সম্প্রতি এক একান্ত কাল্পনিক সাক্ষাৎকারে মেজবাউর রহমান সুমন জানিয়েছেন, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই তিনি নির্মাণ করেছেন তার বহুল আলোচিত সিনেমা ‘রইদ’। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর জীবনে এমন কী ছিল, যা একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে সিনেমা বানানোর মতো গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করতে পারে?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেজবাউর রহমান সুমন ভাই আমাদের বলেন, দেখেন, আমি সবসময়ই বাস্তব জীবনের বিচিত্র ঘটনাগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার চেষ্টা করি। মানুষের জীবন আসলে একটা সিনেমা। তবে কখনো কখনো সিনেমার চেয়েও মানুষের জীবন বেশি সিনেমাটিক হয়ে যায়। নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ঠিক কীভাবে তার অনুপ্রেরণা হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসিফ নজরুলের ছাগল চুরির বিষয়টি আমাকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ঘটনাটার মধ্যে আমি এমন একটা গভীর মেটাফোর খুঁজে পেয়েছি, যেটার একটি ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন সিনেমায় রাখারও চেষ্টা করেছি।
তবে সিনেমায় সেই মেটাফোরটি ঠিক কোথায় রয়েছে, তা জানতে চাইলে তিনি কিছুটা রহস্যময়ভাবে বলেন, দর্শককে সবকিছু বলে দিলে তো আর সিনেমা দেখার মজা থাকবে না। দর্শক সিনেমা দেখবে, তারপর নিজেরাই বুঝবে, কে ছাগল, কে চোর, আর কে শুধু দূর থেকে দৃশ্যটা দেখতেছে। সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি ‘রইদ’ মূলত বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার একটি প্রতীকী উপস্থাপন?
প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি বলেন, আমি এতটুকুই বলব, সিনেমায় যা দেখবেন, সেটা সিনেমা। আর বাস্তবে যা দেখেন, সেটার জন্য আমারে দায়ী করবেন না। অন্যদিকে সিনেমাপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন, ‘রইদ’-এর পর মেজবাউর রহমান সুমনের পরবর্তী সিনেমার অনুপ্রেরণা হিসেবে এবার কোন সমসাময়িক ঘটনা জায়গা করে নেয়।


