এই ঘর, এই সমাজ-সংসারে সকল মৌলিক চাহিদা বলতে আমরা চিরাচরিত পাঁচটি জিনিসকেই জানি।
কিন্তু প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ‘ঘুষ’ নামক মৌলিক চাহিদা কেন যেন হয় টেবিলের নয়তো ফাইলের ‘চিপায়-চাপায়’ রয়ে গেছে। সময় বদলায়, কিন্তু এই পরিস্থিতির উন্নতি হয় না। তাই এমন অবহেলার হাড়ভাঙা, শরীরভাঙা জবাব দিতে মাঠে নেমেছে ভূমি অফিস, সাব রেজিস্ট্রি অফিস সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘কেউ রে ডরাই না’ ওরফে ‘কেরেডনা’।
আজ শনিবার দুপুরে লাঞ্চের আগের স্ন্যাকসের বিরতির সময় আয়োজিত এক লাইভে তারা বলেন, উই আর ফেডাপ! এভাবে আর কত আমাদের যৌক্তিক দাবীকে লুকিয়ে লুকিয়ে নিতে হবে? আর কত অপদস্থ হতে হবে?
সংগঠনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নিজের কথা ভাবি না। কাজ করাতে আসা জনগণের কাছে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমি ঘুষে ডিসকাউন্ট করে দেই। নেগোসিয়েট করার চেষ্টা করি। কিন্তু ফলাফল কী? তারা লুকিয়ে ভিডিও করে, গোপনে পুলিশ খবর দেয়!
এই বয়সে এসব ভালো লাগে বলেন? আমি যে কাউরে ভয় পাই না–সেসব তো বোঝেই না, ওদের প্রতি আমার এক্সট্রা কেয়ারটাও বোঝে না।
সিনিয়রের কথা শুনে কাঁদতে থাকা পাশে আরেক নারী কর্মকর্তা নাক মুছে বলেন, যতই বলেন, এদেশে নারী-পুরুষ সমান নয়। মেয়েদের যে মুখ ফোটে না–একথা কি এদেশের জনগণ বোঝে না? লজ্জায় আমি ঘুষ চাইতে পারি না। তাই বলে কি আমাকে একটু সাধবে না? এদেশে আইনের কার্যকারিতা নেই বলেই সবাই এমন পক্ষপাতিত্ব করে। আমি এর আশু সমাধান চাই।
সদ্য যোগদান করা এক যুবক রেগেমেগে চুল ঝাড়া দিয়ে বলে, কয়টা ঘুষের টাকা পাওয়ার কথা সেই গত মাসে। আজ দেই-কাল দেই বলে আমাকে দিনের পর দিন ঘোরাচ্ছে। আর দেরি করলে বন্ধুদের সাথে ফরেন ট্যুর মিস করে ফেলবো টাকার জন্য। ঘুষ না দেয়াটা কেন বেআইনি নয় সেটা কেউ আমায় বলুক!
এদিকে এমন ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে সরকার নিজেও। এই আইন পাস করার জন্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘুষ নেবে কিনা–তা নিয়েও চলছে গ্রুপে গ্রুপে ‘পোল’ ভোটাভুটি। এ ব্যাপারে দায়িত্বমুক্ত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার শর্তে আমাদের প্রতিনিধিকে বলেছেন, আমরা কাজ করছি এটা নিয়ে। উই হ্যাভ আ প্ল্যান। হ্যাভা রিল্যাক্স! সি ইউ নট ফর মাইন্ড!–বলে জিবে কামড় দিয়ে দ্রুত পায়ে চলে যান।


