শফিক একটা স্বনামধন্য মিউজিক স্টুডিওতে প্রডিউসার নিয়োগের সার্কুলার দেখতে পেল।
বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল: মিউজিক প্রডিউসার আবশ্যক! হারমোনিয়াম বা পিয়ানো বাজাতে জানতে হবে, মিনিটে ৪০টা বাংলা শব্দ টাইপ করার দক্ষতা থাকতে হবে এবং অবশ্যই দুইটা ভাষা জানা থাকতে হবে। আমরা সমান সুযোগে বিশ্বাসী প্রতিষ্ঠান!
শফিক দেরি না করে ইন্টারভিউ দিতে চলে গেল।
এইচআর ম্যানেজার শফিকের সিভি দেখে বেশ প্রশংসা করলেন। তবে ইতস্তত করে বললেন, আপনার সিভি তো দারুণ শফিক সাহেব! কিন্তু সমস্যা হলো, আমি আপনাকে চাকরিটা দেব, নাকি অন্য ক্যান্ডিডেটকে দেব, তা নিয়ে মহা বিপদে আছি...
শফিক অবাক হয়ে বলল, অন্য ক্যান্ডিডেট আবার কে স্যার?
ম্যানেজার পাশের চেয়ারে চুপচাপ বসে থাকা এক ভোটকা হুলো বিড়ালকে দেখিয়ে বললেন, ওই যে ও…
শফিক হেসেই উড়িয়ে দিল, কী যে বলেন স্যার। সবাই জানে বিড়াল কখনো হারমোনিয়াম বাজাতে পারে না!
কথাটা শেষ হতে না হতেই বিড়ালটি লাফ দিয়ে গিয়ে হারমোনিয়ামের বেলো চেপে চার পায়ে দারুণ এক রবীন্দ্রসংগীতের সুর বাজিয়ে তাকে এক মুহুর্তেই ভুল প্রমাণ করে দিল!
বাজানো শেষে বিড়ালটি গলা ছেড়ে ডেকে উঠল, মিউ!
শফিক খানিকটা ধাক্কা খেয়ে বলল, ঠিক আছে, মানলাম! কিন্তু একটা বিড়াল তো আর কম্পিউটারে মিনিটে ৪০ শব্দ টাইপ করতে পারবে না!
বিড়ালটি আবারও তাকে ভুল প্রমাণ করল। সে এক লাফে টেবিল জুড়ে বসে কম্পিউটারে হাত চালিয়ে মিনিটে ২০০ শব্দ টাইপ করে ঢাকার ট্রাফিক জ্যামের ওপর এক দারুণ আর্টিকেল প্রিন্ট করে বের করে আনল!
কাজ শেষে বিড়ালটি আবার ডাকল, মিউ!
আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন স্যার?! শফিক এবার রেগে গেল। একটা জলজ্যান্ত মানুষ রেখে আপনি বিড়ালকে চাকরি দেবেন? আমার তো কাজের দরকার, আমি মানুষ! আর ও তো স্রেফ একটা বিড়াল!
বিড়ালটি অমনি নিয়োগের সেই বিজ্ঞপ্তিটা টেনে এনে আমরা সমান সুযোগে বিশ্বাসী প্রতিষ্ঠান লেখার ওপর থাবা দিয়ে ইশারা করল।
তারপর বলল, মিউ!
শফিক এবার রাগে লাল হয়ে বলল, শুনুন স্যার! এসব যতই অবিশ্বাস্য হোক, আমি নিশ্চিত এই বিড়াল অন্তত দুইটা ভাষায় কথা বলতে পারবে না! ও আর কোন ভাষা জানে?!
বিড়ালটি এবার সোজা হয়ে বসে গম্ভীর গলায় ডেকে উঠল, ঘেউ ঘেউ!



পাঠকের মন্তব্য