কোনটা বেশি হুমকি? হাসিনার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নাকি বিএনপির ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন!

৭৫ পঠিত ... ১৪ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে

 

বিএনপি সরকার সাইবার আইন "সংস্কার" করছে। আপনারা, বিশেষ করে জেন-জি, সবাই জেলে যাইতে পারেন পোটেনশিয়ালি! সব মিম-পেজ, সব সিটিজেন অ্যাক্টিভিস্ট, সকল সৈয়্যদ আবদুল্লাহ বা ফাহাম আবদুস-সালাম। সকল সুস্মিত, বা আপনি, বা আপনার মা, যে ফেসবুকে একটা পোস্ট শেয়ার করেছেন।

মিথ্যা বা গুজব হওয়া লাগবে না, আপনি কারও বিষয়ে যদি কোনও মিম বানান (ধরেন ফ্যাকচুয়ালি কারেক্ট মিম হইলেও), বা এমনকি শেয়ার করেন (২৫(১): প্রচার), বা কোনও অনিয়মের সমালোচনা করেন, বা নিতান্তই ঠাট্টা-মশকরা করেন (বা শেয়ার দেন), তাহলেও তা নিচের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ক্রিমিনালাইজড এবং আপনার নামে মামলা করা যাবে, বা ম্যাজিস্ট্রেট ডেকে তাৎক্ষণিক জেলে ভরে দিতে পারবে।

এটি হাসিনার DSA 2018 কালাকানুন (এই শব্দটা শুনলেই যারা ছ্যাৎ করে ওঠেন, তাদের জন্য ইস্টার-এগ হিসেবে দিলাম) থেকেও ব্রড। এর আওতায় প্রতিটি নেতিবাচক রিভিউ, প্রতিটি জবাবদিহিমূলক প্রতিবেদন, এক্সপোজ পোস্ট, সিটিজেন অ্যাক্টিভিজম, কারও দায়বদ্ধতা চেয়ে পোস্ট, প্রতিটি কার্টুন, Meme পড়ে। বুমারদের হাতে দেশ পড়লে যা হয়। "বুমার একটি চেতনা।"

অর্থাৎ, এই বিলের মাধ্যমে হাসিনা আমলের "মানহানি" ফিরছে; যৌন হয়রানির সুরক্ষার সাথে প্যাকেট করে।

বলবৎ আইনের ধারা ২৫ শুধু যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন, সেক্সটর্শন এবং শিশু যৌন নিপীড়ন-সংক্রান্ত উপাদান নিয়ে। ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্টদের সাথে রেকর্ডপরিমাণ ভেটিং করে অধ্যাদেশ করেছিলাম আমরা, সেটাই পার্লামেন্টে আইন হিসেবে পাশ হয় হুবহু। বিএনপির আইসিটি উপদেষ্টা রেহান খসড়ায় সেই একই তালিকার ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছেন "মানহানি বা হেয় প্রতিপন্ন বা বুলিং"। (হাসিনার DSA 2018-এর ২৯ ধারাতে এই "মানহানি" ছিল, যার দ্বারা ফ্রি-স্পিচ সেন্সর করা হতো।)

বিএনপি সরকারের খসড়ায় ধারা ২৫-এর সংশোধনীতে এসেছে,

"মানহানি" (কোনও ব্যক্তির সুনাম, মর্যাদা, বা চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচারিত বা প্রদর্শিত … মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক বা ক্ষতিকর …)

"হেয় প্রতিপন্ন" (কোনও ব্যক্তির মর্যাদা, সম্মান, সুনাম বা সামাজিক অবস্থানকে এমন কোনও কথা, আচরণ, প্রকাশনা, ইঙ্গিত বা কার্যকলাপের মাধ্যমে ক্ষুণ্ন করা, যার ফলে উক্ত ব্যক্তি অন্যের কাছে অপমানিত, তুচ্ছ, নিকৃষ্ট বা অসম্মানজনক হিসেবে প্রতীয়মান হন বা তাঁর সামাজিক মর্যাদা বা সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়)

"বুলিং" (ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ বা কার্য, যা শারীরিক, মৌখিক, সামাজিক, ডিজিটাল বা অন্য কোনও মাধ্যমে সংঘটিত বা প্রকাশিত হইতে পারে, এবং যার ফলে উক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি বা পীড়ার শিকার হয়, ভীতসন্ত্রস্ত হয়, অথবা সামাজিক বর্জন, বিচ্ছিন্নতা বা একাকীত্বের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়)

এসবের জন্য শাস্তি কত জানেন? ১০ বছর পর্যন্ত জেল, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড। আর জামিন? হেহে। জেল দিতে পারবে ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক, কোর্টের অপেক্ষাও করবে না।

কনটেন্ট ব্লকের মামুরবাড়ির আবদার নিয়ে গতকাল পোস্ট দিয়েছি।

বাকস্বাধীনতা তো বাদই। বিএনপি সরাসরি গণবিরোধী অবস্থানে গেছে। ইচ্ছামতো ধরকাপড় করতে পারতেছে না আমাদের রেখে যাওয়া সাইবার আইনে, তাই আইনকে "সংশোধন"-এর নামে পলিউট করছে।

এটা স্যাবোটাজ। ওরা জল মাপছে। কতখানি গণবিরোধী হয়ে পার পাইতে পারে। যেহেতু কমলাদাড়ি গৃহপালিত বিরোধীদল আছে, তাই সাহস বেশি বেড়ে গেছে।

তবে পলিটিকাল লোকজন বাদ। আপনারা দেখেন, যা ভালো মনে করেন।

৭৫ পঠিত ... ১৪ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top