অদ্ভুত দ্বীপের সেই মহামূল্যবান উপহার!

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে

আক্কাস এক গরিব ও অতি সাধারণ পেঁয়াজ চাষি। নিজের ছোট্ট এক টুকরো জমিতে কোনোমতে আধপেটা খেয়ে দিন কাটায়। একদিন সে জানতে পারল, পাহাড়ের ওপারে দূরের এক অদ্ভুত দ্বীপের কথা, যেখানকার মানুষ নাকি জীবনে চোখেই দেখেনি পেঁয়াজ কেমন হয়! আক্কাস ভাবল, কপালে যা আছে দেখা যাবে, একটা বড় ঝুঁকি নিয়েই দেখি। সে তার খেতের সব দেশি পেঁয়াজ একটা ভ্যানে বোঝাই করে রওনা দিল। টানা তিন সপ্তাহ ধরে নদী, জঙ্গল আর পাহাড় পেরিয়ে অবশেষে সে পৌঁছাল সেই অজানা দ্বীপে।

সেখানে গিয়ে আক্কাস সোজা সেখানকার দ্বীপপ্রধানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চাইল। দ্বীপপ্রধানের সামনে পেঁয়াজ হাজির করে সে একটি পেঁয়াজ কুচি কুচি করে কেটে সরিষার তেলে মুচমুচে করে ভেজে দিল। সেই বেরেস্তার ঘ্রাণ আর স্বাদে মুগ্ধ হয়ে দ্বীপপ্রধান সঙ্গে সঙ্গে এক এলাহি ভোজের আয়োজন করলেন, যেখানে হরেক রকমের পেঁয়াজের পদ রান্না হলো—পেঁয়াজি, পেঁয়াজ-ভর্তা আর মাংসের ভুনা। দ্বীপের মানুষ তো পেঁয়াজ খেয়ে একেবারে ফিদা! তারা পেঁয়াজকে তাদের প্রধান মসলা হিসেবে ঘোষণা করল আর চারদিকে পেঁয়াজ চাষ শুরু করে দিল। আক্কাসের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে দ্বীপপ্রধান তাকে এক ভ্যানভর্তি সোনার মোহর দিয়ে পরম আদরে বিদায় জানালেন।

আক্কাস এই বিপুল ধন-সম্পত্তি নিয়ে গ্রামে ফিরে এসে চায়ের স্টলে বসে সবাইকে সেই দূরদেশের গল্প শোনাল, যেখানে সোনার চেয়েও পেঁয়াজের দাম বেশি!

আক্কাসের প্রতিবেশী ইদ্রিস ছিল এক গরিব রসুন চাষি। সে মনে মনে ভাবল, ‘ওখানকার মানুষ যদি পেঁয়াজ খেয়ে এত খুশি হয়, তবে আমার রসুন আর শুকনা মরিচের বাগার দিলে তো একেবারে পাগল হয়ে যাবে!’ যেই ভাবা, সেই কাজ—ইদ্রিসও তার সব রসুন ভ্যানে চাপিয়ে তিন সপ্তাহ ধরে নদী-পাহাড় পেরিয়ে হাজির হলো সেই দ্বীপে।

দ্বীপপ্রধানের কাছে গিয়ে সে রসুন দেখাল এবং কয়েক কোয়া রসুন তেলে ভেজে তাকে খাইয়ে দিল। দ্বীপপ্রধান তো রসুনের ঝাঁজালো স্বাদ পেয়ে রীতিমতো তাজ্জব! তিনি তৎক্ষণাৎ রসুন ভোজের হুকুম দিলেন, আর প্রজারাও রসুনের চমৎকার স্বাদে উন্মাদের মতো আনন্দ করতে লাগল। রসুনে তারা এতটাই মুগ্ধ হলো যে, ইদ্রিসকে এক ভ্যান সোনার চেয়েও মহামূল্যবান একটি উপহার দিল—এক ভ্যানভর্তি পেঁয়াজ!

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top