এইটিজের যে ১০ গান শুনে আবার আশিতে ফিরবেন

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে

ফেসবুকে এখন ৮০-এর দশকের AI ছবি বানানোর হিড়িক। নিজের একটা ছবি আপলোড করলেই মুহূর্তে চুল বড় হয়ে যাচ্ছে, গায়ে উঠছে রেট্রো পোশাক, পেছনে ডিস্কো লাইট কিংবা পুরনো স্টুডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড। মনে হচ্ছে টাইম মেশিনে করে সবাই একসঙ্গে ১৯৮০-৮৫ সালে ফিরে গেছে।

তবে ছবি বানিয়ে শুধু ৮০-এর দশকে ফিরে গেলে তো হবে না, সেই সময়ের গানও একটু মনে করা যাক। যে সময়ে Spotify, YouTube কিংবা Instagram ছিল না, ছিল ক্যাসেট আর ভিসিআর। পছন্দের গান শুনতে ক্যাসেটের ফিতা রিওয়াইন্ড করতে হতো, আর প্রিয় গানটা কোথায় আছে, সেটা আন্দাজ করে সেখানে পৌঁছাতে হতো। ব্যাটারি শেষ হওয়ার আগেই প্রিয় গানটা শুনে ফেলারও একটা আলাদা উত্তেজনা ছিল।

সেই সময়ের গান মানেই ছিল আলাদা এক নস্টালজিয়া। বাংলা, হিন্দি কিংবা পাশ্চাত্য গান, ক্যাসেটের ফিতায় তখন জমে থাকত একেকটা সময়ের গল্প। এমন কিছু গান ছিল, যেগুলোর কয়েক সেকেন্ড বাজলেই আজও মনে হয়, পাশের ঘর থেকে কেউ বুঝি পুরোনো ক্যাসেট প্লেয়ারটা চালিয়ে দিয়েছে।

তাই এবার AI দিয়ে ৮০-এর দশকের ছবি নয়, চলুন গানের ভেতর দিয়েই একটু ফিরে যাই সেই সময়ে।

১. মেলা — ফিডব্যাক

বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের অন্যতম পরিচিত গান ‘মেলা’। ফিডব্যাকের এই গানটি শুধু একটা গান নয়, বাংলা ব্যান্ডসংগীতের সেই সময়ের আলাদা এক আবহের স্মৃতি। ক্যাসেটের যুগে গানটি ছিল অনেকেরই পরিচিত সঙ্গী।

 

২. বিট ইট — মাইকেল জ্যাকসন

৮০-এর দশকের পপসংগীতের কথা উঠলে মাইকেল জ্যাকসনকে বাদ দেওয়ার উপায় নেই। ‘বিট ইট’ তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় গান, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আইকনিক নাচ, লাল জ্যাকেট আর সেই সময়ের একেবারে নিজস্ব পপ সংস্কৃতি।

৩. আমার সোনা বন্ধুরে — মুজিব পরদেশী

লোকগানের আবহ আর সহজ-সরল কথার কারণে ‘আমার সোনা বন্ধুরে’ এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। মুজিব পরদেশীর কণ্ঠে গানটি গ্রামবাংলার সেই চেনা আবেগ আর বিরহের গন্ধ নিয়ে হাজির হয়।

৪. এই মেরে হামসফর — কেয়ামত সে কেয়ামত তক

উদিত নারায়ণ ও অলকা ইয়াগনিকের কণ্ঠে ‘এই মেরে হামসফর’ ৮০-এর দশকের শেষভাগের বলিউডের রোমান্টিক গানের অন্যতম পরিচিত উদাহরণ। ১৯৮৮ সালের কেয়ামত সে কেয়ামত তক সিনেমার এই গানটি আমির খান ও জুহি চাওলার প্রেমের গল্পের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।

৫. আই অ্যাম আ ডিস্কো ড্যান্সার — ডিস্কো ড্যান্সার

‘আই অ্যাম আ ডিস্কো ড্যান্সার’ শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঝলমলে আলো, রঙিন পোশাক আর মিঠুন চক্রবর্তীর সেই বিখ্যাত ডিস্কো লুক। ১৯৮২ সালের ডিস্কো ড্যান্সার সিনেমার গানটি ভারতীয় পপ ও ডিস্কো সংস্কৃতির অন্যতম স্মরণীয় গান।

৬. কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই — মান্না দে

এটা অবশ্য ৮০-এর দশকের গান নয়। ১৯৮০-এর আগেই জনপ্রিয় হওয়া এই গানটি কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউস, পুরোনো বন্ধুত্ব আর হারিয়ে যাওয়া আড্ডার এক অমর স্মৃতি। তবু ক্যাসেটের যুগে গানটি এমনভাবে বেঁচে ছিল যে ৮০-এর দশকের নস্টালজিয়া থেকে একে বাদ দেওয়া কঠিন।

৭. চিরদিনই তুমি যে আমার — কিশোর কুমার

কিশোর কুমারের কণ্ঠে এই গানটি বাংলা রোমান্টিক গানের শ্রোতাদের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। প্রেম, বিচ্ছেদ আর পুরোনো দিনের আবেগ একসঙ্গে মিশে আছে গানটির মধ্যে।

৮. মন শুধু মন ছুঁয়েছে — সোলস

বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে সোলসের নাম আলাদা করে বলতেই হয়। ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’ গানটিতে পাওয়া যায় সেই সময়ের বাংলা ব্যান্ডের নরম, মেলোডিয়াস আর তরুণদের মন ছুঁয়ে যাওয়া আবহ।

৯. আবার এলো যে সন্ধ্যা — হ্যাপী আখন্দ

হ্যাপী আখন্দের কণ্ঠের মায়াবী আবহই এই গানটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। সন্ধ্যা, একাকিত্ব আর পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে গানটি এমনভাবে মিশে আছে যে শুনলেই মনে হয়, জানালার বাইরে বুঝি আবার সেই পুরোনো বিকেল নেমে এসেছে।

১০. হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস — অ্যান্ড্রু কিশোর

মানুষের জীবন যে ক্ষণস্থায়ী, সেই কথাটাই সহজ অথচ গভীরভাবে মনে করিয়ে দেয় ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’। অ্যান্ড্রু কিশোরের আবেগী কণ্ঠ গানটিকে দিয়েছে আরও আলাদা এক মাত্রা। পুরোনো দিনের বাংলা গানের তালিকায় তাই এটিও সহজেই জায়গা করে নেয়।

 

ক্যাসেটের ফিতা হয়তো এখন আর ঘোরে না। ভিসিআরও পড়ে আছে অনেকের পুরোনো আলমারিতে। কিন্তু কিছু গান আছে, যেগুলো আসলে কোনো নির্দিষ্ট দশকের নয়। শুনলেই তারা আমাদের ফিরিয়ে নেয় সেই মানুষগুলোর কাছে, সেই ঘরগুলোর কাছে, সেই বিকেলগুলোর কাছে, যখন একটা ক্যাসেটই ছিল পুরো একটা পৃথিবী।

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top