ইসলামের চিন্তাধারায় আসলেই শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা আন্দোলন পছন্দ করা হতো না।
শাসক জালেম, মানুষরে অত্যাচার করতেছে, টাকা-পয়সা মাইরা দিতেছে, তারপরও অনেক পুরোনো আলেমের কথা ছিল, সরাসরি শাসকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা বা অস্ত্র ধরা ঠিক না। কারণ তারা মনে করত, এতে আরও বড় ফিতনা লাগবে, গৃহযুদ্ধ হবে, মানুষ মরবে, দেশ আরও খারাপ অবস্থায় যাবে।
এই জন্য শাসকের আনুগত্যের ব্যাপারটা ইসলামের রাজনৈতিক চিন্তায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মোটামুটি কথা ছিল, শাসক যতক্ষণ প্রকাশ্যে ইসলাম অস্বীকার না করতেছে বা স্পষ্ট কুফরি কিছু না করতেছে, ততক্ষণ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ঠিক না। শাসক খারাপ হইলেও ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ বিদ্রোহ করলে নাকি ক্ষতি আরও বেশি হবে।
তালিবান এখন এই চিন্তাটাই ধরছে। তারা ক্ষমতায় বসে বলতেছে, বিক্ষোভ করলে ফিতনা হবে, বিশৃঙ্খলা হবে, তাই বিক্ষোভ করা যাবে না। এই যুক্তির একটা ভিত্তি আসলেই ধ্রুপদী সুন্নি ফিকহে আছে।
কিন্তু মজার ব্যাপারটা হচ্ছে, তালিবান যখন নিজেরা ক্ষমতার বাইরে ছিল, তখন তারা ২০ বছর আফগান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তখন সেই যুদ্ধের নাম ছিল জিহাদ। আর এখন নিজেরা ক্ষমতায় বসার পর অন্য কেউ তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলে সেটা হইয়া গেল ফিতনা, বিদ্রোহ আর ইসলামবিরোধী কাজ!
মানে ব্যাপারটা অনেকটা এমন, আমরা সরকারের বিরুদ্ধে লড়লে জিহাদ, আর তোমরা আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ফিতনা।
তালিবান যে যুক্তি দিতেছে, সেই যুক্তির একটা বড় ভিত্তি পুরোনো সুন্নি ফিকহে অবশ্যই আছে। তারা এখন ওই অংশটাকেই নিজেদের ক্ষমতা টিকাইয়া রাখার জন্য ব্যবহার করতেছে।



পাঠকের মন্তব্য