পশ্চিমবঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার অফিসের গেট-দেয়ালে গেরুয়া রঙের ছোঁয়া লাগার পর ঘটনাটিকে অনেকে যেখানে রাজনৈতিক প্রতিবাদের নতুন এক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন, সেখানে বিজেপির ছা-শি অর্থাৎ ছাত্র সংগঠন এবিভিপির একাংশ নাকি বিষয়টিকে দেখছে নিছক ‘প্রাথমিক পাঠ’ হিসেবে। তাদের বক্তব্য, শুধু গেট-দেয়ালে রং করলেই চলবে? পত্রিকা অফিসের কাউয়া-মাউয়া এমনভাবে ছিঁড়তে হবে, যাতে পরদিন পত্রিকার কর্মীরা অফিসে ঢোকার আগে কয়েকবার নিজেদের পেশা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। এবিভিপির এক ছাত্রনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা রং করার লেভেল পার করে এখন অ্যাডভান্সড কোর্সে যেতে চাই। বাংলাদেশে এই বিষয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন, তাদের কাছ থেকে হাতে-কলমে না হোক, অন্তত মাইকে-মাইকে শিক্ষা নিতে চাই।
এদিকে বাংলাদেশের ‘মবশিল্প’ নিয়ে ওপার বাংলার আগ্রহের খবর পেয়ে বেশ উৎফুল্ল বাংলাদেশের কিছু কথিত গুপ্ত মহল। তারা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গুপ্ত সাম্রাজ্যের বাংলাদেশি এক প্রতিনিধি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এতদিন মনে হতো আমরা শুধু দেশীয় বাজারেই সফল। এখন বুঝতে পারছি, আমাদের দক্ষতার আন্তর্জাতিক বাজারও আছে। এটা আমাদের জন্য আবেগের মুহূর্ত। জানা গেছে, প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল মব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মিডিয়া রিঅ্যাকশন’ কোর্সে থাকছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কোর্সের প্রথম মডিউল হবে ঘোষণা বিজ্ঞান। কোনো ঘটনা ঘটার আগেই সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে ঘোষণা দেওয়ার কৌশল শেখানো হবে, যাতে মনে হয় ঘটনা ইতোমধ্যেই ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেছে। এরপর দ্বিতীয় মডিউলে শেখানো হবে একসঙ্গে উত্তেজিত হওয়ার তত্ত্ব। কীভাবে একই সময়ে সবাই একই ধরনের পোস্ট, স্লোগান ও ক্ষুব্ধ স্ট্যাটাস দিতে পারে। তৃতীয় মডিউলে শিক্ষার্থীরা শিখবে ক্যামেরা সচেতনতা। কোনো পরিস্থিতিতে ক্যামেরা দেখলে কীভাবে হঠাৎ করে নিজের বক্তব্যকে ‘ঐতিহাসিক বিবৃতি’ বানিয়ে ফেলতে হয়, তার ওপর থাকবে বিশেষ ক্লাস। চতুর্থ মডিউল হবে হ্যাশট্যাগ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে। একটি ঘটনার সঙ্গে অন্তত সাতটি হ্যাশট্যাগ জুড়ে দিয়ে কীভাবে সেটিকে জাতীয় ইস্যুতে উন্নীত করা যায়, সেটিই হবে এই কোর্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর শেষ মডিউলের নাম ‘পরে কী হয়েছিল, সেটা পরে দেখা যাবে’। কোর্স কর্তৃপক্ষের ভাষায়, মব-সংস্কৃতির সবচেয়ে উন্নত স্তর হলো, আগে উত্তেজনা, পরে যুক্তি।
এদিকে এবিভিপির ওই ছাত্রনেতা আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আধুনিক রাজনৈতিক সহিংসতার নতুন মডেল তৈরি করা। অন্যদিকে বাংলাদেশি প্রশিক্ষকরা জানিয়েছেন, কোর্স শেষে কোনো সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। কারণ মবশিল্পে সার্টিফিকেটের চেয়ে ভাইরাল ভিডিওই নাকি আসল স্বীকৃতি।


