দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন এখন এমনিতেই বেশ অস্থির। বাজারে ঢুকলে পকেট কাঁদে, বাজার থেকে বের হলে মন কাঁদে। এদিকে সরকারও কোনোভাবেই জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। ফলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বাজারে এখন চাল-ডাল কেনার আগে মানুষ নিজের আর্থিক সক্ষমতার দিকে তাকানোর বদলে আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন।
এমন অবস্থায় কোনো উপায় না দেখে সাধারণ মানুষ এবার মারজুক রাসেলের কাছে ‘হাওয়া দেখে বাতাস খাওয়ার’ টেকনিক শিখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এক সাধারণ নাগরিক বলেন, ভাই, আগে মাসের শেষে টাকা থাকত না। এখন মাসের শুরুতেই টাকা থাকে না। তাই মনে হইতেছে খাওয়াদাওয়া বাদ দিয়ে বাতাসের ওপরই নির্ভর করা উচিত। আর এই টেকনিক যেহেতু মারজুক রাসেল ভাই বই লিখে প্রতিষ্ঠিত করছেন, উনিই আমাদের শেষ ভরসা।
আরেকজন জানান, বাজারে এখন সবকিছুর দাম এমন যে, আগে অনলাইনে দাম জিজ্ঞেস করে রেখে দিতাম আর এখন দোকানে গিয়ে দাম জিজ্ঞেস করেই বাসায় ফিরে আসছি। এদিকে মারজুক রাসেলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সাধারণ মানুষের জন্য তিনি কবে থেকে ‘বাতাস খাওয়ার’ প্রশিক্ষণ চালু করছেন এবং এর জন্য কোনো কোর্স ফি লাগবে কি না। প্রশ্ন শেষ করার আগেই ওপাশ থেকে শোনা যায়, ধূর ব্যাটা, এইটা কিছু হইলো ব্যাটা। এরপর প্রতিবেদকের মুখের ওপর ফোন কেটে দেওয়া হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরই ‘বাতাস খাওয়া’ আর সাহিত্যিক রূপক থাকবে না, বরং তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।


