জেলে যেতে না চাইলে নতুন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের খসড়া নিয়ে যা যা আপনার অবশ্যই জানা দরকার

পঠিত ... ৪১ মিনিট আগে

বাংলাদেশে সাইবার সুরক্ষা আইনের নতুন সংশোধনী খসড়া নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। খসড়ায় অনলাইনে গালি-গালাজ, অপমান, মানহানি, গুজব, অযাচাইকৃত খবর, মিম শেয়ার এমনকি সরকারের সমালোচনা নিয়েও শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল এবং লাখ টাকা জরিমানার কথাও বলা হয়েছে।

মানে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন, কোনো কিছু শেয়ার করলেন বা একটা কমেন্ট করলেন, তারপর সেটা নিয়েই আইনি ঝামেলা শুরু হয়ে যেতে পারে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এটা এখনো খসড়া। চূড়ান্ত আইনে কী থাকবে, কী বাদ যাবে, সেটা পরে ঠিক হবে।

তবু খসড়ায় কী কী রাখা হয়েছে, সেটা একটু সহজ করে জেনে রাখা যাক।

১. অনলাইনে কাউকে গালি বা অপমান করলে বিপদ

ফেসবুক বা অন্য কোথাও কাউকে গালি, অপমান বা হেয় করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর জেল বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। আর বিষয়টি নারী বা শিশুকে ঘিরে হলে শাস্তি আরও বেশি হতে পারে। সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।

২. মিম শেয়ার করলেও ঝুঁকি আছে

মিমটা আপনি বানাননি, অন্য কেউ বানিয়েছে, আপনি শুধু শেয়ার করেছেন। তাতেও কিন্তু ঝামেলা হতে পারে। কারণ সেটাকে অপরাধে সহায়তা হিসেবে দেখা হতে পারে। এমনকি মিমে হাহা রিঅ্যাকশন দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে, সেটা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

৩. AI দিয়ে ছবি বানিয়ে মজা করলেও বিপদ হতে পারে

কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা অন্য কারও ছবি AI দিয়ে বিকৃত, অশ্লীল বা আপত্তিকর করে বানালে সেটাও অপরাধ হিসেবে ধরা হতে পারে। সমস্যা হলো, ব্যঙ্গ, কার্টুন বা প্যারোডির জন্য আলাদা করে পরিষ্কার কোনো ছাড় রাখা হয়নি বলে সমালোচনা আছে।

৪. খবর যাচাই না করে পোস্ট করলেন, বিপদ হতে পারে

কোনো খবর সত্য কি না নিশ্চিত না হয়েই পোস্ট করে দিলেন। পরে সেটাকে গুজব বা মিথ্যা তথ্য হিসেবে ধরা হলো। তখন সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানার ঝুঁকি থাকতে পারে।

৫. ভুয়া খবরের স্ক্রিনশট দিয়ে সেটাকে মিথ্যা বললেও প্রশ্ন উঠতে পারে

ধরেন, একটা ভুয়া খবর দেখলেন। সেটার স্ক্রিনশট নিয়ে পোস্ট করলেন, সঙ্গে লিখলেন, এটা ভুয়া খবর। উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সতর্ক করা। তারপরও সেটাকে ওই খবর প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ ভুয়া খবর খণ্ডন করতেও সাবধান হতে হবে।

৬. সরকারের সমালোচনা করা পোস্টও ব্লক হতে পারে

সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করে কিছু লিখলেন। সেটাকে যদি রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর বা ক্ষতিকর মনে করা হয়, তাহলে কনটেন্টটি ব্লক বা সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

৭. কোনো প্রতিষ্ঠানের খারাপ রিভিউ দিলেও ঝামেলা হতে পারে

কোনো হাসপাতাল, কোম্পানি বা রেস্টুরেন্টের সেবা খারাপ লাগল। গিয়ে লিখলেন, এরা মানুষ ঠকায় বা এরা প্রতারণা করে। এমন মন্তব্যও মানহানির অভিযোগের আওতায় আসতে পারে। ফলে অনলাইনে রিভিউ দেওয়ার সময়ও সাবধান হতে হবে।

৮. সাংবাদিকরাও পুরোপুরি নিরাপদ নন

কোনো সাংবাদিক সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করলেন, যেটা পরে অযাচাইকৃত বা ভুল তথ্য হিসেবে বিবেচিত হলো। সেখান থেকেও আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। খসড়ায় সাংবাদিকদের জন্য সব ধরনের অভিযোগ থেকে আলাদা ও পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা নেই বলে সমালোচনা রয়েছে।

৯. একই পোস্ট নিয়ে একাধিক জায়গা থেকে মামলা হতে পারে

মামলা করার ক্ষেত্রে কারা অভিযোগ করতে পারবেন, সেই পরিধি আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। ফলে একই পোস্ট নিয়ে একাধিক জায়গা থেকে মামলা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

১০. কিছু ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার হতে পারেন

কিছু অপরাধ আমলযোগ্য হলে পুলিশ আদালতের পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারবে বলে খসড়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে।

১১. পোস্ট ডিলিট করলেই সব শেষ না

ভুল বুঝতে পেরে পোস্ট ডিলিট করলেন, পরে ক্ষমাও চাইলেন। তাতেই কিন্তু মামলা অটোমেটিক শেষ হয়ে যাবে না। মামলা শেষ করতে আদালতের সম্মতির প্রয়োজন হতে পারে।

১২. কিছু অপরাধের বিচার মোবাইল কোর্টেও হতে পারে

সবকিছু যে সাইবার ট্রাইব্যুনালেই যাবে, এমন নয়। কিছু অপরাধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল কোর্টেও বিচারযোগ্য হতে পারে।

১৩. ভুলভাবে ব্লক বা গ্রেপ্তার হলে কর্মকর্তার দায় নিয়েও প্রশ্ন আছে

কোনো কনটেন্ট ভুলভাবে ব্লক করা হলো বা কাউকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হলো। এমন ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কতটা পরিষ্কার, সেটাও প্রশ্নের জায়গায় আছে।

১৪. শাস্তি এত বেশি কেন, সেটাও বড় প্রশ্ন

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে অযাচাইকৃত খবর বা গুজবের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের শাস্তির প্রস্তাব নিয়ে। সমালোচকদের প্রশ্ন, কিছু গুরুতর সাইবার অপরাধের শাস্তির সমান বা তার চেয়েও বেশি শাস্তি শুধু অযাচাইকৃত তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে রাখা কতটা যুক্তিসংগত?

সব মিলিয়ে, খসড়াটা এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। সামনে আলোচনার পর অনেক কিছু বদলাতেও পারে। তবে খসড়ার প্রস্তাবগুলো দেখে একটা বিষয় পরিষ্কার, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট, শেয়ার বা কমেন্ট করার সময় এখন থেকে একটু বেশি সাবধান হওয়াই ভালো।

পঠিত ... ৪১ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top