টপার মেয়েগুলো গ্র্যাজুয়েশনের ৫ বছর পর কোথায় হারিয়ে যায়?

১৮ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে

আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দেন। আমার সাথে CSE-তে যারা পড়ত, মোটামুটি ৫০% ছিল মেয়ে। তার মধ্যে টপারদের ম্যাক্সিমামই ছিল মেয়ে।

চাকরিতে ঢোকার পর সেই হিসাবটা আর কোনোদিন মেলাতে পারিনি। টপাররা সব টপাটপ হারিয়ে গেছে।

১০ জনের টিমে অনেক সময় দুইজন মেয়ে খুঁজে পাওয়াও কঠিন।

এইটা কোনো সার্ভের সংখ্যা না। আমার নিজের জীবনে দেখা হিসাব। কিন্তু এই হিসাবটা বাংলাদেশের অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, ব্যাংকার, করপোরেট কর্মী নিজের অফিসের দিকে তাকালেই কমবেশি মিলাতে পারবেন।

আর এইটাই আমার আগের Brain Drain-এর লেখার আরেকটা অংশ।

একজন মেয়ে CSE পড়ে Software Engineer হলো, দুই বছর চাকরি করল, একটা বাচ্চা হলো, তারপর আর ক্যারিয়ারে ফিরতেই পারল না—তাকে আমরা হারানো ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গুনি না। বরং বলি, সংসার বেছে নিয়েছে।

Choice কথাটা এত সস্তা না।

স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই সকাল ৯টায় অফিস। এক বছরের বাচ্চা। সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হতে হবে, ফিরতে সন্ধ্যা ৭টা।

বাচ্চা রাখবেন কোথায়?

ভালো Daycare কয়টা আছে? বাসার কাছে কয়টা? সাধারণ চাকরিজীবীর সাধ্যের মধ্যে কয়টা?

বাচ্চার জ্বর এলে কে তিন দিন অফিস বাদ দেবে? রাতে বাচ্চা দশবার উঠলে পরদিন সকাল ৯টার meeting কে করবে?

দাদা-দাদি বা নানা-নানি পাশে থাকলে একটা ব্যবস্থা হয়।

না থাকলে? শেষ পর্যন্ত দুইটা ক্যারিয়ারের একটা দিয়ে বিল দিতে হয়।

আর বাংলাদেশে সেই বিলটা সাধারণত কার ক্যারিয়ার দিয়ে দেওয়া হয়, এইটা নিয়ে অভিনয় করার কিছু নাই।

আমি বলছি না, সব মেয়েকে চাকরি করতে হবে।

একদমই না।

কেউ সন্তানকে সময় দিতে চাকরি ছাড়তে চাইলে ছাড়বে। কেউ সংসার করতে চাইলে করবে। করাও উচিত। কাজের মানুষের হাতে তো বাচ্চা মানুষ করা যায় না।

কিন্তু যে মেয়েটা কাজ করতে চায়, তার ক্যারিয়ার আর সংসারের মধ্যে একটা বেছে নিতেই হবে কেন?

এইখানেই রাষ্ট্র ব্যর্থ। পুরোপুরি ব্যর্থ।

সরকারের বোঝা উচিত, Daycare, Childcare—এগুলো কোনো বিলাসিতা না। Maternity leave কোনো দয়া না। আর Paternity leave মানে বাবা বাচ্চার ছবি তুলে Facebook-এ দেওয়ার ছুটি না।

এইগুলো একটা দেশের ইনভেস্টমেন্ট বাঁচানোর ব্যবস্থা।

একটা মেয়েকে ডাক্তার বানাতে ৫–৬ বছর লাগে।

ইঞ্জিনিয়ার বানাতে ৪ বছর বিশ্ববিদ্যালয়, তার আগে ১২ বছর স্কুল-কলেজ।

মাস্টার্স পর্যন্ত গেলে জীবনের প্রায় ২০–২৫ বছর শুধু তৈরি হতেই চলে যায়।

পরিবার টাকা দিল, রাষ্ট্র শিক্ষা দিল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক দিল।

তারপর ঠিক যখন মানুষটা কাজ শুরু করল, রাষ্ট্র বলল, এইটা তোমাদের পারিবারিক ব্যাপার। নিজেরা ম্যানেজ করো।

এই জায়গাটাই হাস্যকর।

কারণ বাচ্চা পরিবারে জন্মায় ঠিকই, কিন্তু আগামী দিনের taxpayer, worker, doctor, engineer-ও ওই বাচ্চাই।

Things are changing, অবশ্যই।

নারীদের জন্য আলাদা বাসের মতো উদ্যোগ হয়েছে। আমি এটাকে ভালো উদ্যোগই বলব। অন্তত একটা বাস্তব সমস্যা ধরে সমাধান শুরু হয়েছে।

কিন্তু এই গতিতে সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ দেখি না।

কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট পর্যন্ত মেয়েদের পৌঁছে দিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এখন আসল পরীক্ষা হলো, ৩০–৩৫ বছর বয়সেও কয়জনকে profession-এ রাখতে পারছি।

একটা ফুটবল দলকে ১১ জন খেলোয়াড় দিয়ে মাঠে নামিয়ে সেকেন্ড হাফে যদি ৫ জনকে মাঠ ছাড়তে হয়, তখন ফার্স্ট হাফে ১১ জন ছিল বলে ম্যাচ জেতা যায় না।

আমাদের নারীরা মাঠে নামছে।

সমস্যা হলো, পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো মাঠ আমরা এখনো বানাতে পারিনি।

১৮ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top