টেসলা বন্ধ, বিকল্প? আল্লাহ ভরসা!

১৭ পঠিত ... ১১ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে

১.

শহরের মেইন রোডে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে পারলে, বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা চলতে পারবে না কেন, বলেন তো?

কিংবা একই প্রশ্নকে উল্টাভাবে সাজিয়ে বলা যায় যে, মেইন রোডে বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা বন্ধ করলে, একই নিয়মের আওতায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচলও বন্ধ হয়ে যাবে না কেন, এইটা ভেবে দেখছেন?

টেসলা উপদ্রবের সমাধান নিয়ে নানাদিকে নানা আলাপ চললেও, এই স্পেসিফিক অ্যাঙ্গেলটা থেকে তেমন কাউকে কোথাও আলাপ করতে দেখতেছি না।

অথচ, এই প্রশ্নটা অ্যাড্রেস করলে কিন্তু টেসলা উপদ্রব সমাধানের অনেকগুলা চিন্তার সুতা হাতে চলে আসত!

আসেন, নিজেরা নিজেরা যেটুকু পারি, এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।

শুরুতেই বলে দেই, বেশ লম্বা লেখা। পোলে পোলে পড়া শুরু করেন! হয় চিন্তার খোরাক পাবেন, নাইলে গালি দেওয়ার!

আর পোলে পোলে মানে কী, সেইটাও লেখার মধ্যেই পেয়ে যাবেন!


২.

ঠান্ডা মাথায় একটু চিন্তা করলেই, আই বিলিভ, যে কেউ একমত হবেন যে ঢাকার রাস্তায় এই বিপুল পরিমাণ টেসলার চলাচল কোনো হুট করে তৈরি হয়ে যাওয়া পরিস্থিতি না।

গত অন্তত বিশ বছর ধরে সাধারণ মানুষ শহরের ভেতরের কাছাকাছি বা দূরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলাচল করার জন্য যে পেরেশানি আর হয়রানির মধ্যে পড়ে আছে, এই টেসলাগুলা মার্কেটের সেই গ্যাপটা ফিলআপ করেই কিন্তু ব্যবসা করতেছে।

তিন কোটি মানুষের শহরের রাস্তায় যদি এত এত রিকশার চাহিদা না থাকত, তাহলে লাখ লাখ টেসলাওয়ালা দিনে দেড়-দুই হাজার টাকা ইনকাম করতে পারত না। পাবলিক ইউজ করতেছে দেখেই এরা ব্যবসা করতে পারতেছে। রাইট? কমন সেন্স!

অথচ, এই গ্যাপটা অন্য অনেকভাবেই অ্যাড্রেস করা যেত। তবে আমি এইখানে বাস-ট্রেন-মেট্রো—এইসব বড় বড় আলাপের দিকে যাইতেছি না।

সারাদেশের মানুষ জানে যে, মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত, আর বুয়েটিয়ানদের দৌড় রিকশা পর্যন্ত। কাজেই, আলাপটা তিন চাক্কার রিকশার মধ্যেই ফোকাসড রাখি।

ঢাকার রাস্তায় চলা ব্যাটারিচালিত এইসব টেসলা বা অবৈধ, অনিবন্ধিত ও অনিরাপদ অটোরিকশার বেশিরভাগই কিন্তু তৈরি হইছে পুরোনো চিকন চাকার প্যাডেল রিকশা মডিফাই করে। নতুন বেশ কিছু মডেলের টেসলাও রাস্তায় আছে, যেগুলা ছোট-মোটা চাকার, সাসপেনশন আর ব্রেকিং একটু বেটার। তবে সেগুলার বেশিরভাগও সেফটি রেগুলেশনসের বিবেচনায় খুব একটা জাতের কিছু না।

এবার দরকারি প্রশ্নটা করি—টেসলাই কি ঢাকার রাস্তায় চলা একমাত্র অটোরিকশা?

এই প্রশ্নটাই আমাদেরকে ফেরত নিয়ে যায় একদম শুরুর প্রশ্নটায়।

না, রাস্তায় টেসলা নামের ‘অবৈধ’ অটোরিকশার বিপরীতে সরকার কর্তৃক কাগজপত্র, নিয়মকানুন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় চলা বৈধ অটোরিকশাও আছে। তবে সেগুলা বিদ্যুতে চলে না, চলে গ্যাসে। যেইটাকে আমরা আদর করে ডাকি সিএনজি!

৩.

টেসলা উপদ্রব নিয়ে যেকোনো আলাপে আমাদের অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার যে, সিএনজি নামের এই তিন চাক্কার বাহনটাও কিন্তু জাস্ট এনাদার টাইপ অব অটোরিকশা। এবং অবৈধ টেসলার বিপরীতে এইটা বৈধ অটোরিকশা।

এজন্যই যতবারই অটোরিকশা বন্ধ করার, উচ্ছেদ করার, নিষিদ্ধ করার আলাপ আমার কানে আসে কিংবা চোখে পড়ে, ততবারই গ্রামার-নাজিদের মতো আমার রিকশা-নাজি ব্রেইন একদম খেইপা উঠে!

শালারা, টেসলারে গালি দিবি, দে। কিন্তু জাতপাত নির্বিচারে অটোরিকশারে গাইলাস ক্যান! সিএনজিও তো অটোরিকশাই! তাইলে কি ভাই, সিএনজিও বন্ধ করতে চাস!

এজন্যই শুরুতেই সিএনজি আর টেসলার প্রশ্নটাকে একটু মুখোমুখি দাঁড় করাইলাম।

অবশ্য আরও অনেকগুলা কারণ আছে টেসলার আলাপে সিএনজিরে টেনে আনার। এক এক করে শেয়ার করতে থাকি।

অটোরিকশার বৈধতা, নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ—এইসবের প্রশ্ন যখনই উঠে, তখনই আমাদের মাথায় রাখা উচিত যে, এই প্রশ্নগুলা আমরা কিন্তু সিএনজিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে অলরেডি অ্যাড্রেস করে ফেলছি।

অর্থাৎ, অটোরিকশা ম্যানেজমেন্টে আমাদের সামনে অলরেডি ডেপ্লয় করা একটা প্র্যাকটিক্যাল মডেল আছে।

কাজেই, উই ডোন্ট নিড টু রিইনভেন্ট দ্য হুইল!

স্ক্র্যাচ থেকে টেসলার জন্য পলিসি বানানোর আগে আমাদের দরকার চোখের সামনে থাকা এক্সিস্টিং মডেলটার দিকে তাকানো এবং বোঝার চেষ্টা করা যে, সেখানে অলরেডি কী কী পলিসি নেওয়া হইছিল এবং বৈধতার, নিবন্ধনের, নিয়ন্ত্রণের সকল ধাপ পার করার পরেও হোয়াই দ্যাট ইজন্ট ওয়ার্কিং প্রোপারলি!

আসেন, ভাবি! ভাবিলেই মিলিবে মুক্তির পথ!

এবার তাহলে ভাবেন তো—

  • লাস্ট কবে নির্ধারিত ভাড়ায়, মানে মিটারে, সিএনজি অটোরিকশাতে চড়তে পারছেন?

  • কিংবা দরকারের সময় রাস্তায় বের হইলে কয়টা সিএনজি অটোরিকশা হাতের কাছে পান, বলেন তো?

  • যদি দুই-একটা পানও, সেইটা কি আপনাকে শর্ট ডিস্ট্যান্সে, মানে ২০-৫০-১০০ টাকার দূরত্বে সার্ভিস দেয়?

উত্তর আমার বলার কিছু নাই। উত্তর আমরা সবাই জানি।

সিএনজিওয়ালারা বড় ট্রিপ ছাড়া প্যাসেঞ্জার নেয় না। শর্ট ট্রিপে যেতে রাজি হইলেও ভাড়া নেয় গলাকাটা!

  • সিএনজিওয়ালারা এমন ডাকাত ক্যান?

  • তাদের ভাড়া এত বেশি ক্যান?

  • রাস্তায় তাদের দেখা পাওয়া কঠিন ক্যান?

এবং মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট প্রশ্ন—বৈধতার সকল ধাপ পার করার পরেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা আমাদের চলাচলের সংকট সমাধান করতে পারে নাই কেন?

৪.

প্রশ্নগুলা নতুন না। প্রশ্নগুলার উত্তরও আসলে আমরা কমবেশি সবাই জানি!

সিএনজিওয়ালারা ডাকাত, গলাকাটা ভাড়া নেয়, কারণ সিএনজি মালিকরা তাদের থেকে দিনের শেষে অতিরিক্ত জমা নেয়। যানজটের এই শহরে খরচ পোষাইতে হইলে মিটারের ভাড়ার রেটে খ্যাপ মারার কোনো সুযোগ তাদের থাকে না!

আবার মালিকদের সঙ্গে কথা বললে শুনবেন যে, তারা নিজেরাও নাকি বেশি জমা নিতে একরকম বাধ্যই হয়! কারণ, একেকটা সিএনজি কিনতেই তাদের ১০-১২-১৫, এমনকি ২০ লাখ টাকাও নাকি খরচ পড়ে যায়!

অথচ, একেকটা সিএনজির দাম হওয়ার কথা ছিল সর্বোচ্চ ৪-৫ লাখ টাকা!

এই বাড়তি বিনিয়োগ উঠাইতে মালিকদেরও বাড়তি জমা নেওয়ার বিকল্প নাই।

যেই বাজারে লাখ টাকার টেসলা দিনে জমা দেয় ৫০০, সেই বাজারে দশ লাখের সিএনজির জমা কত হইতে পারে, সেই নামতা আর না পড়ি!

ইউ ক্যান গেস!

তার ওপরে, ভালোবাসা হিসাবে আছে রাস্তায়, সমিতিতে, উপরওয়ালাদের দপ্তরে সমঝোতার ভিত্তিতে দেওয়া নানারকম ‘আর্থিক অনুদান’-এর খরচের প্রেশার।

থাক, সমঝোতার ভিত্তিতে যেসব খরচ হয়, সেগুলা নিয়া আর প্রশ্ন না তুলি। কে চায় ব্যথিত বেদনে হতাশা জাগাইতে!

তারচেয়ে বরং পরের দরকারি প্রশ্নটা উঠাই।

তিন চাক্কার এই সিএনজির দাম তাহলে কেন এত বেশি পড়তেছে?

৫.

এখানেই হচ্ছে মূল আলাপ!

ঢাকায় সেই বিশ-বাইশ বছর আগে বিএনপির গোলগাল যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা রাস্তায় যে পনের-বিশ হাজার সিএনজি নামায়ে গেছিল, গত বিশ-বাইশ বছরে সেটা আর বাড়ে নাই!

একদম বাড়ে নাই বললে ভুল হয়ে যায়। নেট ঘাঁটলে দেখা যায়, সংখ্যাটা কমার্শিয়াল-পারসোনাল বিভিন্ন ক্যাটাগরি মিলায়ে ম্যাক্স তিরিশ হাজারের মতো।

চিন্তা করে দেখেন!

গত বিশ বছরে শহরের জনসংখ্যা কী পরিমাণ বাড়ছে। পুরান ঢাকা থেকে পূর্বাচল হয়ে শহরের নিজের আকার-আকৃতি কতখানি বাড়ছে। জিডিপি, রপ্তানি, উন্নয়ন, ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ কত কিছু হইছে।

অথচ, বৈধ অটোরিকশার পরিমাণ বাড়ে নাই!

ঢাকার রাস্তায় যেখানে নাকি পাঁচ-দশ—কোনো বিচারে বিশ লাখ অবৈধ অটোরিকশা, মানে টেসলা চলা শুরু করে দিছে, সেখানে বৈধ অটোরিকশা বা সিএনজির সংখ্যা আটকায়ে আছে কেবল তিরিশ হাজারেই!

অর্থাৎ, অটোরিকশার বাস্তব চাহিদার পাঁচ পার্সেন্টও বৈধ অটোরিকশা না!

কেন?

কারণ, আমাদের সরকার বাহাদুর বিষম বাহাদুরি করে বৈধ অটোরিকশার নাম্বার ক্যাপ করে দিয়ে রাখছে। লিমিট করে দিছে।

এই অল্প কয়টা সিএনজির বাইরে আপনি চাইলেও, রাস্তায় দানবাকৃতির চাহিদা থাকলেও, আপনি বৈধ সিএনজি অটোরিকশা নামাইতে পারবেন না।

কারণ?

রাস্তার ধারণক্ষমতা কম!

অথচ, আমি চাইলেই একটা প্রাইভেট গাড়ি নামাইতে পারব। এক্কেবারে জাপান থেকে অকশনের গাড়ি পছন্দ করে জাহাজে করে বন্দরে এনে খালাস করে আমার গ্যারেজের দরজায় নিয়ে আসতে পারব, কোনো প্যাড়া ছাড়াই!

কোনো ক্যাপ নাই। রাস্তার ধারণক্ষমতার প্রশ্ন নাই।

টু বি অনেস্ট, এই পর্যায়ে অবশ্যই স্বীকার করে রাখা উচিত যে, এই ইচ্ছামতো প্রাইভেট গাড়ি নামাইতে পারার সুবিধাভোগী একজন হিসাবে আমার কাছে ব্যাপারটা কিন্তু ভালোই লাগে!

নিজ স্বার্থ কে না বুঝে!

কিন্তু আলাপটা যেহেতু হইতেছে পাবলিকের চলাচল নিয়া, তাই আলাপটা সেখানেই নিয়া যাই।

নেট ঘেঁটে দেখলাম, ঢাকার রাস্তায় প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা নাকি অলরেডি তিন থেকে চার লাখ। অথচ, বৈধ অটোরিকশা মাত্র তিরিশ হাজার!

কতগুলা ফ্যামিলি প্রাইভেট গাড়ি অ্যাফোর্ড করতে পারে, বলেন?

টেন পার্সেন্ট? টুয়েন্টি?

এর বেশি হবে?

কোটি কোটি মানুষকে ঘর থেকে বের হয়ে ওই রিকশা, সিএনজি—এগুলা নিয়েই চলতে হয়।

অথচ, সিএনজি আছে দশটা প্রাইভেট গাড়ির বিপরীতে মাত্র একটা!

ফলে রাস্তা দখলের সমস্যাটা দিনদিন আরও কম্পাউন্ডিং হইতেছে। দ্বিগুণ, তিনগুণ, চতুর্গুণ হইতেছে।

যেই পরিবারটা অ্যাভেইলেবল, অ্যাফোর্ডেবল সিএনজি পাইলে সিএনজিতেই যাতায়াত করে খুশি থাকত, সেই শহুরে মধ্যবিত্তও ধারদেনা করে হলেও নিজের একটা গাড়ি কিনতেছে।

কিনতে বাধ্য হইতেছে।

কারণ, আর কোনো উপায় নাই!

প্রতিদিন সিএনজি ভাড়া দিলে মাস শেষে যেই খরচ আসবে, সেই টাকা ব্যাংকে কিস্তি দিলে বছর ঘুরতে ঘুরতে একটা গাড়ির মালিক হয়ে যাওয়া যায়!

৬.

বাস্তবতা হচ্ছে যে, তিন কোটি মানুষ আর দুনিয়ার সবচেয়ে অপরিকল্পিত অলিগলির শহর ঢাকায় তিন চাক্কার ছোট বাহন ছাড়া চলাচলের আর তেমন কোনো বিকল্প উপায় নাই আমাদের হাতে।

আমাদের সরকার বাহাদুর অনেক বাহাদুরি করলেও, তারাও গত পঞ্চান্ন বছরে এক মেট্রোরেল ছাড়া আর বিশেষ কোনো সমাধান দিতে পারে নাই।

সেই মেট্রোও সামনের দিনগুলাতে আর বাড়বে কি না, কে জানে!

কাজেই, মার্কেট তার চাহিদা আর যোগানের বোঝাপড়াটা নিজের মতো করে সামলায়ে নিছে।

লাখখানেক মানুষ গাড়ি কিনছে।

আর বাদবাকি কোটি কোটি মানুষের জন্য সমাধান হিসাবে কখনো হাজির হইছে প্যাডেল রিকশা, হলুদ বেবিট্যাক্সি, সবুজ মিশুক, কখনো হাজির হইছে সিএনজি কিংবা হালের বিপ্লবী টেসলা!

শহর বড় হইছে, মানুষ বাড়ছে, মানুষের ট্রান্সপোর্টের চাহিদা বাড়ছে।

বিপরীতে যোগান বাড়ছে কিসের?

রিকশার, রিকশার এবং রিকশার!

যাক, পরিস্থিতি কী, সেটা সবাইই জানি। তাই সেইটা নিয়ে প্যাঁচাল না পাড়ি। মূল আলাপে থাকি।

আলাপ করতেছিলাম যে, প্রচণ্ড সংকট থাকার পরেও সিএনজির সংখ্যা কেন এত কম?

এটার অনেক রকম ব্যাখ্যা আছে। সিন্ডিকেটের আলাপ আছে।

সেদিকে না গেলেও, সবচেয়ে নির্ভেজাল উত্তর হচ্ছে গ্যাসের অপ্রতুলতা।

তিরিশ হাজার সিএনজির জায়গায় তিন লাখ সিএনজি নামায়ে দিলেই তো হবে না। এগুলার খোরাকি, মানে গ্যাসেরও তো ব্যবস্থা করা লাগবে!

গাড়ি চালাতে গ্যাস দেওয়ার চাইতে কলকারখানা কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহারের রিটার্ন বেশি, এফিশিয়েন্সিও বেশি।

কাজেই, গ্যাসের অভাবের খপ্পরে পড়ে রাস্তায় চাহিদার বিপরীতে সরকার বৈধ অটোরিকশা বা সিএনজির সাপ্লাই বাড়াইতে পারে নাই।

মেনে নিতে হইছে এই বাস্তবতা গেল বহু বছর!

এখানেই আবার প্রথম প্রশ্নে ফেরত যাই।

সরকার নানারকম উপায়-বুদ্ধি বের করার চেষ্টা করতেছে যে, কীভাবে টেসলাকে আটক করবে, কমাবে, অন্তত মেইন রোড থেকে তো সরাবেই।

সরকারের উদ্যোগকে আন্তরিক বলেই ধরে নিচ্ছি।

মেইন রোড থেকে টেসলা সরানো অবশ্যই দরকার, কোনো সন্দেহ নাই। টেসলার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। আইনের আওতায় নিয়ে আসা দরকার।

এন্ড গোল নিয়ে কারও মধ্যেই তেমন দ্বিমত না থাকলেও, দিনশেষে কোনো একটা সমস্যা সমাধান হবে কি না, সেটা লার্জলি ডিপেন্ড করে সমাধানের পদ্ধতির ওপর।

নিয়ত যা-ই হোক, সঠিকভাবে ধাপে ধাপে সমাধানের দিকে না আগায়ে এলোমেলো ধাপে আগাইলে সমস্যা শেষমেশ সমাধান হয় না।

আগেই গিট্টু লেগে যায়!

রাস্তায় একেক গ্রুপ একেক ইন্টারেস্টে আন্দোলন শুরু করে।

শেষমেশ কাজের কাজ আর কিছু হয় না।

৭.

ওভারটন উইন্ডো বলে একটা খুবই সহজ কনসেপ্ট আছে।

আপনি এক স্টেপে ঠিক কতটুকু পলিসি চেঞ্জ ইন্ট্রোডিউস করলে সোসাইটি সেটা অ্যাকসেপ্ট করবে, আর কতখানি চেঞ্জ করলে সোসাইটির জন্য সেটা হজম করা কঠিন হয়ে যাবে, সেইটা নিয়েই এই ওভারটন উইন্ডোর আলাপ।

আপনি যদি এক ধাক্কাতেই অনেক বেশি চেঞ্জ আনতে যান, তাহলে রিস্ক থাকে যে, এর ফলে বাস্তব চেঞ্জ তো আসবেই না, উল্টা হিতে বিপরীত হবে!

সোসাইটিতে যেহেতু অনেক ইন্টারেস্ট গ্রুপ ফাংশনাল, তাই চেঞ্জ ইন্ট্রোডিউস করতে হয় ধীরে ধীরে।

নাহলে কেউ না কেউ বাগড়া দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াই উল্টোপথে নিয়ে চলে যায়।

এক ছোট্ট বন্ধু কয়দিন আগে পূর্ব আফ্রিকা ঘুরে আসছে।

সেখানে নাকি কিলিমাঞ্জারো পর্বত ট্রেকিংয়ে যাওয়া ভিনদেশি পর্যটকদেরকে লোকাল গাইডরা সোয়াহিলি ভাষায় বারবার একটা কথা স্মরণ করায়ে দিতে থাকে—

পোলে পোলে।

পোলে পোলে মানে কী?

ধীরে ধীরে!

পর্বতে উঠতে যদি তাড়াহুড়া করেন, তাহলে দ্রুত দম ফুরায়ে যাবে, শরীর ছেড়ে দিবে, কাহিল হয়ে যাবেন।

শুরুতে হয়তো খানিক পথ দ্রুত উঠে যাবেন ঠিকই, কিন্তু তারপর আর সামিটে পৌঁছানো হবে না!

হাজার বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আফ্রিকানরা তাই উৎসাহী পর্যটকদের কানের কাছে ভাঙা রেডিও বাজাতেই থাকে—

পোলে পোলে! পোলে পোলে!

ধীরে বৎস, ধীরে!

এজন্যই একটু চিন্তা করা দরকার যে, মানুষজন যেমনে টেসলা নিষিদ্ধের দাবি উঠাইতেছে, ব্যাটারি খোলার ঘোষণা দিতেছে, কিংবা সরকার যেই অ্যাপ্রোচে টেসলা উপদ্রব সমাধানে আগাইতেছে, তাতে কি আদৌ সাফল্য আসবে?

নাকি হকার উচ্ছেদের মতো এটাও আরেকটা যত গর্জে, তত বর্ষে না মার্কা উদ্যোগ হবে?

৮.

কাজেই, আমার বিবেচনায় মনে হয়েছে যে, সমাধান প্রক্রিয়ার শুরুর ধাপেই টেসলা উচ্ছেদে কেবল ধরপাকড় শুরু না করে, সরকার চাইলে পুরা সংকটটা একটু ডিফারেন্টলি অ্যাড্রেস করতে পারত!

  • মানুষের অটোরিকশার চাহিদা আছে দেখেই রাস্তায় অটোরিকশা চলতেছে—এই সহজ সত্যটা স্বীকার করে নেওয়া দরকার। কাজেই, মানুষকে অল্টারনেট বাহন দিতে হবে।

  • এবং যেভাবেই হোক, টেসলাওয়ালারা যেহেতু অলরেডি রাস্তার দখল নিয়ে নিয়েছে, তাদেরকেও ইনকামের কোনো না কোনো একটা অল্টারনেট রাস্তা দেখাইতে হবে। নাহলে ভালো সম্ভাবনা আছে যে, এরা রাস্তা আটকাবে, আন্দোলন শুরু করবে এবং আগুনে আলুপোড়া খাবে অন্য কেউ।

এই দুইটা বাস্তবতা মাথায় নিয়েই সরকারের উচিত হবে ধীরে-সুস্থে, ধাপে ধাপে সমাধানের দিকে আগানো।

এইখানে ঘাউড়ামি করে, ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট যুক্তি দেখায়ে কতটা কাজ হবে, সেটা হকার উপদ্রবের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।

একটা রাজধানী শহরের রাস্তা, ফুটপাত দখল করে, যানজট লাগায়ে দিয়ে হকারি করতেছে কেউ—এইটা যতই অবিশ্বাস্য, অযৌক্তিক একটা পরিস্থিতি হোক না কেন, এইটা সলভ করতে গেলে বাস্তবতা মাথায় নিয়েই আগাইতে হয়।

নাইলে সকালে হকার উঠাবে, বিকালে হকার বসবে।

একইভাবে, সকালে টেসলা আটকাবেন তো বিকালে টেসলা ছুটবে।

দুপুরে আটকাবেন তো রাত্রে ছুটবে।

৯.

আবার আলাপ ফেরত নিয়া যাই টেসলা আর সিএনজিতে, মানে অবৈধ এবং বৈধ অটোরিকশায়।

এবং শুরুতেই দেখার চেষ্টা করা দরকার যে, কোনোভাবে এই সংকটটাকে অলরেডি ডেপ্লয় করা ‘বৈধ’ উপায়ে মেটানো যেত কি না।

সারাদেশে হরেক ডিজাইনের অটোরিকশা চললেও, ঢাকার রাস্তায় চলা অটোরিকশাগুলা মূলত দুই রোয়ের।

সামনের রোতে চালক, আর পেছনের রোতে ২/৩ জন প্যাসেঞ্জার।

এবার খেয়াল করে দেখেন, প্রচলিত রিকশা আর সিএনজির তফাৎটা কই?

তফাৎটা মূলত চ্যাসিসে, বডিতে, ডিজাইনে।

রিকশাগুলা মোস্টলি ন্যারো চ্যাসিসের, উঁচু, পাশাপাশি বসতে পারে ২ জন।

সিএনজির চ্যাসিসটা ওয়াইড, বডি একটু নিচু, বসতে পারে পাশাপাশি ৩ জন।

খুব মোটাদাগে বললে, সিএনজির এই পাশ মোটা, বডি খাটো ডিজাইনই টেসলার চাইতে এরে একটু সেফ বানাইছে!

কাজেই, অটোরিকশা সিএনজিতে চলতেছে নাকি বিদ্যুতে—ফোকাসটা সেইদিকে না নিয়া সিম্পলি ডিজাইনের ওপর বেস করে অটোরিকশাকে মেজর দুইটা ক্যাটাগরিতে ফেলে দিতে পারত—

ন্যারো আর ওয়াইড চ্যাসিস।

সঙ্গে ডিজাইন স্পেক ঠিক কইরা দিত।

ব্যাস!

১০.

বুয়েটের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের এক ভদ্রলোককে অত্যন্ত ভালো পাইতাম।

ড. এহসান, থার্মোডাইনামিকস শিখাইছিলেন। অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকপাল।

এই এক অটোরিকশার ডিজাইন স্পেক ঠিক করতে গিয়া এই এহসান স্যারকে নিয়া দেশবাসী যেই ট্রোলটা করল, তারপরে আদৌ কোনো এক্সপার্ট এই অটোরিকশার ভেজালে ঢুকবে কি না, তাও সন্দেহ আছে!

১১.

বলতেছিলাম মেজর দুইটা ক্যাটাগরির কথা।

এবার আমি আবারও প্রথম লাইনে করা প্রশ্নে ফেরত যাই।

এবার আপনি একটু চিন্তা করেন তো—একটা অটোরিকশা, যেটার চ্যাসিস, বডি, ব্রেকিং—সবকিছু বৈধ অটোরিকশা, মানে সিএনজির সঙ্গে মিলে যায়, কিন্তু চলে বিদ্যুতে, সেই অটোরিকশাটাকে ঠিক কোন লজিকে শহরের রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না?

যেই রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশা চলতে পারে, সেখানে কেন একইরকম স্পেকের আরেকটা অটোরিকশা কেবল বিদ্যুতে চলার কারণে নিষিদ্ধ থাকবে?

উত্তর আমার জানা নাই।

আপনাদের জানা থাকলে অবশ্যই জানাবেন।

আমি বুঝতে চাই।

তবে আমার স্বল্পজ্ঞানে বুঝি যে, তিরিশ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি যদি সরকার অন্তত লাখখানেক একই বা বেটার স্পেকের ইলেকট্রিক অটোরিকশা, অলরেডি সিএনজির জন্য যেই আইনকানুন আছে, সেইগুলা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ রাস্তায় নামতে দিত, তাহলে আমার-আপনার চলাচলের জন্য অন্তত একটা অল্টারনেট অপশন তৈরি হতো।

যেইটা একইসঙ্গে সেফ, আবার বৈধ!

বৈধ ইলেকট্রিক অটোরিকশার সাপ্লাই বাড়লে সিএনজির জমা-ভাড়া—এইসবে সিন্ডিকেটের শয়তানিও কমায়ে আনা যেত।

এই শয়তানির প্রধান ড্রাইভিং ফোর্সই হইতেছে বৈধ অটোরিকশার সংখ্যা কমায়ে রাখা।

শহরে এমনিতেই যার যেখানে ইচ্ছা, যতগুলা ইচ্ছা টেসলা নামাইতেছে।

পুলিশ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সেগুলা চলতেছেও।

এই যে স্বেচ্ছাচারিতাটা, এইটার সব মন্দের মধ্যেও একটা উইয়ার্ড ভালো দিক হইতেছে যে, এইটা একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্রিয়েট করছে!

গ্রাম থেকেও কেউ কেউ নিজের টেসলাটা ট্রাকে করে নিয়ে এসে ঢাকার রাস্তায় ঢুকে পড়তে পারতেছে।

অথচ, এখনও কিন্তু কেউ চাইলেই একটা বৈধ অটোরিকশা রাস্তায় নামাইতে পারতেছে না।

কী অদ্ভুত বৈপরীত্য!

অথচ, যদি যে কেউ চাইলে প্রোপার ফিটনেসওয়ালা অটোরিকশা লিগ্যালি রাস্তায় নামাইতে পারত, তাহলে সিন্ডিকেটের দাপট অন্তত কমত।

সিন্ডিকেটের খপ্পর থেকে বের হইতে পারলে, বৈধ অটোরিকশার ভাড়াটাও মানুষের নাগালে ফেরত আসত।

১২.

টপ অব দ্যাট, বাইকে যেমন গাড়ি আর ড্রাইভার একই ব্যক্তি না হইলে পুলিশ আটকায়, বৈধ অটোরিকশার জন্যেও যদি তেমন আইন করা যেত, তাহলে তো আরও বেশি ভালো হতো!

তাহলে যেই মানুষটা দিনরাত কষ্ট করে টাকাটা কামাইতেছে, ইনকামের পুরাটাই সেই অটোরিকশার ড্রাইভারের পকেটেই থাকত।

বেকার সমস্যা, ইনকাম ইনইকুয়ালিটি, ডেডিকেশন—সবকিছুই ইমপ্রুভ করত।

আবার, ট্রাফিক আইন ভাঙলে পুলিশের জন্যেও আটক করা, মামলা দেওয়া সহজ হয়ে যেত।

দরকার লাগলে তাদের জন্য লোনের ব্যবস্থা করে দেওয়া যেত।

প্রতিদিন হাজার টাকা মালিকরে জমা না দিয়া ব্যাংকে কিস্তি দিত।

নিজের পয়সায় কেনা অটো তখন অন্যের গাড়ির পাশে ঘষা লাগাইতে এখনকার চাইতে একটু হইলেও বেশি কষ্ট লাগত!

কারণ, পাবলিকের মাইর তখন খালি গায়ের ওপর দিয়া না, তার নিজের অটোর ওপর দিয়াও যেত!

মেরামতের টাকাটা যখন নিজের পকেট দিয়া বাইর হতো, তখন বুঝত কেমন জ্বালা-জ্বালাটা লাগে অন্যদের!

এইভাবে, শুরুতে একদিকে বৈধ অটোরিকশার সাপ্লাই বাড়াইতে পারলে এবং আরেকদিকে বাড়তি খরচের চাপ কমাইতে পারলে, ভাড়াও সাধারণ পাবলিকের হাতের নাগালে থাকত।

মেইন রোড ধরে চলাচলের মতো যখন পর্যাপ্ত বৈধ অটো, মানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং সিএনজির মতো স্পেকের বিদ্যুৎচালিত অটো অ্যাভেইলেবল হয়ে উঠত, তখন অবৈধ, অনিরাপদ অটোর ওপর সাধারণ মানুষের ডিপেন্ডেন্সিও কমে আসত।

১৩.

প্রথম স্টেপে টেসলার ওপর মানুষের এই ডিপেন্ডেন্সি কমায়ে নিয়ে আসাটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট ফ্যাক্টর।

টেসলার এগেইনস্টে যাবতীয় অ্যাকশনের লেজিটিমেসি ডিপেন্ড করেই এই নির্ভরতা কমানোর ওপর।

আমরা সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপে যত ঝড়ই তুলি না কেন, মাথায় রাখা দরকার যে, আমাদের ঝড় তোলা আর চুপ্পু সাহেবের ঝড় তোলা কাইন্ডা সেইম!

ভাষণে আছে, রাস্তায় নাই।

রাস্তায় যখন সাধারণ মানুষ বের হয়, তখন তারা টেসলাই খোঁজে।

আইনকানুনে যা-ই থাকুক না কেন, এই জিনিসটাই টেসলার সবচেয়ে বড় লেজিটিমেসি হয়ে দাঁড়াইছে।

কম সময়ে, কম খরচে, ইজিলি অ্যাভেইলেবল অন্য কোনো অপশন না দিয়া আপনি যদি টেসলা উচ্ছেদে যান, সেইটা হকার উচ্ছেদের মতোই সপ্তাহখানেক হাইপে থাকবে।

তারপর যেই লাউ, সেই কদুতে পরিণত হবে।

কাজেই, সরকার বাহাদুর যদি প্রথমে পর্যাপ্ত নিরাপদ, বৈধ অটোরিকশা রাস্তায় চলতে দিত, অ্যাট দ্যাট পয়েন্ট সরকার চাইলে এখনের চাইতে অনেক কম ভেজালে হার্ডলাইনে গিয়ে অনিরাপদ, ন্যারো চ্যাসিসের টেসলাওয়ালাদের মেইন রোড থেকে সরায়ে দিতে পারত।

দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য যখন পাবলিকের কাছেও এনাফ অ্যাফোর্ডেবল অল্টারনেট থাকত, তখন টেসলাওয়ালাদেরও রাস্তা বন্ধ করে গ্যাঞ্জাম করার গ্রাউন্ড দুর্বল হয়ে যেত।

ইন ফ্যাক্ট, তাদের নিজেদের ভেতরেরই একটা বড় অংশ বাই দ্যাট টাইম বৈধ অটোতে সুইচ করে ফেলতে পারত।

তারা যে প্রতিটা আন্দোলনের শুরুতেই একটা মুখস্থ ভাষণ দেয় যে, সরকার তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে দেক—তখন সরকারও তাদেরকে দেখাতে পারত যে, তারা চাইলে বৈধ অটোরিকশা নিয়েই শহরে আয়-উপার্জন করতে পারে।

ইভেন চাইলে লোন পাইতে পারে, ড্রাইভার থেকে নিজেরাই মালিক হইতে পারে।

ইভেন, সরকারের নিজের জন্যেও এইটা একটা ভালো পিআর হইতে পারত!

আবার, একবার যখন এনাফ ওয়াইড চ্যাসিস, মানে সিএনজি শেপের বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা বৈধভাবে রাস্তায় ট্যাক্স দিয়ে চলা শুরু করত, তখন ন্যারো চ্যাসিসের অটোওয়ালাদেরকেও রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স আর লাইসেন্সের আওতায় আনার মতো একটা পরিবেশ তৈরি হতো।

ইন ফ্যাক্ট, অ্যাট দ্যাট পয়েন্ট সরকারের উচিত হতো শহর থেকে চিকন চাকার প্যাডেল রিকশা মডিফাই করে বানানো ভয়াবহ ডেঞ্জারাস অটোরিকশাগুলা, যেগুলাকে আমি ডাকি ওজি-টেসলা নামে, সেগুলাকে অল টুগেদার ব্যান কইরা দেওয়া।

একটা সুস্থ শহরের রাস্তায় এমন ভয়ংকর একটা যন্ত্র দৌড়ায়ে বেড়াইতে পারে না!

কোনোভাবেই পারে না!

এবং লাস্ট পয়েন্ট—অতি অবশ্যই, অতি অবশ্যই, অতি অবশ্যই শহর থেকে তখন প্যাডেল রিকশাকেও বিদায় জানাইতে হতো!

এই একবিংশ শতাব্দীতেও কীভাবে একটা রাজধানী শহরে প্যাডেল রিকশার মতো ফেরাউনদের আমলের বাহন চলাচল করতে পারে, এইটা আমার বুঝে আসে না!

প্যাডেল রিকশার জায়গা জাদুঘরে, রাস্তায় না।

১৪.

যাই হোক, আলাপ শেষ।

একটু সামারাইজ করি!

  • মেইন রোডে চলত সিএনজি এবং বিদ্যুৎচালিত সিএনজি শেপের নিরাপদ, বৈধ, রেজিস্ট্রেশন করা, ট্যাক্স দেওয়া, লাইসেন্সধারী ড্রাইভারদের ওয়াইড চ্যাসিসের অটোরিকশা।

  • ফিডার রোডে চলত সরকারের ডিজাইন স্পেক ধরে বানানো মোটা চাকার, ভালো ব্রেকিংয়ের ন্যারো চ্যাসিসের বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা।

  • বিদায় নিত যাবতীয় প্যাডেল এবং বিদ্যুৎচালিত চিকন চাকার অনিরাপদ রিকশা।

১৫.

গাড়িমালিক পাঠকরা খ্যাঁক করে উঠার আগেই বলে রাখা ভালো যে, ভাই, আমি নিজেই ঢাকার রাস্তায় ড্রাইভ করি।

কাজেই, টেসলার টর্চার কী জিনিস, আমার জানা আছে।

তারপরেও চেষ্টা করলাম নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির বাইরে গিয়ে শহরের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ এবং টেসলার ওপর ইকোনমিক্যালি ডিপেন্ডেন্ট লাখ লাখ মানুষের কথা মাথায় রেখে লেখাটা লিখতে।

আরেকটা বিষয়!

পিক-অফপিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা থেকে শুরু করে চার্জিং স্টেশনসহ আরও অনেকগুলা ডাইমেনশন এই লেখায় আসে নাই।

এত লম্বা লেখা লিখতে গিয়ে হাঁপায়ে গেছি!

তাই এই টপিকগুলায় আর যাই নাই।

এক লাইনে বললে, এগুলাও সমাধানযোগ্য বিষয়।

তবে লাস্টে এটুকু ডিসক্লেইমার অবশ্যই দেওয়া উচিত যে, বৈধ অটোরিকশা-নির্ভর এই সমাধানও একটা স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি সমাধান।

মানে, সামনের পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যেই শহরের পরিস্থিতি আরও বদলায়ে যাবে।

সরকার বাহাদুরের উচিত হবে এখন থেকেই সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া।

১৬.

উফ!

লেখাটা লিখতে লিখতেই টেসলা সংকটের হ্যাপি এন্ডিংটা দেখতে কেমন হইতে পারত, সেটা কল্পনায় দেখতেছিলাম!

ঢাকার মেইন রোডে কোনো টেসলাই নাই!

ফিডার রোডেও নাই কোনো চিকন চাক্কার টেসলা!

ইভেন নাই কোনো প্যাডেল রিকশাও!

আহা!

একদম ঢাকা তো নয়, যেন সাক্ষাৎ ক্যালিফোর্নিয়া! 

ব্রডশিট মার্কা লেংথের এই লেখাটা সত্যিই কেউ পুরোটা পড়ে থাকলে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ!

ঢাকার বুকে যতগুলা টেসলা, আমার বুকে আপনার জন্য ততগুলা ভালোবাসা!

১৭ পঠিত ... ১১ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top