখা, হাঁটিয়ে দেখা, রাধতে পারে কিনা, গান গাইতে পারে কিনা, মিশুক কিনা- ব্লা ব্লা তে মেয়েটাকে এক্স-রে করে রেখে যায় ছেলেপক্ষ!

আবার তার মানে কিন্তু এও না যে ছেলের সেলিব্রেটিদের মত হাইট, গায়ের রং, ওয়াও একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, পার্ফেক্ট ইকোনমিক স্টেবিলিটি; সব আছে! আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই অন এভারেজ দেখতে। সেই হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলে এভারেজ লুকিং। খুব বেশি হাইট না, চুল কম, ভুড়ি আছে এই ফ্যাক্টগুলো কমন বায়োলজিকাল ফ্যাক্ট। সমস্যাটা এখানে না। 

সমস্যা হচ্ছে, যখন এমন একটা ছেলে নিজেই বা তার জন্য তার ফ্যামিলি একটা পার্ফেক্ট মেয়ে খোঁজে! ছেলেরা যা আছে তাই নিয়েই পার্ফেক্ট। সমাজের ভাষ্য এইটা। ‘সোনার চামচ বাঁকাও ভালো' জাতীয় পারফেকশনের গল্প মা-চাচিরা বিবাহযোগ্য মেয়েদের বলেই থাকেন! ছেলেরা বায়োলজিকালি যা নিয়ে আসছে সেটা যদি তার জন্য পার্ফেক্ট হয়, তাহলে মেয়ে বায়োলজিকালি যা নিয়ে আসছে সেটা ইম্পার্ফেক্ট ধরা হবে কেন? 

একজন মেয়ের নানা রুপ- কখনো সে মা, কখনো স্ত্রী, কখনো বোন, কখনো ভাগ্নি-ভাস্তি- আরও আরও সম্পর্ক।  আমাদের সমাজের ছেলেরা এই প্রতিটা সম্পর্ক খুব সম্মানের সাথে ক্যারি করে। কিন্তু পাত্রী দেখতে যাবার সময় এই বেসিক সম্মান, ভদ্রতা এই বোধগুলো যেন বাসার শোকেসে রেখে আসে। তাই পাত্রীপক্ষের বাসায় জুতাসুদ্ধ ঢুকতে তাদের ভদ্রতাবোধে বাধে না। বাধে না মেয়েটাকে যেকোন ধরনের অপমানজনক প্রশ্ন করতে বা তেমন কোনো আচরণ করতে। মেয়েটিকে আর তার ফ্যামিলিকে ছোট করাটাই যেন মেইন উদ্দেশ্য! 

মজাটাও যেন সেখানেই। মেয়েপক্ষের তো হাত-পা বাঁধা। তারা তো কিছুই বলতে পারবে না। তাদের মেয়েকে বিয়ে তো দিতে হবে! ছেলেপক্ষ বলে কথা! 

তারপরও যদি কোন মেয়ের দু্ঃসাহসী প্যারেন্টস বিয়ের বাজারের এই পাত্র নামধারী হলোওয়ালা গ্রীকগডদের এইসব আচরনে মুখের ওপর কিছু টক-মিষ্টি কথা বলে দেন, তাহলেই গেল! বিয়েমহলে মেয়েটার বা তার ফ্যামিলির যে সুনাম রটবে তাতে তার আর বিয়ে নামের ইউনিকর্নে চড়া হবে কিনা খোদা মালুম!

বিয়ে দুজনেরই হবে-তাহলে একজন কেন লাউ-পটল আর অপরজন তার ক্রেতা? একজনের কাছে এক্সপেক্ট করা হবে যে সে নিজের আর ফ্যামিলির সেল্ফ রেস্পেক্ট শিকেয় তুলে আসরে নামবে আর অপরজন তার স্বাভাবিক সভ্যতা-ভদ্রতাও বাড়িতে রেখে আসবে? এগুলোর চেয়েও বড় কথা যত ধরনের নেগেটিভিটির সম্মুখীন শুধু কনে আর কনেপক্ষ-ই হবে, কেন?

বিয়ের আগে কনে দেখার সোশ্যাল আর রেলিজিওনাল রীতি চালু হয়েছিল মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও প্রীতি বাড়ানোর জন্য। যেটা বিয়ের ডিসিশনটাকে এন্সিওর করতে সাহায্য করে। অথচ এখন মেয়েদেখা হয়ে গেছে বাজারে পন্য কেনার মত! পৃথিবীর কোন ধর্মই এটা এলাউ করে না যে একটা নতুন সম্পর্কের শুরু কোন নেগেটিভিটি বা তিক্ততা দিয়ে হোক। অথচ এখন বিয়ের আরেক নামই যেন তিক্ততা! 

তাহলে বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলের বা ছেলেপক্ষের এই সুপেরিওরিটি কোত্থেকে এলো? 

এটা জানতে হলে তাকাতে হয়, আজ থেকে চারহাজার বছর আগের ভারতবর্ষের দিকে! তখন ছিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আর পিতৃতান্ত্রিক পরিবার। ঠিক, আজকের মতই। কিন্তু চিন্তাভাবনার ফারাকটা ছিল অনেক। 

প্রাচীন ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় ধর্মের প্রভাব ছিল অনেকখানি! ধর্মের সামাজিক ব্যবহারও ছিল বিস্তৃত। ধর্মের মাথা ছিলেন পুরুষেরাই। কাজেই, নারী অটোমেটিকালিই ছিল সমাজের সেকেন্ড ক্লাস!

তাছাড়া, সেই প্যাট্রিয়ার্কাল সোসাইটিতে মেয়ে মানেই ছিল দায়। বিয়ের পর মেয়েটিকে চলে যেতে হবে স্বামীর ঘরে, তাই বাপের বাড়িতে সে আমানত। পরের ঘরের জিনিস। স্বামীর বাড়িই তার আসল বাড়ি!

এদিকে আবার ছেলের কাঁধে বাবা-মা, সংসার, সব দায়িত্ব- অটোমেটিকালিই সে সংসারের মাথা, তাই সে-ই ‘দ্য আলটিমেট ওয়ান'! তার এবং তার পরিবারের পরেই হবে নতুন আসা স্ত্রীটির অবস্থান; এটাই স্বাভাবিক ছিল।

আরেকটা পাওয়ারফুল ব্যাপার ছিল যৌতুকপ্রথা। কন্যাপক্ষকে অর্থ ও উপহার সামগ্রী দিয়ে বরপক্ষকে 'সন্তুষ্ট' করতে হতো। এখান থেকেই একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, বরপক্ষ উপহার বা অর্থ 'গ্রহীতা' হিসেবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে উঁচুতে অবস্থান করে, আর কন্যাপক্ষকে মাথা নিচু করেই থাকতে হয়।

তাই সেই সমাজে এই আপগ্রেডেশন চালু ছিল! ছেলেপক্ষ! লেভেলই আলাদা! এরপর শাসনামল বদলালো, সাথে বদলাতে শুরু করল ধর্মও! কিন্তু সামাজিক রীতি হিসেবে ছেলেপক্ষ বিয়ের টেবিলে উঁচুতেই রয়ে গেল। নতুন ধর্মীয় সমাজও এই রীতিকে টেনে নিয়ে চলল- কিছুটা ধর্মের খাতিরে আর বাকি পুরোটাই সামাজিক কারনে!

এরপর সময় কত বদলালো। সভ্যতা এগিয়ে গেল কয়েক হাজার বছর! জেনারেশনের পর জেনারেশন বদলালো! আজ আমরা আছি পোস্ট-মডার্ন সোসাইটিতে। বদলালো না শুধু মানসিকতা! সেই সমাজের সেই পঁচা-গলা রীতি আমরা আজও বয়ে বেড়াচ্ছি আমাদের  রক্তে, মানসিকতায়, কালচারে! আর মেয়েদের করে তুলছি হীনমন্য, অসহায়, কোনঠাসা! তিক্ততায় শুরু হচ্ছে একটা সুন্দর স্বপ্নময় সম্পর্ক; যার জের থেকে যায় হয়তো আজীবন! মানুষ কি কখনও অপমান ভোলে?

১৮ পঠিত ০ ... ৫ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​