ইগ নোবেল ২০২৬

৩৩ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে

পৃথিবীতে ভালো, সুন্দর সব গবেষণার বাইরেও অদ্ভুত, উদ্ভট, বাজে গবেষণাও হয়। এসব গবেষণা কোথায় যায়? যায় ইগ নোবেলে!

এটা শুনে ভাবছেন, ইগ নোবেল আবার কী?

১৯৯১ সালে মার্কিন বিজ্ঞানবিষয়ক হাস্যরসাত্মক সাময়িকী Annals of Improbable Research-এর সম্পাদক মার্ক আব্রাহামস এই বিশেষ পুরস্কারটি চালু করেন। ইংরেজি ‘Ignoble’ শব্দের অর্থ তুচ্ছ। তার সঙ্গে প্রথাগত ‘Nobel’ নাম মিলিয়ে রসিকতা করেই এর নামকরণ করা হয়েছে ‘ইগ নোবেল’।

মূলত এমন সব অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক আসল বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে উৎসাহিত করতে এটি দেওয়া হয়, যেগুলো মানুষকে প্রথমে হাসায় এবং পরবর্তীতে বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করে।

সম্প্রতি ২০২৬ সালের ইগ নোবেল ঘোষণা করা হয়েছে। চলুন দেখে নিই, এবার কী কী আজব আর উদ্ভট গবেষণা ইগ নোবেল পেল।

অর্থনীতির ইগ নোবেল
ধনী মানুষেরা বেশি খারাপ ব্যবহার করেন!

সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট ড. পল পিফের মাথায় এলো প্রশ্ন, মানুষ যখন অনেক বড়লোক হয়ে যায়, তখন কি তার আচার-ব্যবহার চেঞ্জ হয়ে যায়?

যেই ভাবা, সেই কাজ। নামলেন গবেষণায়। আর পেলেন এক মজার ফলাফল।

দেখা গেল, মানুষ ধনী হলে কাউকে গোনে না! রাস্তায় গাড়ি চালালে সবাইকে ইগনোর করে হুসহাস করে বেরিয়ে যায়! অফিসে মিথ্যা কথাও বলে বেশি। এমনকি বাচ্চাদের জন্য রাখা ক্যান্ডির পরীক্ষায় নিম্নবিত্তদের চেয়ে উচ্চবিত্তরা দ্বিগুণ মিষ্টি খেয়ে ফেলেছিলেন!

ড. পিফের মতে, সম্পদ ও ক্ষমতা বাড়লে মানুষ অন্যের চাহিদার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। কেবল নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে শেখে।

বায়োমেকানিক্সে ইগ নোবেল
সখী, চুমু কারে কয়?

হ্যাঁ, ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের গবেষক দল এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে বের করেছেন।

ড. মাটিল্ডা ব্রিন্ডল ও তার দল চুমুর বিবর্তন নিয়ে গবেষণায় এর একটি বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা দেন। খাদ্য বিনিময় ছাড়া একই প্রজাতিভুক্ত প্রাণীদের মধ্যে ঠোঁট বা মুখের নড়াচড়াসহ বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগই হলো চুমু।

বুঝলেন কিছু? আমিও বুঝি নাই!

এদিকে প্রজননবহির্ভূত যৌন আচরণ নিয়ে কাজ করা ড. ব্রিন্ডল এর আগে হস্তমৈথুনের বিবর্তন নিয়েও গবেষণা করেছেন। তার মতে, লিঙ্গভিত্তিক আলোচনার বাইরেও অন্যান্য যৌন আচরণের গুরুত্ব অপরিসীম।

একাধিক গবেষণার কারণে তিনি ইগ নোবেলের ‘মারি কুরি’ হওয়ার দৌড়ে আছেন।

ফিজিক্সে ইগ নোবেল
ইউরিনালে কোন অ্যাঙ্গেলে টার্গেট করলে নিজেই ভিক্টিম হবেন না?

ইউরিনালে কাজ সারতে গেলে অনেক সময় নিজেই ভিক্টিম হয়ে যেতে হয়। মানে, মূত্র বিসর্জন করতে গিয়ে সেটি নিজের দিকেই ছিটকে আসে।

এই সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করেছেন কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাভি থুরাইরাজাহের ও তার গবেষক দল।

তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রস্রাবের ধারা যদি ৩০ ডিগ্রির কম কোণে ইউরিনালের গায়ে আঘাত করে, তবে তরল ছিটকে আসা প্রায় পুরোটাই বন্ধ হয়ে যায়।

এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা একটি বিশেষ আকারের ইউরিনালও ডিজাইন করেছেন, যেখানে ব্যবহারকারী যেভাবেই লক্ষ্য স্থির করুন না কেন, তরল বাইরে ছিটকে পড়ার সুযোগ থাকবে না।

ল্যাবের প্রধান ড. চাও প্যান এই অর্জনে বেশ গর্বিত!

শান্তিতে ইগ নোবেল
শত্রুর শত্রু হইলো পরম বন্ধু!

আমরা ভাবি, আমাদের সঙ্গে যারা ভালো আচরণ করে, নমনীয়তা দেখায়, আমাদের সঙ্গে চারিত্রিক মিল আছে, তারাই আমাদের প্রাণের দোস্ত।

এটা সত্যি। কিন্তু এর বাইরেও আমাদের এই প্রাণের দোস্তরা অন্যদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, তা-ও কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্কে ভালো প্রভাব ফেলে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জেইমি ক্রেমস দেখিয়েছেন যে, বন্ধুদলে কিছুটা আক্রমণাত্মক মানসিকতার মানুষ থাকারও একটা বড় সুবিধা আছে। স্পেশালি সেই আক্রমণটা যদি আমাদের অপছন্দের মানুষদের দিকে নিশানা করা হয়।

তিনি বলেন, কখনো কখনো আমরা চাই, আমাদের বন্ধুরা যেন আমাদের শত্রুদের সঙ্গে আচরণের সময় আরও কঠিন, কঠোর আর নির্দয় হয়।

অনেক ক্ষেত্রে যখন দেখেছি, মানুষ আমার হয়ে আমার ক্ষোভ বহন করছে, আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, তখন আমি নিজেকে সত্যি ভীষণ ভালোবাসায় সিক্ত মনে করেছি।

বায়োলজিতে ইগ নোবেল
সাপ আসলে কখন কামড়ায়?

সাপের গায়ে পাড়া দিলেই কি সাপ কামড়ায়?

এই চিন্তা থেকেই ব্রাজিলের একদল গবেষক সেফটি বুট পরে বিষধর সাপের গায়ের বিভিন্ন স্থানে হালকাভাবে পা দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে সাপ আত্মরক্ষার্থে ছোবল মারে।

গবেষণায় দেখা যায়, সাপের মাথায় চাপ পড়লেই তারা সবচেয়ে বেশি কামড়ায়।

তবে এই গবেষণাটি Scientific Reports সাময়িকী থেকে পরবর্তীতে বাতিল করা হয়। কারণ, সাপের গায়ে পা দেওয়ার এই পরীক্ষার জন্য গবেষক দলের কোনো ধরনের নৈতিক অনুমোদন ছিল না।

আর আপনারাও এটির ওপর বিশ্বাস করে আবার সাপের গায়ে পা দিয়ে দেখতে যাবেন না! সাপ আর আপনে, দুইজনেই বিপদে পড়বেন!

ইগ নোবেলের বিশেষ বিবেচনা, সরি, বিশেষ সম্মাননা

এগুলো ছাড়াও রসায়নে পুরস্কার জিতেছে এক আন্তর্জাতিক গবেষক দল, যারা আবিষ্কার করেছে, তেলাপোকার দুধে গরুর দুধের চেয়ে তিন গুণ বেশি শক্তি রয়েছে।

তবে তারা এটা খেয়ে দেখেছে কি না, আমরা জানি না!

অন্যদিকে, ঘ্রাণসংক্রান্ত গবেষণায় পুরস্কৃত বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, শিশুদের শরীরের গন্ধ মা-বাবার কাছে দারুণ লাগলেও, কিশোর-কিশোরীদের বেলায় চিত্রটা ঠিক উল্টো!

এ ছাড়া অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্ত অদ্ভুত গবেষণার মধ্যে রয়েছে, মশার হুলকে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের নজেলে রূপান্তর করা, নাক ঝাড়ার বায়ুগতিবিদ্যা বা অ্যারোডাইনামিক্স বের করা এবং মাটির গুণমান মাপতে আন্ডারওয়্যার মাটির নিচে পুঁতে রাখার পরীক্ষা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

৩৩ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top